প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাতবার আবেদন করেও খালেদা জিয়ার চিকিৎসার অনুমতি নেই : মির্জা ফখরুল

শাহানুজ্জামান টিটু : মানবধিকার লঙ্ঘন এখন বাংলাদেশের নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির হিসেবে ৫’শর অধিক নেতাকর্মী হারিয়ে গেছে তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি, ১০ হাজারের অধিক নেতাকর্মীকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করা হয়েছে, মাসখানেক আগে পর্যন্ত সারাদেশের বিএনপির ৭৮হাজার নেতাকর্মীকে মামলা দেওয়া হয়েছে। ১৮ লক্ষ মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর লেক শোর হোটেলে এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। “রাইট টু লাইফ এ ফার ক্রাই ইন বাংলাদেশ ২০০৯-জুন ২০১৯” শীর্ষক আলোচনার আয়োজন করে বিএনপি।
আমন্ত্রিত বিদেশি প্রতিনিধি ও সদস্যদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধান লঙ্ঘন করছে সরকার। এর বড় উদাহরণ হচ্ছে খালেদা জিয়ার জেল। যিনি তার জীবনের বড় অংশ গণতন্ত্রের জন্য উৎসর্গ করছেন তাকে একটি মিথ্যা মামলায় আটক করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাতবার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হলেও সরকার কর্ণপাত করেননি। এমনকি, সর্বশেষ ১১ দিন ধরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি কারাগারে অসুস্থ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপিকে ছাড়া দেশে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। শুধু তাই নয়, বিগত তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কী হয়েছে তা আপনারা সকলেই অবগত রয়েছেন। এ অবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে যাচ্ছে।

গোলটেবিল আলোচনার শুরুতেই বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ জানান, আলোচনা সভায় উপস্থিত রয়েছেন জাতিসংঘ ছাড়াও যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র্র, ফ্রান্স, সুইডেন, পাকিস্তান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিগণ।
শুরুতেই ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বর্তমান সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যার তালিকা ও সংখ্যার আলোকে একটি তথ্যচিত্র প্রর্দশন করা হয়। এ তালিকা করা হয় মানবাধিকার সংস্থা অধিকার এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য ব্যবহার করে। দেশের চলমান রাজনীতি ও মানবধীকার বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের ক’টনীতিক ও প্রতিনিধিদের অবহিত করে দেওয়া বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, গুম, হত্যা করা হচ্ছে, মানুষের লাশ পড়ে থাকছে, নারীরা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, সম্ভ্রম হারাচ্ছে, শিশুরা নির্যাতিত হচ্ছে, রাজনীতিক দলের যারা ভিন্নমত পোষণ করে তাদের ওপরে রাষ্ট্রীয়বাহিনীর নির্যাতন, ভিন্নমত পোষণকারী ছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়েছে, এটা এখন বাংলাদেশের প্রতিদিনের চিত্র।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা অনেকবার এ বিষয়গুলো বিভিন্ন সমাবেশের মাধ্যমে বলেছি। কিন্তু র্দূভাগ্যের কথা এতো কিছু পরেও সরকারের কর্নগোচর হয় না। আমরা জানি এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর এ কারনে তারা ন্যায় নীতি সংবধিান কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে তারা একের পর এক মানবধিকার লংঘন করে তারা ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চায়। মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে যা কিছু বলা হয়েছে যদিও আমি জানি এর সামান্য অংশ সাংবাদিকরা দেখাতে পারবেন, খুব বেশী তারা বলতেও পারবেন না, লিখতেও পারবেন না।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের যে চেতনা ছিলো তা যদি বাস্তাবায়িত করতে চাই, যা এখন লুপ্ত হয়ে গেছে, লুণ্ঠিত হয়েছে। তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে এই যে দানবিয় শক্তি আমাদের সমস্ত অর্জনগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, আমাদের গণতন্ত্র, মানবধীকার, গণতান্ত্রিক চেতনা, আমাদের অর্জনগুলো, প্রজন্মের ভবিষ্যতকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই তাদেরকে রুখে দাাঁড়াবার জন্যে আজকে সত্যিকার অর্থেই একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হওয়া দরকার এবং সেই সঙ্গে আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. কণ্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, একেবারেই তৃণমুল পর্যায় পযর্ন্ত মানবধিকার চরমভাবে লংঘিত হচ্ছে। দেশের সার্বিক অবস্থার পরির্বতন করার একমাত্র উপায় হচ্ছে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নিরপক্ষ সরকারের অধিনে জাতীয় নিবার্চন করা।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ দেশের বিচার ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তার বক্তব্য তুলে ধরেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত