শিরোনাম
◈ এয়ারপোর্ট ও বুর্জ খলিফা টাওয়ার ধ্বংসের ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল ◈ জয়ের ফাঁস করা তালিকায় শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন ১৫ নায়িকা ◈ চলছে তালিকা তৈরির কাজ, চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথ অভিযান ◈ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন: থামাতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই বিশ্ব শক্তির ◈ খামেনির ছেলেকে পছন্দ নয়, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে চান ট্রাম্প ◈ দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও পরিকল্পনায় ইবি শিক্ষিকা খুন—স্বামীর মামলায় ৪ আসামি ◈ স্কুল-কলেজের জন্য আসছে র‍্যাংকিং সিস্টেম: শিক্ষামন্ত্রী ◈ দুই ইস্যুতে বাংলাদেশের আশ্বাস চাইল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করে নির্বাচন ইস্যু জুড়ে বিভ্রান্তি: রিজওয়ানা ◈ গ্রাহকদের প্রতি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ৭ নির্দেশনা বিদ্যুৎ বিভাগের

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল, ২০১৮, ০৮:২৭ সকাল
আপডেট : ২২ এপ্রিল, ২০১৮, ০৮:২৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ধামাচাঁপা পরে যাচ্ছে বরিশালের আলোচিত যুবলীগ নেতা প্রিন্স হত্যা মামলা

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বজনদের সম্মুখ থেকে প্রকাশ্যে অপহরণ করা হয় মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক মোঃ আবুল বাশার প্রিন্স সিকদারকে (৩২)। এ ঘটনার দুইদিন পর (১১ মার্চ) আড়িয়াল খাঁ নদীতে ভাসমান অবস্থায় যুবলীগ নেতা প্রিন্সের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ঘটনার ৪৫দিনের মধ্যেই আলোচিত এ হত্যা মামলাটি ধামাচাঁপা পরে যাচ্ছে। উল্টো মামলা উত্তোলনের জন্য আসামি ও তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা বাদি ও তার স্বজনদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। আলোচিত এ হত্যাকান্ডের পর যুবলীগ নেতা প্রিন্সের খুনিদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও এলাকায় খুনিদের ছবি সংবলিত ব্যাপক পোস্টারিং করা হলেও হত্যাকারীদের গ্রেফতারে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে রহস্যজনক ভূমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে।

অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে নিহত প্রিন্সের স্বজন ও ঢাকাস্থ মুলাদীবাসীর ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ২১ এপ্রিল সকাল দশটায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা যুবলীগ নেতা প্রিন্সকে তার স্বজনদের সামনে থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রকাশ্যে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার প্রধান খুনি বাটামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, তার সহযোগী ইউপি সদস্য আবুল কালাম ও আনোয়ার হোসেন চুন্নু গংদের অবিলম্বে গ্রেফতারপূর্বক ফাঁসির দাবি করেছেন।

বক্তারা আরও বলেন, থানা পুলিশের সামনেই প্রিন্সের খুনিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছেন না। ফলে খুনিরা নিহতের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হত্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত রেখেছে। হুমকির মুখে প্রিন্সের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

মানববন্ধন চলাকালীন সময় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ কুতুব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুলাদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ তারিকুল হাসান খান মিঠু, বাংলাদেশ প্রজন্মলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান নীলু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাইনুল আহসান সবুজ, আওয়ামীলীগ নেতা এ্যাডভোকেট আব্দুল বারী, শিক্ষানুরাগী ইমদাদুল হক, নিহত প্রিন্সের কাকা নাসির উদ্দিন সিকদার, ইউপি চেয়ারম্যান আবু হাসনাত জাপান প্রমুখ।

নিহত প্রিন্সের বাবা সাহেবেরচর গ্রামের নেছার উদ্দিন সিকদার জানান, ৪০ দিনের কর্মসূচি প্রকল্পের মাধ্যমে গত ৯ মার্চ রাত ১১টার দিকে বাটামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম, ইউপি সদস্য আবুল কালাম হাওলাদার এবং আনোয়ার হোসেন চুন্নুর নেতৃত্বে তাদের সহযোগীরা তার (নেছার উদ্দিন) চরআলিমাবাদ এলাকার ফসলি জমির মধ্যদিয়ে ভেকু মেশিনের সাহায্যে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে তিনিসহ তার পুত্র আবুল বাশার প্রিন্স সিকদার, চাচাতো ভাই মেজবা উদ্দিন সিকদার, সেকান্দার সিকদারসহ ৭/৮জনে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফসলি জমিতে রাস্তা নির্মাণ কাজে বাঁধা প্রদান করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলামের হুকুমে ইউপি সদস্য আবুল কালাম ও চুন্নু হাওলাদারসহ তাদের সহযোগীরা হামলা চালিয়ে তাকেসহ স্বজনদের মারধর করে আহত করে।

একপর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে হামলাকারীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রকাশ্যে তার পুত্র আবুল কালাম প্রিন্স সিকদারকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি (নেছার উদ্দিন) বাদি হয়ে ১০ মার্চ মুলাদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ১১ মার্চ সন্ধ্যায় আড়িয়াল খাঁ নদীর কাচিরচর-সাহেবেরচর নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে পুলিশ প্রিন্স সিকদারের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়