প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তারেক রহমানের পাসপোর্ট আ.লীগ-বিএনপির রাজনীতির ইস্যু

আবুল বাশার নূরু : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের পাসপোর্ট ইস্যুতে সরব হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চলমান রাজনীতি। লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট লন্ডন বাংলাদেশ হাইকমিশনে জসা দিয়েছেন। এবং তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান শনিবার লন্ডনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সভায় এ কথা বলেন। তার এমন বক্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে এনিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান তারেক রহমান। তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে রবিবার শাহরিয়ার আলমের নামে উকিল নোটিশও পাঠিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দুই দলই তারেক রহমানকে তার পাসপোর্ট দেখানোর দাবি জানিয়েছে। অপরদিকে উকিল নোটিশ পেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি সোমবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তারেক রহমানের কাছে কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলে এটি বিএনপি আগে দেখাক। স্বপন বলেন, তারেক রহমান ১/১১-এর সময় মুচলেকা দিয়ে বিদেশে যাওয়ার পরে একবার তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাসপোর্ট নবায়ন করেছেন। এরপরে তিনি ব্রিটেনের হোম অফিসের মাধ্যমে বাংলাদেশ দূতাবাসে তাঁর পাসপোর্ট সারেন্ডার করেন।

আওয়ামী লীগের এমন বক্তব্যের আগেই এক সংবাদ সম্মেলন করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ওই বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমান যদি পাসপোর্ট জমা দিয়েই থাকেন, তাহলে তা দেখান।

সকালে রিজভীর এ বক্তব্যের পরই পাল্টা জবাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের পাসপোর্ট নবায়ন করার জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনে কোনো আবেদন করেছেন কি না, এটা যদি বিএনপি দেখাতে পারে, আমরা তাদের বক্তব্যকে স্বাগত জানাব। তিনি আরও বলেন, মূলত তারেক রহমান বাংলাদেশের পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন এবং তিনি ব্রিটেনে এখন কী স্ট্যাটাসে আছেন, এটা আপনারা সবাই জানেন।

এক প্রশ্নের জবাবে আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কোনো মিথ্যাচার করেননি। তিনি সত্য তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে যদি কোনো আইনি নোটিশ দেওয়া হয়, সে নোটিশ পাওয়ার পর সেটি অবশ্যই যথাযথ প্রক্রিয়ায় জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সত্য তথ্য প্রকাশ করেছেন, সত্য তথ্য প্রকাশ করার জন্য যদি ক্ষমা চাইতে হয়, তাহলে সেটা দুর্ভাগ্যজনক বিষয়।

সোমবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেকের পক্ষে দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক আইনজীবী কায়সার কামাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঠিকানায় আইনি নোটিশটি পাঠান। নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে হয় বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে হবে, নয়তো ক্ষমা চাইতে হবে। এর কোনোটিই না করলে প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আইনি নোটিশের বিষয়ে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এ মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংসদ আবু সাঈদ বলেন, আমরা অবাক বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছি, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং লন্ডনে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্পর্কে নানা রকম মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির নেতারা। রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আবু সাঈদ বলেন, জিয়া পরিবার ধ্বংসের চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে সরকারের প্রতি হাস্যকর-মনগড়া অভিযোগ করেছেন রিজভী। প্রকৃতপক্ষে জিয়া পরিবার ধ্বংসের নায়ক স্বয়ং তারেক রহমান। জিয়া পরিবার ধ্বংসের কোনো অভিপ্রায় সরকার বা আওয়ামী লীগের নেই। তিনি বলেন, দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা তারেক রহমান। সেই দল ধ্বংসের জন্য অন্য কোনো শক্তির প্রয়োজন নেই। আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। রুহুল কবির রিজভীকে ‘হাইড্রোলিক টকিং ডল’ আখ্যা দিয়ে স্বপন বলেন, প্রতিদিন মিডিয়ার সামনে শব্দসন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পরও জিয়া হত্যার বিচার করতে পারেননি কেন? এমনকি ক্যাবিনেটে সিদ্ধান্ত নিয়ে জিয়া হত্যা মামলাকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন। এ সময় ব্রিটিশ সরকারকে অবিলম্বে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে তারেক রহমানের বাংলাদেশি পাসপোর্ট জমা দেওয়ার যে খবর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বরাতে সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তা প্রতাখ্যান করেছে বিএনপি। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নির্জলা মিথ্যা কথা বলেছেন। আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনে জমা দিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি প্রদর্শন করুন। হাই কমিশন তো সরকারের অধীনেই, তাদের বলুন সেটি দেখাতে।

শাহরিয়ার আলমের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হওয়ার জন্যই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলছেন, যা মন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টায় আত্মা বিক্রির সমতুল্য। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের প্রসঙ্গ টেনে এই বিএনপি নেতা বলেন, “পাসপোর্ট সারেন্ডার করে তারা, যাদের ছেলে-মেয়েরা বিদেশিদের বিয়ে করে বিদেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। বিদেশে বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। রিজভী দাবি করেন, জিয়া পরিবারের কেউ বিদেশিদের বিয়ে করেনি, অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্বও তারা গ্রহণ করেননি।

অপরদিকে তারেক রহমানের দেওয়া লিগ্যাল নোটিশের ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলন করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে প্রতিমন্ত্রীর নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি দাবি করেছেন, তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের নাগরিক নন । তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ২ জুন তারেক রহমানের, তার স্ত্রীর এবং সন্তানদের পাসপোর্ট বাংলাদেশ দূতাবাসে ফেরত দেয় যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ায় তারেক এখন বাংলাদেশের নাগরিক নন। দেশে ফেরার ইচ্ছে নেই বলেই হয়তো পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়েছেন।

২০০৮ সালে তিনি যখন লন্ডনে যান তখন স্মার্ট কার্ডও ছিল না। পাসপোর্ট তার একমাত্র পরিচয়পত্র ছিল। সেই পাসপোর্ট তিনি সারেন্ডার করেছেন। তিনি আবেদনও করেননি নতুন পাসপোর্টের জন্য। যদি নতুন পাসপোর্টের আবেদন জানিয়ে থাকেন তাহলে তার রিসিপ্ট কপি দেখানোর আহ্বান জানিয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, বিদেশে থেকে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার অর্থ হলো তিনি দেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন। বিএনপি বলে আসছে তিনি চিকিৎসার জন্য সেখানে অবস্থান করছেন। এটা হাস্যকর।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত