প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার
‘প্রতিহিংসা বা জিঘাংসা নয়, জাতীয় ঐক্যই লক্ষ্য’

শিমুল মাহমুদ : ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’ শিরোনামে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮ ইশতেহার (প্রতিশ্রুতি) ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ইশতেহারের ভাষ্যে, ‘প্রতিহিংসা বা জিঘাংসা নয়, জাতীয় ঐক্যই লক্ষ্য’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মতিঝিল পূর্বাণী হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ইশতেহারের সারসংক্ষেপ পাঠ করেন। এর আগে লিখিত বক্তব্য দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন।

নির্বাচনে বিজয়ী হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যেসব কাজ সম্পন্ন করবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ইশতেহারের ১ এবং ২ ‘প্রতিহিংসায় বা জিঘাংসা নয়, জাতীয় ঐক্যই লক্ষ্য’ এবং ২নাম্বার বলা হয়েছে নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা এবং মত প্রকাশের স্বাধানতা প্রতিশ্রুতিতে তরুণ সমাজকে লক্ষ্য করে দেয়া হয়েছে নানা প্রতিশ্রুতি।

১. প্রতিহিংসা বা জিঘাংসা ঐক্যই লক্ষ্য
#বিগত ১০ বছরে কল্পনাতীত স্বেচ্ছাচারিতা এবং পুলিশকে দলীয় ক্যাডার হিসিবে ব্যবহার করে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা ,গুম ,খুন , মামলা,ঘুষ ,বাণিজ্য ও বিচারবহির্ভূত হত্যায় লক্ষ্য পরিবার ক্ষৃব্ধ ও বিপর্যস্ত। এই সমস্যা সমাধান করে সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ,সমাজকর্মী ,আইনজীবী সমন্বিত সর্বদলীয় সত্যানুসন্ধান ও বিভেদ নিরসন। কমিশন গঠন করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অতীতের হয়রানি মামলা সুরাহার লক্ষ্যে খোলা মনে আলোচনা করে ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে।

# সকল জাতীয় বীরদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অন্তর্ভুক্ত করে স্কুল, কলেজ পড়ানো হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করা হবে।
# একদলীয় শাসনের যেন পুনঃজন্ম না ঘটে তা নিশ্চিত করা হবে।

২. নাগরিগদের জীবনের নিরাপত্তা এবং মত প্রকাশের স্বাধানতা
# বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড এবং গুম ,এনফোর্সড ডিস অ্যাপিয়ারেন্স পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।
# ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করা হবে
#রিমান্ডের নামে পুলিশ হেফাজতে যে কোন প্রকার শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা হবে। সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেফতার করা হবে না।
# মিথ্যা মামলার অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং মিথ্যা মামলার সহায়তাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা করা হবে।
#কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, যাতায়াতের ক্ষেত্রে সকল নারীর ওপর বাচিক কিংবা শারীরিক যৌন হয়রানি ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে। যৌতুক পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।
# মামলাজট কমানোর নানা পদক্ষেপের সাথে উচ্চ আদালতের বাৎসরিক ছুটি ছয় সপ্তাহে সীমিত করা হবে।
# সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানবিক মর্যাদা, অধিকার নিরাপত্তা এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাদের ওপর যে কোনো রকম হামলার বিচার হবে বিশেষ ট্রাইবুনালে।
# যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম চলমান থাকব।

ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা; নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনী আইন ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার; মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ; ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতকরণ; স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং বিকেন্দ্রীকরণ; তরুণদের কর্মসংস্থান; শিক্ষা; দুর্নীতি দমন; স্বাস্থ্য; খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ; মাদক নিয়ন্ত্রণ; আইন শৃঙ্খলা বাহিনী; আদালত; কৃষি ও কৃষক; শিল্পায়ন; শ্রমিক কল্যাণ; ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার ও বাজেট; বিদ্যুৎ ও জ্বালানি; সামাজিক নিরাপত্তা; বয়োবৃদ্ধ; নারীর নিরাপত্তা এবং ক্ষমতায়ন; নিরাপদ সড়ক, যাতায়াত এবং পরিবহন; প্রবাসী কল্যাণ; গণমাধ্যম; ডিজিটাল প্রযুক্তি; সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ; ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী; ক্রীড়া ও সংস্কৃতি; জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ; জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ; বর্তমান সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প; মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধা; প্রতিরক্ষা; পররাষ্ট্রনীতি এবং অন্যান্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত