প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ইয়াবা ছাড়া অন্য মাদকগুলো ভারত থেকে আসে’

রবিন আকরাম : বাংলাদেশে ইয়াবা আসে মিয়ানমার থেকে আর অন্য মাদকগুলো আসে ভারত থেকে। এ রকম প্রায় ২৪ ধরনের মাদক এ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন আর গাঁজার বাইরেও অন্তত ২০ ধরনের মাদক সেবন করে মাদকসেবীরা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে এখন পর্যন্ত ২৪ ধরনের মাদক উদ্ধার হয়েছে। আর এসব মাদকের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, চোলাই মদ, দেশি মদ, বিদেশি মদ, বিয়ার, রেক্টিফাইড স্পিরিট, ডিনেচার্ড স্পিরিট, তাড়ি, প্যাথেডিন, বুপ্রেনরফিন (টি.ডি. জেসিক ইঞ্জেকশন), ভাং, কোডিন ট্যাবলেট, ফার্মেন্টেড ওয়াশ (জাওয়া), বুপ্রেনরফিন (বনোজেসিক ইঞ্জেকশন), মরফিন, আইচ পিল, ভায়াগ্রা, সানাগ্রা, টলুইন, পটাশিয়াম পারম্যাংগানেট ও মিথাইল-ইথাইল কিটোন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘‘আমাদের অভিযানে ১৫ ধরনের মাদক উদ্ধার হয়েছে। তবে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা আর ফেনসিডিলই বেশি। অন্যগুলো পরিমাণে খুব বেশি পাওয়া যায় না। তবে সাম্প্রতিককালে ইয়াবা বেড়ে যাওয়ায় অন্য মাদক পরিমাণে কম পাওয়া যাচ্ছিল। এখন অভিযান শুরুর পর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা উৎস বন্ধ করার চেষ্টা করছি। ইয়াবাটা শুধু মিয়ানমার থেকেই আসে। আর অন্য মাদকগুলো আসে ভারত থেকে।’’ চোলাই মদ এখানেই তৈরি হয়। আর গাঁজার কিছু চাষ গোপনে বাংলাদেশে হয় বলেও স্বীকার করেন জনাব চৌধুরী।

আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের রুট ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’ (মিয়ানমার-থাইল্যান্ড-লাওস) এবং ‘গোল্ডেন ক্রিসেন্ট’ (পাকিস্তান-আফগানিস্তান-ইরান)-এর একেবারে কেন্দ্রে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার থেকে এদেশে মাদকের অনুপ্রবেশ ঘটছে। তিন দিক দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার।

দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেষা এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশ করে। মাদকের প্রবেশপথ হিসেবে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ৩২টি জেলাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সম্প্রতি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

অবৈধ মাদক আমদানির জন্য প্রতি বছর দেশ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘‘অবৈধ মাদক আমদানিতে প্রতি বছর কত টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে এর সুনিদিষ্ট কোনো হিসেব কারো পক্ষে করা সম্ভব নয়।’’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, আসলে ইয়াবার জন্য মিয়ানমারের পছন্দের বাজার ছিল থাইল্যান্ড। কিন্তু এরপর আমাদের দেশে এই মাদকের আসক্তের সংখ্যা কল্পনার বাইরে চলে যাওয়ায় ইয়াবার বড় বাজারে পরিণত হয় বাংলাদেশ। এই বাজারের চাহিদা মেটাতে কক্সবাজার-টেকনাফের স্থল সীমান্তবর্তী ৬০-৭০টি স্পট দিয়ে দেশে ইয়াবা ঢুকছে। কক্সবাজার, টেকনাফ সংলগ্ন উপকূলবর্তী সমুদ্রে প্রায় ৩ লাখেরও বেশি ছোট-বড় নৌযান চলাচল করে৷ এসব নৌযানে করে ইয়াবার চালান আসে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ে একাধিক বৈঠকে মাদক পাচাররোধে নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। একাধিক বৈঠকে কারখানাগুলো দ্রুত বন্ধ করার জন্য অনুরোধ জানানোর পর মাত্র এক ডজন বন্ধ করে বিএসএফ। অন্যান্য কারখানা বন্ধের তাগাদা দিচ্ছে বাংলাদেশ।’’

পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেলী ফেরদৌস বলেন, ‘‘পুলিশ যে অভিযানগুলো চালায়, সেখানে ৫-৬ ধরনের মাদক পাওয়া যায়। সবচেয়ে ভয়াবহভাবে পাওয়া যায় ইয়াবা, যা শুধু মিয়ানমার থেকেই আসে। আর ভারত থেকে আসে ফেনসিডিল, গাঁজা আর হেরোইন। হেরোইনটা মূলত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়েই বেশি আসে। আর ফেনসিডিল আসে সব সীমান্ত দিয়েই।’’ ডয়চে ভেলে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত