প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘মুক্তিযোদ্ধা খেতে পায় না আর রাজাকারদের অনেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত’

আশিক রহমান : রাজাকারদের তালিকা করতে না পারার কারণে তাদের অনেকেই আজ সমাজের উঁচু স্তরে, প্রতিষ্ঠিত মানুষ। সমাজে তারা দাপুটে। অথচ দেশে এমন অনেক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন যারা খেয়ে না খেয়ে দিনযাপন করেন। এমন পরিস্থিতি অনাকাক্সিক্ষত ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জে. এম হারুন-অর-রশিদ (অব.)। আমাদের অর্থনীতিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটাকে সরলিকরণ ও সহজভাবে করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধ একটা ঐতিহাসিক ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ ও বিপক্ষে কারা ছিল তা তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। স্পষ্টকরণের স্বার্থেই উভয় তালিকা তৈরি করা খুবই জরুরি। কিন্তু তা না করে আমরা প্রতিযোগিতায় আছি শুধু মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তৈরি করা নিয়ে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি উদ্যোগে স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা করার কোনো প্রচেষ্টা এখনো আমরা দেখিনি। আজ পর্যন্তও তা হয়নি। যে কারণে অনেক রাষ্ট্রদ্রোহী ও স্বাধীনতাবিরোধী সমাজের অনেক উঁচু স্থানে বসে আছে, তারা প্রতিষ্ঠিতও। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আমরা গ্রামগঞ্জে ২০০৭-২০০৮ এ গিয়েছিলাম তখন মানুষ জনসম্মুখে রাজাকারদের বিষয়ে অনেক অভিযোগ করেছে। প্রাণ খুলে আমাদের কাছে তারা বলেছে যে, কারা কারা তাদের ক্ষতি করেছে যুদ্ধের সময়। সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের পক্ষ থেকে আমরা পটুয়াখালিতে গিয়েছিলাম, সেখানে প্রায় ২৯ জন মহিলা জনসম্মুখে বলেছেন, ওমুকের বাড়িতে, ওমুকের ছেলে আমাদের ক্ষতি করেছে। আমার লুট ও আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, এই রাজাকাররা এখনো সমাজে বহাল তবিয়তে রয়েছে। কারণ তাদেরকে কালেক্ট করা হয়নি। তাদেরকে মানুষ চিনে না। নতুন প্রজন্মও তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানে না ও ভালোভাবে চিনেও না। এ নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।

তিনি আরও বলেন, রাজাকাররা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে আমাদের বিরোধিতা করেছে। মুক্তিযুদ্ধকে বিরোধিতা করে আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। আমাদের অনেক ক্ষতি তারা করেছে। রাজাকাররা যদি আমাদের বিরুদ্ধে না দাঁড়াত তাহলে ৯ মাস লাগত না জয় পেতে, সেটা হয়তো ৫ মাসেই অর্জন সম্ভব ছিল। তখন হয়তো স্বাধীনতার জন্য এত রক্ত, এত ক্ষতি এবং এত ত্যাগ আমাদের স্বীকার কতে হতো না। এই দেশ দুশমনদের চিহ্নিত করা কি প্রয়োজন নেই? খুবই প্রয়োজন। এজন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া দরকার। একাত্তরে কে, কারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। আমাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের কাজ করেছিল। এ দায় শুধু সরকারের নয়, মুক্তিযোদ্ধা, জনগণ সবার। সবাই একসঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করতে হবে বলেও মনে করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ