প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মরার আগে আমাদের মরে যাওয়া ঠিক নয়: মির্জা ফখরুল

শিমুল মাহমুদ: দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মরার আগে আমাদের মরে যাওয়া ঠিক নয়। কেনো আমরা মরার আগে মরে যাচ্ছি? কেনো আমরা ভয়ে ভীত হয়ে ঘরে থাকার চেষ্টা করছি? এভাবে থাকলে আমরা বাঁচবো না। এখন তো বিএনপিকে ধরছে ঐক্যফ্রন্টকে ধরছে। অনেকে ভেবেছিলেন, ধরুক আমরা তো বেঁচে আছি। কিন্তু এবার আর তো কেউ বাঁচলো না।

শনিবার(০২ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আওয়াজ’ নামের একটি সংগঠন আয়োজিত ‘সহিংসতা ও নারী : বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের অভিযোগ হলো এ দেশের মানুষ ১৯৩৫ সাল থেকে ভোট দিয়ে আসছে এবং তারা গণতন্ত্রকে ভোগ করে আসছে। তাদের অধিকার ভোগ করে আসছে। আজকে সেই মানুষ ভোট দিতে পারছে না। অথচ যারা (আওয়ামী লীগ) গণতন্ত্রের কথা বলে আসছে, গণতন্ত্রের সংগ্রাম করে, সেই দলিটি দ্বিতীয় বারের মতো বাকশাল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে ধবংস করছে। এই সমস্যাটি মূল হচ্ছে রাষ্ট্রের চরিত্র, সমাজের চরিত্র।

মহাসচিব বলেন, সেই রাষ্ট্রকে যদি আমরা গণত্রান্তিক না করতে পারি, জনগণের অধিকার যদি প্রতিষ্ঠা না করতে পারি। তাহলে এই সমস্যা কোন দিনেই যাবে না।

পুরুষ শাসিত নয় বাংলাদেশ এখন নারী শাসিত এবং অত্যন্ত কঠিনভাবে নারী শাসিত উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেছেন, দেশ ও জাতিকে বাঁচান। সমস্যা আজকে জাতির, সমস্যা বিএনপির নয়। আজকে দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, আপনি যা অর্জন করেছেন সমস্ত অধিকার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, আর আপনারা বলছেন, বিএনপির সমস্যা। বিএনপির কোনো সমস্যা নাই। বিএনপি ইজ ইউনাইটেড।

তিনি বলেন, যে দেশে জনগণের কোনো নিরাপত্তা নেই। যে দেশে সংবিধান সম্মত একটি নির্বাচন করতে গিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে দখল করে নেওয়া হয়, সেখানে নারী নির্যাতনের মতো বিষয়গুলোর বিচার পাওয়া যাবে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি গত দশ বছর ধরে বাংলাদেশে একটি দলের শাসন চলছে। তারা ছলে বলে কৌশলে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রকে পুরোপুরিভাবে ধ্বংস করে দেওয়ার উপক্রম করেছে। গত নির্বাচনে দেখলাম অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদেরকে ক্ষমতায় নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছে। এর চেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার আর কিছু হতে পারে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সংসদ চলছে, এই সংসদ কার কথা বলবে। এই সংসদ কি মহিলাদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে সে বিষয়ে কথা বলবে? বলবে না, কারণ হচ্ছে তাদের লোকেরাই এই কাজগুলো করছে। তাদের এই সংসদ বসানোর নৈতিক কোনো বৈধতা নেই। কারণ তারা নির্বাচিত নয়। নির্বাচনের নামে গোটা জাতির প্রতি একটি নিষ্ঠুর প্রহসন হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা মধ্য দিয়ে আমরা যে মূল্যবোধ অর্জন করেছিলাম, যে চেতনাকে নিয়ে আমরা যুদ্ধ করে ছিলাম, তা নিয়ে কেউ কথা বলছে না। কিন্তু বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট কোথায় ভুল করলো সে বিষয়ে পত্রপত্রিকা টেলিভিশনে আলোচনা করছেন আমাদের বুদ্ধিজীবীরা। আর আওয়ামী লীগ যে ভুল নয়, ইচ্ছাকৃতভাবে যারা রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দিলো এ বিষয়ে বলার সাহস কারো নাই। সরকার আমাদের মাঝে এক ধরনের ভয়ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে তাই কেউ আর বাসে বসে,রেস্টুরেন্ট কিংবা চা খেতে বসে কথা বলতে চাই না। এটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হতে পারে না।

আজকে পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনের টকশোগুলোতে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বিএনপি আর ঐক্যফ্রন্টের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ান। অথচ আওয়ামী লীগ যে ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রকে ধংস করে দিল। সংবিধানকে লঙ্ঘন করলো সে বিষয়গুলো বলার সাহস তারা পান না।

তিনি বলেন, একটা ফ্যাসিবাদ যখন চলে, তার সর্বপ্রথম কাজটা কি থাকে, একটা ভয়ের সৃষ্টি করা, ত্রাস সৃষ্টি করা। সব জনগণের মধ্যে একটা ভীতি ছড়িয়ে দেওয়া। এই ভীতিতে বাস-রেস্টুরেন্টে কেউ কথা বলতে চান না। তাদের সফলতা এই জায়গায়, তারা একটি ভয়ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে। ফলে এখন আর কেউ কথাই বলতে চায় না।

ফখরুল বলেন, আজকে ইকোনোমিস্টের মতো পত্রিকা ক্যাপশন করছে, গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ গোটা পৃথিবীর মিডিয়া জানে যে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে।

সারা দেশে ২৭লাখ আসামির ৯৮ হাজার মামলার কথা উল্লেখ করে মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়াকে একটি নির্জন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এটা কি তার প্রাপ্য। তিনি জামিন পেয়েছেন কিন্তু তাকে তা দেওয়া হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত আমাদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৯৮ হাজার মামলায় ২৭ লাখ আসামি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। ন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আপনারা ভয় পাবেন না, সারাদেশের মানুষ আপনাদের সঙ্গে আছে। বড় কাজ আওয়ামী লীগ জনগণের কাছ থেকে চার দিনের জন্য চলে গেছে। সুতরাং এখন সাহস নিয়ে লড়াই করতে হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য প্রফেসর সাহিদা রফিক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, প্রফেসর ড. তাজমেরী ইসলাম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিলকিস ইসলাম প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত