প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রেজিস্ট্রেশন নেই, ৭ বছরেও চালু হয়নি ‘নতুন’ অ্যাম্বুলেন্স!

নিজস্ব প্রতিবেদক : রেজিস্ট্রেশনের অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (উপজেলা হাসপাতাল) নতুন অ্যাম্বুলেন্সটি গত সাত বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের গ্যারেজে পড়ে থেকে অ্যাম্বুলেন্সের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও ব্যাটারি অকেজো হতে বসেছে। অপরদিকে পুরাতন অ্যাম্বুলেন্সে জোড়াতালি দিয়ে চলছে রোগী পরিবহন সেবা।

গাংনী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার প্রায় সাত লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দেয় এই হাসপাতালটি। ইনডোর ও আউটডোরে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ জন চিকিৎসা নেয়। উন্নন চিকিৎসার জন্য প্রায় প্রতিদিনই কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও ঢাকায় রোগী পরিবহন করতে হয় এই হাসপাতাল থেকে। বর্তমানে দীর্ঘ ১৫ বছরের আগের অ্যাম্বুলেন্স জোড়াতালি দিয়ে রোগী পরিবহন করা হচ্ছে। যন্ত্রপাতি বিকল ও জ্বালানি তেল বরাদ্দের অভাবে মাঝেমধ্যেই অ্যাম্বুলেন্সটি বন্ধ থাকে। খবর বার্তা ২৪’র।

গাংনী হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক আব্দুল মালেক জানান, অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহনের ভাড়ার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়। বিপরীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জ্বালানি তেল ক্রয় করার জন্য বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দ পেতে দেরি হওয়ায় গত ১৬ মে থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত এ সেবা বন্ধ ছিল। বরাদ্দ প্রাপ্তির পর ১৯ জুন থেকে সেবা শুরু হয়েছে। নতুন অ্যাম্বুলেন্সটির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না হওয়ায় চালানো যাচ্ছে না। গ্যারেজে পড়ে থেকে এর ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি বিকল হতে পারে।

গাংনী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারি ‘নিশান আরভান’ মাইক্রো টাইপের একটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স পায় গাংনী হাসপাতাল। যার দাম ২৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এর রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজন ৭১ হাজার ২৭০ টাকা। কিন্তু অদ্যাবধি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অর্থ বরাদ্দ হয়নি। ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ, ২০১৭ সালের ২৯ মে এবং সর্বশেষ চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি অর্থ বরাদ্দ চেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অর্থ) বরাবর আবেদন করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সালের ৫ অক্টোবর ‘ল্যান্ড রোভার’ নামে জিপ টাইপের একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে গাংনী হাসপাতালে এ সেবা শুরু হয়। দশ বছর ব্যবহারের পর সেটি অকেজো ঘোষণা করে ২০০৩ সালের ১১ মে ‘ইসুজু ট্রুপার’ জিপ টাইপের আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ পায়। এই অ্যাম্বুলেন্সটিই এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।

রোগী সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহন খরচ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চেয়ে অর্ধেক। কিন্তু হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স মাঝে মাঝে বন্ধ থাকায় রোগী সাধারণকে বাড়তি অর্থ ব্যয়ে বাইরে থেকে সেবা নিতে হচ্ছে। তাছাড়া রোগীর তুলনায় একটি অ্যাম্বুলেন্স যথেষ্ট নয়।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন বিহীন অ্যাম্বুলেন্স সড়কে নামিয়ে কোনো সমস্যা হলে কেউ এর দায় নেবে না। তাই রেজিস্ট্রেশনের অর্থ প্রাপ্তির দিকে চেয়ে আছি।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত