প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাতি ঠেকাতে সীমান্তে বৈদ্যুতিক বেড়া দেবে ভারত

রাশিদ রিয়াজ : হাতির হামলা ঠেকাতে সীমান্তে ভারত বসাবে ব্যাটারি চালিত ইলেকট্রিক কাঁটাতারের বেড়া। এর সংস্পর্শে এলেই ইলেকট্রিক শক খেয়ে পিছু হটবে ভিন রাজ্য থেকে আসা হাতির দল। কিন্তু এতে হাতি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে দল বেঁধে গ্রামবাসীদের হামলা করতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন পশু প্রেমীরা। এধরনের পরিকল্পনায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তারা। তাদের আশঙ্কা, হাতির যাত্রাপথে এ ভাবে বাধা সৃষ্টি করলে তারা হিংস্র হয়ে উঠতে পারে। পরিণামে বন্য হাতির সঙ্গে মানুষের সংঘাত আরও বাড়বে। টাইমস অব ইন্ডিয়া

সম্প্রতি ভাররেত পুরুলিয়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশটির বনদপ্তরের কর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, জঙ্গলমহলে কেন হাতির তাণ্ডব বন্ধ করা যাচ্ছে না? এর জবাবে বনদপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব ইন্দিবর পাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, হাতির হামলা ঠেকাতে ঝাড়খণ্ড সীমান্তে বৈদ্যুতিক কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হচ্ছে। সেটা হলে হাতির দলকে ঝাড়খণ্ড সীমান্তের ওপারেই রুখে দেওয়া যাবে।

ভারতের বনদপ্তর বলছে, ঝাড়খণ্ড থেকে আসা দল বেঁধে এসে হাতিরা যে সব রুট দিয়ে পশ্চিমবাংলায় প্রবেশ করে, সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে। তাতে ব্যাটারি চালিত বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকবে। হাতির হামলা রুখতে অনেক জায়গায় পরিখা বানানোর কাজও শুরু হয়েছে। এগুলি দেখতে সরু খালের মতো। প্রায় ৩ মিটার গভীর এবং দুই থেকে আড়াই ই মিটার চওড়া। ঝাড়খণ্ড থেকে আসা হাতিরা যাতে মেদিনীপুর শহরে ঢুকে না পড়ে তার জন্য জামশোল-পাঁজাশোল এলাকায় প্রায় ৬ কিমি দীর্ঘ পরিখা বানানো হয়েছে। বাঁকুড়ার বড় জোড়ার ঘুতগোরিয়া মৌজায় প্রায় ১ কিমি লম্বা পরিখা তৈরি হয়েছে। ঝাড়গ্রামের বিনপুর দু’নম্বর ব্লকের বেলপাহাড়ি বেলাসোলা-নূতনগ্রাম মৌজাতে পরিখা তৈরির জন্য সম্প্রতি টেন্ডার ডেকেছে বনদপ্তর।
এর আগে পশ্চিম বাংলা-নেপাল সীমান্তে হাতি আটকাতে কাঁটাতারের বেড়া খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। অনেক জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে দিয়েছে হাতির দল। যে সব হাতিরা এপারে রয়ে গিয়েছিল, কাঁটাতার বসে যাওয়ার পর তারা আর পরবর্তীকালে ফিরতে পারেনি। সেখানে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় সেই সব হাতি সমস্যায় পড়ে যাওয়ায় মানুষের সঙ্গে তাদের সংঘাত বেড়ে যাচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ