প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসলাম সভ্যতাকে ধ্বংস নয়, রক্ষা করে

রাশিদ রিয়াজ : ইসলামের ইতিহাসই সভ্যতাকে ধ্বংস নয়, রক্ষা করার। প্রতিদিনের সংবাদপত্রে আন্তর্জাতিক সংবাদের দিকে নজর বুলিয়ে দেখুন, উপলব্ধি করতে কোনো কষ্ট হয় না ইরাকে ঐতিহাসিক ও সভ্যতার নিদর্শন গুলোর ওপর একের পর এক আঘাত হেনে তা ধ্বংসস্তুপে পরিণত করা হয়েছে। তা সে ধর্মীয় কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ বা অন্যধর্মের হোক। আইএস জঙ্গিদের হামলায় ইরাকের নিমরদ ও হাতরা শহরকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করা হয়েছে।

প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক ইসলামের কথা বলে, ইসলামের অপব্যাখ্যায় এই আইএস জঙ্গিদের কারা অর্থ ও অস্ত্র যুগিয়েছে। আইএস জঙ্গিরা তাদের ধ্বংসাত্মক ক্রোধ, হত্যাকা- ঘটিয়ে যা করছে তা ইসলামের সাথে কি আদৌ যায়? সাধারণ মানুষের কাছে এ প্রশ্নের কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তর ও কৌশলেরও যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ফলে বিরাট এক ভ্রম সৃষ্টি হয়েছে যে ইসলামের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বা ‘ইসলামি’ বাধ্যবাধকতা পূরণ করতেই আইএস জঙ্গিরা এমন ধ্বংসযজ্ঞ করেছে। যা কিছু অ-ইসলামি তা ধ্বংস করতে হবে এমন কথা ইসলাম কখনো বলেনি। যেসব ধর্মের অনুসারীরা সূর্য পূজা করেন তাহলে কি সূর্যকে ধ্বংস করতে হবে, আর ইসলাম শান্তির ধর্ম বলে তার অনুসারীরা কিভাবে সূর্য ধ্বংস করতে বলবেন?

বিশে^র দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম হিসেবে ইসলামের সবচেয়ে পুরাতন উপস্থাপনা হচ্ছে ন্যায়বিচার ও ক্ষমাশীল আচরণ। ১৪’শ বছরের বেশি সময় ধরে মুসলমান সম্প্রদায়ের শাসন ছিল কয়েক ডজন রাজবংশ ও শাসক, কিছু ভাল, কিছু নিন্দনীয় ও উদাসীনও বটে। কিন্তু তাই বলে তথাকথিত আইএস জঙ্গিরা ইসলামের নামে যা করছে তা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। ১০ হাজার মুসলিম অনুসারী নিয়ে নবীজী (সা:) যখন মক্কা বিজয় করলেন তখন তা বিনারক্তপাতে ঘটে।

কয়েকটি ব্যতিক্রম ঘটনা ছাড়া শত শত ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। কারণ নবীজী (সা:) কখনোই প্রতিশোধপরায়ণ ছিলেন না। ফলে মক্কা বিজয় মহৎ এক বিজয়ের দিনে পরিণত হয়েছিল। মুসলমানরা মক্কা বিজয়ের পর অবিশ^াসীদের ঘরে ঘরে যেয়ে তাদের মূর্তি ধ্বংস করেননি বা তাদের পৌত্তলিক অনুশীলন ও বিশ^াস নিষিদ্ধ করেননি। বরং নবীজী (সা:) বলেছেন, আল্লাহর ওপর অবিশ^াসীরাও মুসলমানদের কাছে অলঙ্কারের মত আমানত। তাদের ওপর কোনো ধরনের অত্যাচার বা জুলুম করলে কিয়ামতে এজন্যে জবাবদিহী করতে হবে। অথচ ইসলামের নামে অপব্যাখ্যা দিয়ে ইয়াজদি নারীদের ওপর কি অকথ্য নির্যাতনই না করা হয়েছে ইরাকে।

মিসর যখন মুসলমানদের শাসনে আসে তখন তারা পিরামিড ধ্বংস করেননি। জেরুজালেম বা ইরাক যখন ইসলামি শাসনের অধিনে এসেছে তখনো সেখানে কোনো ধ্বংসের স্বাক্ষর রাখেনি মুসলমানরা। ইরানেও প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলো মুসলমানরা হেফাজত করে রেখেছে। মসুলে সুন্নি অটোমান মসজিদ আইএস জঙ্গিরা ধ্বংস করেছে এবং এর পেছনে সুন্নি ও শিয়া মজহাবের মধ্যে আরো তিক্ততা ও বিভেধ সৃষ্টির জন্যেই তা করা হয়েছে। আইএস জঙ্গিরা ইসলামকে নিয়ে বিভ্রান্ত ও ধ্বংসাত্মক কাজ করছে কারণ তারা কখনোই ইসলামের অনুসারী হতে পারে না। এ কারণেই তাদের হাত থেকে নারী, শিশু ও মসজিদ, চার্চ বা গির্জা কিছুই রক্ষা পায়নি।

অথচ ১৪’শ বছরের বেশি সময় ধরে মুসলিম শাসকদের হাতে অন্যধর্মের নিদর্শনগুলো থেকে শুরু করে শহরের পর শহর সুরক্ষিত ছিল। যা এখন চরমপন্থীরা ইসলামের নামে ধ্বংসের দাবি করে আসছে। যা শুধুমাত্র চরম নিষ্ঠুরতা ও ইসলামের শিক্ষার স্পষ্টত লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। কোনো সত্যিকারের মুসলিম এ চরমপন্থা অনুসরণ কিংবা তার অভিনয়ও করতে পারে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ