প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হরিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছের সারি

কান্তা আইচ রায় : শীতের সকালে গ্রাম-বাংলার মেঠোপথ ধরে সারি সারি খেজুর গাছ সৌন্দর্যের নিদর্শন বহন করতো। খেজুর গাছে গাছে কলসি ঝুলানো হচ্ছে। কাকডাকা ভোরে রসে ভরা কলসি নামাচ্ছে গাছিরা। খেজুর গাছ কাটা, রস সংগ্রহ ও বিক্রি করতে ব্যস্ত তারা। এ যেন গ্রাম-বাংলার অপরূপ দৃশ্য। সে দৃশ্য যেন স্থান পেয়েছে শুধু তুলির আঁচড়ে। সময়ের সাথে সাথে চিরচেনা এই দৃশ্য হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার বুক থেকে।

ইটের ভাটায় ব্যাপকভাবে খেজুর গাছের ব্যবহারে এখন এধরনের দৃশ্য উধাও। খেজুর গাছ দামে সস্তা হওয়ায় ইট ভাটায় এই গাছ বেশি পোড়ানো হয়। খেজুর গাছের ব্যাপক নিধনে গাছিরাও পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছে। দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এই গাছ।

শীতের মৌসুমে খেজুর রসের চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। সেই তুলনায় যোগান নেই বললেই চলে। অগ্রহায়ণ মাসের শেষের দিকে রস সংগ্রহের জন্য খেজুর গাছ কাটা শুরু হয়ে তা চলে মাঘ মাসের শেষ পর্যন্ত। একটি খেজুর গাছ সপ্তাহে চার দিন কাটা যায়। বাকি তিন দিন গাছকে বিশ্রাম দিতে হয়। গাছিরা মাটির হাঁড়িতে রস সংগ্রহ করেন।

খেজুরের রসে রয়েছে প্রচুর এনার্জি। এতে জলীয় অংশই বেশি। এটাকে প্রাকৃতিক ‘এনার্জি ড্রিংক’ বলা হয়ে থাকে। খেজুরের রস কাঁচা এবং জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করেও খাওয়া যায়। গুড়ে থাকে লৌহ যা মানব শরীরের রক্তের উপাদান হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে। যারা শারীরিক দুর্বলতায় ভোগেন খেজুরের রস তাঁদের জন্য দারুণ উপকারী। খেজুরের রসে প্রচুর খনিজ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। এতে ১৫-২০% দ্রবীভূত শর্করা থাকে। খেজুরের গুড় আখের গুড় থেকেও বেশি মিষ্টি, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। খেজুরের গুড়ে প্রোটিন, ফ্যাট ও মিনারেল সবই রয়েছে। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের খেজুরের রস পান করা বারণ।

রস খোলা অবস্থায় সংগ্রহ করা হয় ফলে এতে জীবাণু থাকার সম্ভবনা থাকে। এছাড়া বাঁদুর বা পাখি যাতে এ রসে মুখ দিতে না পারে সেদিকেও ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। হালকা আঁচে রস ফুটিয়ে খাওয়া উচিত। খাওয়ার আগে যাচাই করে নেওয়া উচিত পোকামাকড়, বাঁদুড় বা পাখি রসে মুখ দিয়েছে কিনা।

শীতকাল শুরু হলেই বাড়ি বাড়ি চলতো খেজুরের রস কিংবা রসের তৈরি গুড় দিয়ে মজাদার পিঠা পুলির আয়োজন। তবে গ্রাম বাংলার এই দৃশ্য এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত