প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজকের ১৫ তম তারাবিতে যা পড়া হবে

মুফতি রাশেদুর রহমান: আজ ১৫তম তারাবিতে সূরা মুমিনুন, সূরা নূর এবং সূরা ফুরকান (১-২০) পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৮তম পারা। আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশের
আলোচ্য বিষয় তুলে ধরা হলো

সূরা মুমিনুন মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ১১৮, রুকু ৬

সূরাটিতে দ্বীনের বিভিন্ন মূলনীতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সূরার প্রথম ৯ আয়াতে এমন কিছু গুণের কথা বলা হয়েছে যা অর্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি জান্নাতুল ফেরদাউসের অধিকারী হতে পারে। গুণগুলো হলোÑ রিয়া ও কপটতামুক্ত খাঁটি ঈমান, নামাজের মধ্যে খুশু তথা আল্লাহর সামনে ভয় ও বিনয়ের সঙ্গে দাঁড়ানো, অনর্থক কথাবার্তা, কাজেকর্ম ও জেনা ব্যভিচার এবং অশ্লীলতা থেকে মুক্ত থাকা, জাকাত প্রদান, আমানত রক্ষা করা এবং প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা, নিয়মিত নামাজ আদায় এবং নামাজের সময়, আদব ও রুকনগুলোর প্রতি যত্নবান থাকা। এরপর মানুষ ও সাত আসমান-জমিনের সৃষ্টি, বৃষ্টিবর্ষণ এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন ফল-ফসলের উৎপাদন, চতুষ্পদ প্রাণী ও এদের মাঝে দুধ, গোশত, পশম, বহনক্ষমতা, ধৈর্যশীলতা প্রভৃতি উপকারিতার সৃষ্টি প্রসঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার কুদরতের প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। সূরায় কতিপয় আম্বিয়া (আ.) এর ঘটনা আলোচনা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নূহ (আ.), হুদ (আ.), সালেহ (আ.), মুসা (আ.), হারুন (আ.) এবং ঈসা (আ.) এর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। তাদের সবার একই দাওয়াত, একই কার্যক্রম এবং একই উদ্দেশ্য ছিল। যারা নবীদের আদর্শ বঞ্চিত তারা সবসময় পরস্পর ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত, তাদের অন্তর অজ্ঞতা ও গাফলতে নিপতিত। অন্যদিকে আল্লাহর কিছু বান্দা আছেন যারা পরস্পরকে মহব্বত করে, তাদের অন্তর হেদায়েতের আলোয় আলোকিত, তাদের মাঝে রয়েছে আল্লাহর ভয়, রিয়ামুক্ত খাঁটি ঈমান। তারা নেক আমল করা সত্ত্বেও এই ভয়ে থাকে যে, জানা নেই, আমার এই আমল কবুল হলো কি না? খাঁটি ঈমানদারদের বিপরীতে এমন কতিপয় দুর্ভাগাও রয়েছে যারা কোরআন এবং কোরআনের নবীর সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করে। সূরায় তাদের বিভিন্ন আপত্তির জবাব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর একত্ববাদ সাব্যস্ত করে এবং শিরকের খ-নের পর সূরার শেষ দিকে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন যারা সৌভাগ্যবান তাদের আমলের পাল্লা ভারী হবে আর দুর্ভাগাদের আমলের পাল্লা হবে হালকা; ওই দিন কোনো সম্পর্ক কাজে আসবে না। সূরার শেষ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমে সব মানুষকে এই শিক্ষা দিয়েছেন, তোমরা এই প্রার্থনা করো, হে আমার রব! আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন এবং আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনিই শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহকারী।

সূরা নূর, মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত ৬৫, রুকু ৯
সূরাটিকে ‘নূর’ বলার কারণ হলো, এতে ‘নূর’ শব্দটি রয়েছে। তাছাড়া সূরায় এমন সব আদব, সৎগুণ এবং বিধিবিধান ও নিয়মকানুন বর্ণনা করা হয়েছে, যা সামাজিক জীবনকে আলোকিত করে দেয়। ব্যভিচার, অপবাদ, অপপ্রচারে লিপ্ত হওয়ার শাস্তি, ‘লিআন’ এর বিধান, নজরের হেফাজত, পর্দা, অতিশয় বৃদ্ধা নারীর পর্দা, ঘরে প্রবেশের অনুমতি, বিবাহযোগ্য নরনারী এবং বিধবা বিবাহের নির্দেশ, দাস-দাসীদের ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা, বৈঠক থেকে ওঠা এবং আল্লাহর রাসুলকে খেতাব করার আদব, তথা সামাজিক জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আদব প্রসঙ্গে সূরায় আলোচনা করা হয়েছে। সূরায় ‘ইফকে’র বিখ্যাত ঘটনা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

আম্মাজান হজরত আয়েশাকে (রা.) একটি কুচক্রী মহল মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা দশটি আয়াত নাজিল করে তাদের সে অপবাদ মিথ্যায় পরিণত করেছেন এবং আম্মাজান আয়েশার (রা.) চারিত্রিক পবিত্রতার ঘোষণা দিয়েছেন। সূরায় বলা হয়েছে, আল্লাহই হলেন আসমানগুলো ও জমিনের নূর। তিনি যাকে খুশি তাকে তাঁর নূরের পথ দেখান। যারা সে নূরের ছোঁয়া পায় তারা দিন-রাত আল্লাহর তসবিতে মশগুল থাকে; দুনিয়ার কোনো ব্যস্ততা তাদের আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল রাখতে পারে না। আর যারা খোদার নূর-বঞ্চিত তারা ভ্রষ্টতার অন্ধকারে নিমজ্জিত, তারা সবসময় মরীচিকার পেছনে ছুটছে। ¯্রষ্টার একত্ববাদের যে প্রমাণাদি সৃষ্টির মাঝে বিদ্যমান সে প্রসঙ্গে বিবরণ দেওয়ার পর বলা হয়েছে, মোমিন সর্বাবস্থায় আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখে। আর মোনাফেকরা সবসময় সুযোগের সন্ধানে থাকে। আল্লাহ তায়ালা সবার অবস্থা ও আমল সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং তারই কাছে ফিরে যেতে হবে, এ মর্মে ঘোষণার মাধ্যমে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।

সূরা ফুরকান, মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৭৭, রুকু ৬
সূরার শুরুতে কোরআন মজিদের আলোচনা করা হয়েছে। কোরআনের ব্যাপারে মুশরিক জাতি নানা রকমের আপত্তিকর প্রশ্ন তুলত। সূরায় সে সবের জবাব দেওয়া হয়েছে। সূরাটিতে কোরআনের আলোচনার পরে নবীজির (সা.) আলোচনা এসেছে। এক শ্রেণির লোক জেদের বশবর্তী হয়ে নবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করত। তাদের ধারণা ছিল, কোনো মানুষের পক্ষে রাসুল বা নবী হওয়া সম্ভব নয়। নবী-রাসুল তো হবেন ফেরেশতাদের কেউ। আর যদি মেনেও নেওয়া হয়, মানুষ নবী বা রাসুল হতে পারে, তাহলে তিনি তো হবেন পার্থিব বিচারে অবস্থাশালী এবং নেতৃস্থানীয়, কোনো অসহায় এতিম কখনও নবী হতে পারে না। তাদের অসার ধ্যান-ধারণার মজবুত ও সুদৃঢ় জবাবের মাধ্যমে ১৮তম পারা সমাপ্ত হয়েছে। সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত