শিরোনাম
◈ চট্টগ্রামে সেপটিক ট্যাংকে নেমে ৪ শ্রমিকের মৃত্যু ◈ বাংলাদেশ-চীনের যৌথ ঘোষণা: কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার ◈ মালয়েশিয়া-চীন সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী ◈ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের: রয়টার্স ◈ যশোরে ২ কোটি ২২ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক ◈ রাতে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী, শোডাউন-র‌্যালি না করার নির্দেশ ◈ সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীরকে ফেরানোর বিষয়ে যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে গড়িমসি চলবে না, বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়া বার্তা ◈ শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ দিতে ৪৯৭৩ কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার ◈ বাংলাদেশে শাখা খুলতে চায় জাপানের শীর্ষ ব্যাংক এমইউএফজি

প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০১৮, ০২:০৩ রাত
আপডেট : ২৭ নভেম্বর, ২০১৮, ০২:০৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

১৬ হাজার রোগী হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত, শিশুদের সংখ্যাই বেশি

মোহাম্মদ রুবেল: জটিল রক্তরোগ হিমোফিলিয়া রোগে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এ রক্তরোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাবে এ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুরা মারাও যাচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, রক্তরোগের বংশগত আরেকটি জিনগত রোগের নাম হিমোফিলিয়া। যা অনিরাময়যোগ্য রোগ। রক্তে জমাট বাঁধার উপাদান বা ফ্যাক্টর জন্মগতভাবে কম থাকার কারণে হিমোফিলিয়া রোাগটি হয়ে থাকে। এ রোগটি পুরুষের ক্ষেত্রেই লক্ষণীয়। সাধারণত দুই ধরনের হিমোফিলিয়া রোগী দেখা যায়, হিমোফেলিয়া-এ এবং হিমোফিলিয়া-বি। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ রোগীর হিমোফেলিয়া-এ এবং ১৫ শতাংশ রোগীর হিমোফেলিয়া-বি হয়ে থাকে। রক্তে ফ্যাক্টর-৮-এর ঘাটতির কারণে হিমোফিলিয়া-এ এবং ফ্যাক্টর-৯-এর অভাবে রোগী হিমোফিলিয়া-বি আক্রান্ত হওয়ায় শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। ফলে শরীরে কোথাও কেটে গেলে রক্তপাত বন্ধ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। এর ফলে রোগীর প্রচুর রক্তপাত হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বে প্রতি দশ হাজারে একজন হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ১৬ হাজার হিমোফিলিয়া রোগী রয়েছে।

হিমোফিলিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও হিমোফিলিয়া রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা এ বি এম ইউনুস আমাদের নতুন সময়কে বলেন, বংশে হিমোফিলিয়া থাকলে পরিবারের সদস্যদের জিনগত পরীক্ষা, স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিশেষ করে গর্ভধারণের পূর্বেই মা রোগটি বহন করছেন কিনা তা নিশ্চিত হতে স্ক্রিনিং পরীক্ষা করতে হবে। কিন্তু এ রোগের চিকিৎসা ব্যয় প্রচুর। তাই এসব রোগীর স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা প্রদান, তাদের জন্য সরকারি অনুদান এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ সামাজিক সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন যাতে তারা সমাজে কোনও অপ্রীতিকর অবস্থার সম্মুখীন না হন।

তিনি আরও বলেন, জন্মের পরপরই এ রোগের উপসর্গ বোঝা যায় না। হামাগুড়ি দেওয়ার সময় শিশুদের হাঁটুতে চাপ পড়ে রক্তক্ষরণ হয়ে হাঁটু ফুলে যায়। এ রোগ বেশিরভাগ সময় ধরা পড়ে দাঁত দিয়ে রক্তপাতের মাধ্যমে। হতে পারে তা ত্বকের নিচে কিংবা খাদ্যনালীতে। এ রোগ হলে মস্তিস্কেও রক্তক্ষরণ হতে পারে। শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট ফুলে একসময় পঙ্গু হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

বাংলাদেশ সোসাইটির মেডিক্রাল বোর্ডের সদস্য, ফিজিও থেরাফিস্ট ডা. হাসনাত সোহেল রহমান বলেন, এ রোাগীদের জন্য সরকারী তত্ত¡বধানে একটি বিশেষায়িত কেযায়ার সেন্টার করার প্রয়োজন। যেখানে ফিজিওথেরাপি দিয়ে শরীরের জয়েন্টগুলোকে ভালো রাখা হবে। প্রয়োজনে রক্ত পরিসঞ্চালন, ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজম এবং কম দামে রক্তের ফ্যাক্টর এইট এবং নাইন দেওয়া যাবে। তখন ডেকেয়ার ভিত্তিতে রক্তের পরিসঞ্চালন করতে পারবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দিয়ে ফ্যাক্টর এইট এবং ফ্যাক্টর নাইন বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে।

সম্পদনা: শাহীন চৌধুরী, হুমায়ুন কবির খোকন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়