প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন পালিত

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রয়াত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চিত্র পরিচালক হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন আজ। সারাদেশের হুমায়ূনভক্তরা সকাল থেকেই দিনটি পালন করেছেন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে। ১৯৪৮ সালের এ দিন তিনি নেত্রকোনার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন করেন তিনি। এরপর পলিমার ক্যামিস্ট্রির উপর পিএইচডি করে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যামিস্ট্রি বিভাগে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার পর তিনি পেশা ছেড়ে পুরোমাত্রায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন।

১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরক’ দিয়েই বাংলা কথাসাহিত্যে পালাবদলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ।

এরপর শঙ্খনীল কারাগার, লীলাবতী, জোছনা ও জননীর গল্প, মধ্যাহ্ন, বাদশাহ নামদারসহ দুইশোর বেশি উপন্যাস রচনা করেছেন হুমায়ূন আহমেদ। তার উপন্যাসের চরিত্র হিমু, মিসির আলী, শুভ্র বইয়ের পাতা থেকে টেলিভিশনের পর্দা কিংবা সেলুলয়েডে তরুণ-তরুণীদের আপনজন হয়ে ওঠে।

১৯৮০ সালে নাটক রচনা শুরু করেন হুমায়ূন আহমেদ। তার লেখা নাটক এই সব দিনরাত্রির জনপ্রিয়তার পর তিনি তৈরি করেন বহুব্রীহি, অয়োময়, কোথাও কেউ নেই, নক্ষত্রের রাত, উড়ে যায় বকপক্ষীসহ বহু নাটক। সিনেমা পরিচালক হিসেবেও পেয়েছেন তিনি সাফল্য।

১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’। এই সিনেমার জন্য তিনি ১৯৯৪ সালে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। একই বছর তিনি একুশে পদক পেয়েছিলেন। এরপর তিনিও নির্মাণ করেন শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, শ্যামল ছায়া এবং আমার আছে জলসহ বহু চলচ্চিত্র। তার নির্মিত শেষ চলচ্চিত্র ঘেটুপুত্র কমলা।

এরপর থেকেই হুমায়ূন আহমেদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য তাকে যেতে হয় যুক্তরাষ্ট্রে। কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই ইন্তেকাল করেন হুমায়ূন আহমেদ।

এদিকে, গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে হুমায়ুন আহমেদের জন্মবার্ষিকী উদযাপন করছেন তার ভক্ত ও পরিবারের সদস্যরা। রাত ১২টা এক মিনিটে নুহাশপল্লীতে মোমবাতি জ্বালিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

সকালে লেখকের ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান হুমায়ুন আহমদের স্ত্রী মেহের আফরজ শাওনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। পরে তার আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করা হয়।

এছাড়াও হুমায়ুন আহমদের জন্মদিন পালিত হয়েছে নাটোর জেলায়। কেন্দুয়া উপজেলায় তার গ্রামের বাড়ি কুতুবপুরে নিজের গড়া স্কুল শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠে মিলাদ মাহফিল, কেক কাটা, আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রাসহ বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত