শিরোনাম
◈ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ থেকে ‘সাদা মহিষ’, নাম ও বানান বিতর্কে পদ হারালেন জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ◈ যশোরের রাজারহাটে চামড়ার দাম নিয়ে হতাশা, আবারও বাজার ধসের শঙ্কা ◈ বাংলাদেশসহ বিশ্বের আকাশে আজ রাতে দেখা মিলতে পারে বিরল ‘ব্লু মুন' ◈ ১০ মিটারের মধ্যে এলেই 'নীরব মৃত্যু' : ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীকে কোণঠাসা করছে ঘাতক রোবট ◈ শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন কিন্তু তিনি জমা দিয়ে যেতে পারেন নাই, ভ্যানিটি ব্যাগে করে নিয়ে গেছেন: মতিউর রহমান চৌধুরী ◈ চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন থেকে বঞ্চিত করে যেভাবে অভিবাসীদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প ◈ নতুন জীবনের খোঁজে দেশ ছাড়ছেন আমেরিকানরা, পরামর্শ নিতে খরচ করছেন শত শত ডলার ◈ বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে অমিত শাহর ‘ব্লুপ্রিন্ট’, কী আছে পরিকল্পনায়? ◈ রোবটের শক্তিতে পাল্টে যাচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়া পড়েছে রক্ষণাত্মক অবস্থানে (ভিডিও) ◈ নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার: ডিএনএ পরীক্ষায় স্তন ক্যানসারের অনেক রোগীর আর লাগবে না কেমোথেরাপি

প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০৩:১৩ রাত
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০৩:১৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিসিএস পড়াশোনা আগে, পাঠ্য পরে!

মিঠুন মিয়া : বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের একজন শিক্ষার্থী। হাতে সারাক্ষণ বিসিএস পরীক্ষার নানা বই। শিক্ষক ক্লাসে পড়াচ্ছেন। কিন্তু ওই শিক্ষার্থী শিক্ষকের চোখ ফাঁকি দিয়ে খাতার আড়ালে কিংবা বেঞ্চের নিচে রাখা বিসিএস পরীক্ষার বইগুলো মনোযোগ সহকারে পড়ছেন। শিক্ষক কী পড়াচ্ছেন সেদিকে তার কোনো মনোযোগ নেই। এই হলো সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখা একজন শিক্ষার্থীর বিসিএস কেন্দ্রিক পরীক্ষার পড়াশোনা। তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাসে শিক্ষক পড়াচ্ছেন। এক শিক্ষার্থী বেঞ্চে মাথা রেখে গভীর ঘুমে মগ্ন। বিষয়টি শিক্ষকের নজরে পড়ল। শিক্ষার্থীর ঘুম ভাঙালেন শিক্ষক। শিক্ষক কিছু বলার আগেই পাশের বেঞ্চের আরেক শিক্ষার্থী বলে উঠলো, স্যার ও সারারাত জেগে বিসিএসের পড়াশুনা করে। ইতিমধ্যে কয়েকবার বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস শেষ করে ফেলছে। এখন রাত জেগে আবার রিভাইস দিচ্ছে। শিক্ষক ওই বিসিএস পড়–য়া শিক্ষার্থীকে কিছু জিজ্ঞেস করতেই তিনি চোখ মুছতে মুছতে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। এবার আসি লাইব্রেরি ও সেমিনারে। সেখানেও একই চিত্র। বিষয়ভিত্তিক পাঠ্যবই কারো সামনে নেই।

সবার হাতে বিসিএস কোচিংয়ের শীট, নোটবুক, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সসহ অন্যান্য সহায়ক বইগুলো। লাইব্রেরির সেলফে সুন্দরভাবে সাজানো পাঠ্যবইয়ে শিক্ষার্থীদের হাত যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সময় পেলেই শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরি কিংবা সেমিনারে বিসিএসের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত। এই হলো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিসিএসমুখী পড়াশোনা। নানা কারণে ইদানিং শিক্ষার্থীদের মাঝে বিসিএসমুখী পড়াশোনার প্রবণতা ব্যাপকভাবে দেখা লক্ষ্যণীয়। অর্থাৎ চাকরির পড়াশোনাই আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য পরে। এই প্রবণতা বিষয়ভিত্তিক বা নিজ বিষয়ের পড়াশোনার উপর অবশ্যই এক ধরনের প্রভাব ফেলছে। অনেকে আবার নিজের বিভাগের কোনো পড়াশোনা নেই, বিসিএস নিয়েই ব্যস্ত। প্রথম বর্ষের একজন শিক্ষার্থী বিভাগ বা বিষয়ের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, কিন্তু সে এখন সময় পার করছে বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস শেষ করা নিয়ে।

বিসিএসমুখী পড়াশোনা একজন শিক্ষার্থীর ¯œাতক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান অর্জন, নিজেকে বিকশিত করা, বিষয়কেন্দ্রিক চিন্তার জগত সমৃদ্ধি করার পথকে রুদ্ধ করেছে। বিসিএস-এর পড়াশোনার বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছি না। চাকরিকেন্দ্রিক পড়াশোনা করতে অবশ্যই হবে, কিন্তু তার আগে গুরুত্ব দিতে হবে একাডেমিক বিষয়ের দিকে। বিসিএস পরীক্ষার জন্য কেবল গতানুগতিক বই নয় বরং গল্প, উপন্যাস, পত্রিকা, ম্যাগাজিন, সমসাময়িক প্রেক্ষাপট জানাও যে জরুরি তা গ্রাহ্য নয়। প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে চাকরির পড়াশোনা অবশ্যই করতে হবে, কিন্তু সবার আগে তো পাঠ্যবিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। বিষয়কেন্দ্রিক পড়াশোনা শেষ করেও চাকরি পড়াশোনা করা যায়। তবে বিভাগের পড়াশোনা না করে একজন শিক্ষার্থী কেন অনেক আগে থেকেই চাকরিমুখী পড়াশোনা করছেন, এর নেপথ্যে অবশ্য কিছু কারণও আছে। বর্তমানে চাকরির পরীক্ষাগুলোর ধরন ও নানা বৈচিত্র্য শিক্ষার্থী মাঝে এমন মানসিকতা তৈরি করছে। যাই হোক বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান

শিক্ষক : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়