প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমদানিবাণিজ্যের ক্ষেত্রে অতি মূল্যায়নের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করা হয়ে থাকে : মাহফুজুর রহমান

স্মৃতি খানম : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশ থেকে চার পদ্ধতিতে টাকা পাচার হয়ে থাকে। এগুলো হলো বৈদেশিক বাণিজ্যে অতি মূল্যায়ন বা অবমূল্যায়ন করে মালের মূল্য নির্ধারণ করা, হুন্ডি ও অন্য মাধ্যমে বিদেশে লেনদেন ইত্যাদি। সূত্র: আমাদের সময়

তিনি আরও বলেন, আমদানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অতি মূল্যায়নের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করা হয়ে থাকে। ধরা যাক, একটি কোম্পানি বিদেশ থেকে মোবাইল সেট আমদানি করবে। প্রতিটি মোবাইল সেটের প্রকৃত মূল্য ধরা যাক একশো মার্কিন ডলার। এখানে ইনভয়েসে অতি মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রতিটি মোবাইল সেটের দাম দুইশো ডলার দেখানো হলো। এভাবে এক লাখ সেট মোবাইল আমদানি করা হলে বাংলাদেশ থেকে মোট ১ কোটি ডলার অতিরিক্ত চলে যাবে। যিনি মোবাইল সেট আমদানি করলেন, তিনি বিদেশি রপ্তানিকারীর সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে পাচারকৃত এক কোটি ডলার বিদেশের হিসাবে গ্রহণ করবেন।

আবার রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অবমূল্যায়নের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করা হয়ে থাকে। ধরা যাক, বাংলাদেশি একটি প্রতিষ্ঠান বিদেশের একজন ক্রেতার কাছে এক লাখ সাইকেল বিক্রি করবে বা রপ্তানি করবে। প্রতিটি সাইকেলের প্রকৃত বিক্রয়মূল্য ধরা যাক একশো ডলার। এখানে ইনভয়েসে অবমূল্যায়নের মাধ্যমে প্রতিটি সাইকেলের দাম দেখানো হলো পঞ্চাশ ডলার। তাহলে বিদেশ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রতিটি সাইকেলের দাম বাবদ আসবে পঞ্চাশ ডলার। আর বাকি পঞ্চাশ ডলার বিদেশি আমদানিকারকের কাছ থেকে বিকল্প পথে বিদেশের হিসাবে গ্রহণ করার মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে পাচার হবে পঞ্চাশ লাখ ডলার। এভাবে আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে অতি মূল্যায়ন এবং অবমূল্যায়নের মাধ্যমে টাকা পাচার করাকে বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিং বা ট্রেডবেজড মানি লন্ডারিং বলে।

অর্থ পাচারের অন্য পদ্ধতি হলো হুন্ডি। বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক হুন্ডিচক্রের বাইরে নয়। হুন্ডিওয়ালাদের মাধ্যমে অনায়াসেই বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচার করা যায়। বাংলাদেশের হুন্ডিওয়ালাদের হাতে দেশের ভেতরে টাকা উঠিয়ে দিলে বিশ্বের যেকোনো দেশেই তার বিনিময় মূল্য পাওয়া যায় বলে শোনা যায়। এ ক্ষেত্রে পাচার কাজটি সুচারুরূপে করে দেয়ার জন্য তারা কমিশন বা লাভ নিয়ে থাকে। এই পদ্ধতিতেও বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অনেক অর্থ পাচার হয়ে যায়। যারা দেশের জমি বা বাড়ি বিক্রি করে বিদেশে চলে গেছে বা যেতে উদ্যোগ নিয়েছে, তারা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করে থাকে। এছাড়া বিদেশে পরিবারের সদস্যদের বসবাস, পড়াশোনা, চিকিৎসা ছাড়াও বিদেশে বিনিয়োগের জন্য টাকা পাচার করা হয়ে থাকে। বর্তমানে চালু হওয়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমেও এই হুন্ডি কার্যক্রম চলে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাসস্থান বা কর্মস্থলের আশপাশে এসব হুন্ডি ব্যবসায়ীর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর বিজ্ঞাপন দিয়ে বসে আছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা তাদের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনে উদ্বুদ্ধ হয়ে এসব হুন্ডিওয়ালার কাছে যান। ফলে তাদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশে আসার পরিবর্তে পাচার হয়ে যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত