প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন
সরকারি খরচের চেয়ে ৩ গুণ বেশি টাকা নেয়ার অভিযোগ; বিব্রত বিআরটিএ

ইসমাঈল ইমু : থ্রি হুইলার সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশনের জন্য সরকারি খরচের চেয়ে তিনগুনের বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উত্তরা মটরসের ডিলার মগবাজারস্থ বাংলাদেশ মোটরস বেশকিছুদিন ধরে এ কান্ড চালিয়ে আসছে। আর এ কাজে তাদের সহায়তার অভিযোগে বিআরটিএ’র দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করেছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ মটরস কর্তৃপক্ষ দায়ভার চাপিয়ে দিচ্ছে উত্তরা মোটরসের দিকে।

জানা গেছে, সরকারি রেজিস্ট্রেশন ফি ১৩ হাজার ২শ’ টাকা, ট্রেজারি চালান দেড় হাজার, রেভিনিউ স্ট্যাম্প ৪ শ’ এবং বীমার জন্য খরচ ৫শ’ টাকা। এতে খরচ দাড়ায় ১৫ হাজার ৬ শ’ টাকা। কিন্তু মগবাজারস্থ বাংলাদেশ মোটরস সাধারণ সিএনজি অটোরিকশা ক্রেতাদের কাছে অটোরিকশা বিক্রির পর রেজিস্ট্রেশনের জন্য কখনো ৪২ কখনো ৪৫ আবার কখনো ৪৮ হাজার টাকা দাবি করছে। বিআরটিএর ঝামেলা এড়াতে অনেকেই এই টাকা গুনছেন। তবে বেশিরভাগ ক্রেতাদের অভিযোগ তাদের উত্তরা মোটরসের দোহাই দিয়ে বাধ্য করা হচ্ছে টাকা দিতে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ মটরসের প্রকৃত ঠিকানা টাঙ্গাইল। তারা উত্তরা মোটরস থেকে অটোরিকশা নিয়ে টাঙ্গাইলে বসে বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু মগবাজার মোড়ের দিগন্ত এন্টারপ্রাইজে বসে অটোরিকশা বিক্রি ও রেজিস্ট্রেশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের টাঙ্গাইলের মানি রিসিডও দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মটরসের স্বত্বাধিকারি রাজিব খান বলেন, সরকারি চাকুৃরি নিতে মানুষ ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা খরচ করছে। আর বিআরটিএ অফিস থেকে অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন করিয়ে এনে কিছু বেশি টাকা নিতে সমস্যা কোথায়। তাছাড়া উত্তরা মোটরস তাদের এই পরিমান টাকা নিতে বলেছে। ঢাকায় বসে টাঙ্গাইলের গাড়ি বিক্রি প্রসঙ্গে বলেন, ঢাকায় তাদের শো রুম রয়েছে সেকানে বসে তারা বিক্রি করছেন। অথচ দিগন্ত এন্টারপ্রাইজ শো রমে বসেই অটোরিকশা বিক্রি করতে দেখা গেছে তাদের।

তবে উত্তরা মটরসের কর্মকর্তা নুরুদ্দীন জাহাঙ্গীর এ নিয়ে তিনি কথা বলতে রাজী হননি। বিক্রয় ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেছেন, তারা শুধুমাত্র ডিলারদের কাছে অটোরিকশা বিক্রি করেন। বাংলাদেশ মটরস টাঙ্গাইলের ডিলার। তাদের ঢাকার ডিলার সুলতান মোটরস ও দীন ইসলাম মটরস। রেজিস্ট্রেশন নিয়ে যদি কেউ বাড়তি টাকা নেয় তা বিআরটিএ দেখবে। কোন ডিলারকে বাড়তি টাকা নেয়ার বিষয়ে কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

এদিকে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে এমন বাড়তি টাকা প্রসঙ্গে বিব্রত বিআরটিএর কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এটা কখনোই হতে পারেনা। উত্তরা মোটরস অটোরকিশা আমাদানি করে ডিলারদের কাছে সরবরাহ করে। ডিলাররাই সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। আর রেজিস্ট্রেশন করে দেয় বিআরটিএ। কোন ডিলার বাড়তি টাকা নিলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে বিআরটিএ’র দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত