প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নেপালের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে ‘অসঙ্গতি’ দেখছে ইউএস-বাংলা

ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে নেপালের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন অসঙ্গতিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সিইও ইমরান আসিফ।

রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সকলের প্রতি আস্থা রেখে বলছি, রিপোর্টে যেসব বিষয় কভার করার কথা ছিল- তা হয়নি। রিপোর্ট মানছি না- তা বলব না। তবে রিপোর্টে অসঙ্গতিপূর্ণ কিছু বিষয় রয়েছে।”

গত ১২ মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার ওই ফ্লাইটে ৭১ আরোহীর মধ্যে দুর্ঘটনায় ৫১ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ৪ ক্রুসহ ২৭ জন বাংলাদেশি ছিলেন।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো দুর্ঘটনার পর এক মাসের মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে হয়। সে অনুযায়ী গত ৯ এপ্রিল ৫ পৃষ্ঠার একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে নেপাল সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশন।

সেখানে বলা হয়, ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের উড়োজাহাজটি রানওয়ের একপাশে বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলটের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল) যোগাযোগ ‘স্বাভাবিক ছিল’ না।

পাইলট ও টাওয়ারের মধ্যে শেষ সময়ের যোগযোগের কী সমস্যা হয়েছিল, ঠিক কী কারণে উড়োজাহজটি দুর্ঘটনায় পড়ে- এসব বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি তদন্ত কমিশন।

ওই কমিশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ফ্লাইট অপারেশন কনসালটেন্ট সালাউদ্দিন এম রহমতউল্লাহ গত ১২ এপ্রিল ঢাকায় এক ব্রিফিংয়ে বলেন, দুর্ঘটনার কারণ জানতে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রিভুবনের রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও অবতরণক্ষেত্র ওই মডেলের উড়োজাহাজ নামার জন্য উপযুক্ত ছিল।  অগ্নিনির্বাপনকর্মী ও উদ্ধারকর্মীরা  নিয়ম অনুযায়ী দুর্ঘটনার দুই মিনিটের মধ্যেই জ্বলন্ত বিমানটির কাছে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছিলেন।

প্রতিবেদনের এ অংশটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে ইউএস-বাংলার সিইও ইমরান আসিফ বলেন, “স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত বিমান যাত্রীদের কাছ থেকে আমরা যা জেনেছি তাতে আমাদের ধারণা যে প্রকৃতভাবেই দুই মিনিটের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা নিয়োজিত হয়ে থাকলে হতাহতের সংখ্যা হয়ত অনেক কম হত।”

ইমরান আসিফ বলেন,  নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার এয়ারলাইন্সেটির কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। এছাড়া পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ অবসাদগ্রস্ত হননি বা তাকে জোর করে পাঠানোর বিষয়টি পুরোপুরি অবান্তর এবং তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। যা মোটেও সত্য নয়। বিমানটি পুরানো ছিল, পাইলটকে জোর করে পাঠানো হয়েছে, তিনি অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। এসব তথ্য সঠিক নয়।

তিনি আরও বলেন, ক্যাপ্টেন আবিদ দুর্ঘটনার আগে সর্বশেষ রিপোর্টে ফ্লাইংয়ের জন্য ফিট ছিলেন। তার মেডিকেল রিপোর্ট ছিল ‘ক্লাস ওয়ান’। বাংলাদেশের পাইলটদের মধ্যে ১২ জন ডিসিপি পাইলট আছেন তাদের মধ্যে আবিদ অন্যতম। ইউএস-বাংলার পাইলটের ফ্লাইং মনিটরিং করার জন্য এফডিএম ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। এফডিএম পর্যালোচনা করে ক্যাপ্টেনের কোনো অসঙ্গতি থাকলে ব্রিফ করে। প্রয়োজনে ইন্সট্রাক্টরের মাধ্যমে আরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। তবে আবিদের ক্ষেত্রে এটির প্রয়োজন হয়নি।

সূত্র : আরটিভি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত