শিরোনাম
◈ জামায়াতের বিরোধিতা করতে বিএন‌পি নির্বাচনী প্রচারণায় মুক্তিযুদ্ধকেই কেন সামনে আনছে? ◈ বিশ্বকাপের আগে একাধিক পরিবর্তন ক্রিকেটের নিয়মে ◈ ক্যান্টনমেন্টে ব্যক্তিগত অস্ত্র বা গানম্যান নেওয়ার বিধান কী? ◈ মধ্যরাতে তিন গ্রামের সংঘর্ষ, আহত পুলিশসহ ১৫ ◈ চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধে রপ্তানি সংকট: কর্মবিরতিতে আটকা ১৩ হাজার কনটেইনার, ঝুঁকিতে ৬৬ কোটি ডলারের বাণিজ্য ◈ আওয়ামী লীগ দুর্গের ২৮ আসন এবার বিএনপির জয়ের পাল্লা ভারী ◈ নিউক্যাসলকে হারিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি লিগ কা‌পের ফাইনালে ◈ অ‌স্ট্রেলিয়ান প‌্যাট কা‌মিন্স বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আশায় ◈ ‘খেলার মাঠে রাজনীতি নয়’: বাংলাদেশের পক্ষে সংহতি জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করেছি : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ◈ নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের তাণ্ডব: এক গ্রামেই ১৬২ জনকে হত্যা, পুড়িয়ে দেওয়া হলো রাজপ্রাসাদ

প্রকাশিত : ০৪ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০৬ দুপুর
আপডেট : ০৪ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এশিয়াজুড়ে ইয়াবার কালো থাবা

আসিফুজ্জামান পৃথিল : মিয়ানমারের গহীন গ্রীষ্মমন্ডলীয় অরণ্য থেকে শুরু করে হংকং কিংবা সাংঘাই এর আলোকজ্জল রাজপথ। সমগ্র এশিয়া জুড়েই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লড়াই করতে হচ্ছে এক সিনথেটিক নেশাদ্রব্যের সঙ্গে। গোলাপি রঙের এই মরণনেশার নাম মেথামফেটামিন। প্রচলিত অর্থে ইয়াবা। এই লড়াই এ এখন পর্যন্ত পরাজিতের দলেই রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীগুলো। কোন মতেই বাগে আনা যাচ্ছে না এই নেশাদ্রব্যকে।

ক্রিস্টাল আকারের মেথামফেটামাইন বা মেথ এবং ইয়াবা (মেথ এর সঙ্গে ক্যাফেইন মিশিয়ে বানানো ট্যাবলেট) দুটোরই আকাশছোঁয়া চাহিদা রয়েছে এশিয়ান দেশগুলোতে। সেই মাদক ঠেকাতে ফিলিপাইন এবং বাংলাদেশের সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। ফলশ্রুতিতে নিহত হয়েছে অনেকে। এশিয়াজুড়ে মেথ এর এই বিধ্বংসী বিস্তারে জাতিসংঘ পর্যন্ত শঙ্কিত। বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম, সামাজিক অবস্থান কোন সীমারেখাই নেই এই মাদকের জনপ্রিয়তার। নিজের ১৬ বছরের কর্মজীবনে এর আগে কোন মাদকের এতটা একক জনপ্রিয়তা দেখেননি জাতিসংঘের মাদক এবং অপরাধ বিষয়ক কার্যালয়ের (ইউএনওডিসি) দক্ষিণ এশিয়া প্রধান জেরেমি ডগলাস। তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে কোন পরিস্থিতির তুলনাই হয় না। এটি অন্যরকম এক ঘটনা।’

[caption id="attachment_728067" align="aligncenter" width="500"] ইয়াবা কারখানা[/caption]

বিশ্লেষকদের মতে মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভৌগলিক অবস্থান এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিই ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মাদক দলগুলোকে নানান সুবিধা দিচ্ছে। বিশেষত মিয়ানমারের গহীনে যে বিচ্ছিন্নতাকামি দলগুলো রয়েছে তারা নিজেরা যেমন ‘যুদ্ধের’ খরচ মেটাতে পপি চাষ করছে, তেমনি স্থানীয় নৃতাত্বিক গোষ্ঠীগুলোকেও চাষে বাধ্য করছে। মিয়ানমার সরকার নিজেদের স্বাধীনতাকামি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রনে আনতে বহুদিন ধরে অন্য নৃত্বাত্বিক গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে আসছে। এরকম একটি গোষ্ঠী ইউনাইটেড ওয়া লিবারেশন আর্মি। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তামটাডাও এর প্রত্যক্ষ সহায়তায় তারা নিজেরা তো সুবিশাল পপি বাগান তৈরী করেছেই, স্থানীয়দেরকেও তা উৎপাদনে বাধ্য করছে। এই পপি গাছেন নির্যাস থেকে তৈরী হওয়া আফিমেই বানানো হচ্ছে ইয়াবা। গোল্ডেন ট্রায়েঙ্গেলে (থাইল্যান্ড, মিয়ানমার-লাওস এর সীমান্তবর্তী এলাকা) উৎপাদিত আফিমও এখন ইয়াবার কাঁচামাল।

[caption id="attachment_728064" align="aligncenter" width="500"] পপিখেত পাহাড়া দিচ্ছেন এক বিদ্রোহী সেনা[/caption]

চীনের প্রস্তাবিত সিল্করোড পুনরুদ্ধার প্রকল্পও এই ড্রাগলর্ডদের জন্য আশির্বাদ হয়েই এসেছে। তারা এখন ইয়াবা চোরাচালানে বিলিয়ন ডলারের এই অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন! তারা শুধু এশিয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে ইয়াবাকে বৈশ্বিক মাদকে পরিনত করতে চান। তাদের আশা একদিন ইয়াবা হেরোইন এবং কোকেনের স্থান দখল করে নেবে! এই ৩ দেশে উৎপাদিত ইয়াবা এখন পাচার হচ্ছে সড়ক এবং সাগরপথে। বেশ কয়েকটি রুট ব্যবহার করন তা পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকা, কলকাতা, বেইজিং, হংকং, ব্যাংকং, ম্যানিলা, জাকার্তা, সিউল, টোকিও, তাইপে, পার্থ, সিডনি, ওয়েলিংটন সহ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বড় বড় শহরগুলিতে। যাদের ঠেকাতে গলদঘর্ম হচ্ছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি সকল বাহিনী। সিএনএন

ইয়াবা পরিবহন রুট (ভিডিও) 

https://pmd.cdn.turner.com/cnn/.e/interactive/html5-video-media/2018/10/23/trafficking_map.mp4

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়