প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন শিক্ষিকাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক বহিস্কার

মেহেদী জামান লিজন, জাককানইবি প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ করেছেন একই বিভাগের তিন নারী শিক্ষক।

ওই শিক্ষকের আচরণের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তার সঙ্গে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকেও বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে তারা এ ধরনের ঘটনায় অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা সমালোচনার পর বুধবার দুপুরে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

নাট্যকলা বিভাগের এক নারী শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি (রুহুল আমিন) আমাদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। তার অঙ্গভঙ্গিও নোংরা। প্রায় দেড় মাস আগে আমরা রেজাল্টের কাজ করছিলাম। তিনি (রুহুল আমিন) নম্বর বলছিলেন, আমি পোস্টিং দিচ্ছিলাম। তখন একজন ডেমনোস্ট্রেটরও সেখানে ছিলেন। হঠাৎ তিনি আমার চুল ছুঁয়ে বলেন, ম্যাডাম চুলগুলো অনেক সুন্দর। তাৎক্ষণিক আমি তাকে সাবধান করি।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) দুপুরে একাডেমিক সভা শেষে পরীক্ষা কমিটির কাজ করার সময় শিক্ষক রুহুল আমিন আমার দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে টিপ্পনি কাটেন। আমি সবার সামনেই এই ঘটনার প্রতিবাদ করি। তিনি ক্ষমা চান। এর কিছুক্ষণ পরই ওই শিক্ষক বিষয়টি আপোস-মিমাংসা করতে এসে আমাকে বলেন, ‘আমি রিয়েলি আপনার প্রেমে পড়ে গেছি। এজন্যই বারবার এমন হয়ে যায়। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময় আমার ছবি এডিট করে কুরুচিপূর্ণভাবে পাঠান এবং অশ্লীল কথাবার্তা টেক্সট করেন।

তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গেও তিনি একই রকম কান্ড ঘটানোর পর আমরা তিন নারী শিক্ষক তার বিরুদ্ধে উপাচার্যের কাছে মঙ্গলবার বিকেলে লিখিত অভিযোগ করেছি।’

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত রুহুল আমিনের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হুমায়ুন কবির বলেন, শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে তিন নারী শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এ অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ অভিযোগ তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ড. হুমায়ুন কবির বলেন, তদন্তর অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী স্থায়ীভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ