প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি নেতাদের হয়রানি বন্ধের নির্দেশ
ড. কামালের ওপর হামলার বিষয়ে অবহিত নয় ইসি: সচিব

সমকাল : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনও অবহিত হয়নি বলে জানিয়েছেন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
সচিব বলেন, সারাদেশে এতবড় নির্বাচনী কর্মযজ্ঞের মধ্যে যেসব ঘটনা ঘটছে আনুপাতিক হারে এগুলো এক শতাংশ বা দুই শতাংশ। এগুলো অস্বীকার করব না। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কমিশন যথেষ্ট সজাগ আছে। পুলিশকে এ বিষয়ে নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেরকম নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে ড. কামাল হোসেনের বিষয়ে আমরা এখনও অবহিত হইনি। লিখিত অভিযোগ পাইনি ও সেরকমভাবে অবহিতও হইনি।

বিএনপি নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করার অভিযোগ কতটা আমলে নেওয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, বিষয়গুলো ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটি তদন্ত করে ইসিতে প্রতিবেদন পাঠাবে। কিছু অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। কমিশন থেকেও পুলিশকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সিনিয়র নেতাদের যেন হয়রানি করা না হয়।

ইসি সচিব বলেন, যাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে তাদের অনেকের নামে আগেই পরোয়ানা ছিল। কিন্তু তারা আত্মগোপনে থাকায় তখন গ্রেফতার করা হয়নি। এখন নির্বাচন উপলক্ষে যারা প্রকাশ্যে আসছে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে।

হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, নির্বাচনের সাত দিন আগে সকল সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপার পাঠাতে সক্ষম হবে কমিশন। এখনও বেশ কিছু নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থিতা নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অপেক্ষমাণ থাকায় সেসব আসন বাদ দিয়ে বাকি আসনগুলোর ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ চলছে। তবে, ৩০ ডিসেম্বরের আগেই সব জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হবে।

সচিব আরও জানান, নির্বাচনের আগে আটটি বিভাগে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন নির্বাচন কমিশনাররা। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা নিয়ে আগামী ১৮ ডিসেম্বর রাঙামাটিতে একটি সমন্বয় সভা করবে কমিশন। ওইদিন বিকেলে চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর অন্য বিভাগগুলোতেও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা হবে।

সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে সচিব বলেন, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে আগামী ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে সেনাবাহিনী। দুই হাজার ৫৩৬ জন জুডিসিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাতীয় নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। তাদের মধ্যে ৬৫২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, ১২২টি তদন্ত কমিটির সদস্য ২৪৪ জন যুগ্ম জেলা জজ ও সহকারী জজও মাঠে আছেন। পাশাপাশি নির্বাচনের সময় চার দিন ৬৪০ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে হাজারখানেকের মতো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনের চার দিন দায়িত্ব পালন করবেন। তারা সবাই মূলত বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। আলাদা কোনো বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন কি না- এমন প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশ ইনচার্জের কাছে দুটি মোবাইল থাকবে। এ ছাড়া অন্যদের কাছে মোবাইল ফোন থাকলে ব্যবহারের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা সভায় কমিশন একটি বিধিনিষেধ দিয়েছে। সাংবাদিকরা মোবাইল ফোন নিয়ে যাবেন, তবে কেন্দ্রের বাইরে গিয়ে ব্যবহার করলে অসুবিধা নেই। কেন্দ্রের ভেতরে বা বুথের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অপব্যবহার করতে উৎসাহিত হতে পারে, এ ব্যাপারে বিধিনিষেধ থাকা দরকার বলে কমিশন মনে করে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন, ছবি তুলতে পারবেন ও ভোটারদের প্রতিক্রিয়াও নিতে পারবেন। তবে কেন্দ্র থেকে সরাসরি সম্প্রচার না করার বিষয়ে কমিশনের পর্যবেক্ষণ আছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

মোবাইল ফোন ছাড়া সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটা পরামর্শ এসেছে, এখনও সেভাবে গ্রহণ করা হয়নি। তবে ভয়ের কোনো কারণ নেই। স্বাভাবিকভাবে সবকিছু বিবেচনায় রেখেই এগুলো চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত