প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের কষ্ট মাফিয়া নেতারা বুঝেনা: রনি

কেএম হোসেইন : নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা সৎ উপায়ে কত কষ্ট করে সংগঠন করে তা মাফিয়া নেতারা বুঝেনা বলে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। এর আগে কোচিং সেন্টারের মালিককে মারধরের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন নিজের ফেসবুক ওয়ালে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে অব্যাহতি চেয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বরাবরে আবেদন করা কপিটিও (স্ক্রিনশট) বিভিন্ন গণমাধ্যমগুলো প্রকাশ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগ সংগঠনকে বিদায় দিয়েছি।অনেকগুলো কলঙ্ক শরীরে লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতারা। আল্লাহ কে সাক্ষী রেখে বলছি,নিজের পরিবারের আয়ের উৎসের মূলধন ভেঙ্গে রাশেদ ভাইয়ের সাথে ভার্সিটি ভর্তি কোচিং এ যুক্ত হয়েছিলাম।আমার অর্থ আর্থসাত হয়েছে জেনেও ২০ লাখ টাকা উল্টো চাঁদাবাজি মামলা করালেন।

পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান হয়েও মা বাবাকে কখনো ঈদের পোষাক কিনে দিতে পারিনি। অথচ নিচের লেখাগুলো দেখলে বুঝবেন,রাশেদ ঈদের সময়েও কোন টাকা দিতে পারবেনা বলার পরেও চুপ ছিলাম।আমি মেনে নিয়েছি,বাবা হারাম টাকা খাওয়ার অনুমতি দেননি তাই তাদের ঈদ আনন্দ কি হয়েছিলো তা বলবোনা।রাশেদ কে বারবার পরিবারের সমস্যার কথা জানিয়ে আকুতি মিনতি করে বলতাম কেন আমাকে ডেকে এনে টাকা ধার নিয়ে বিপদে ফেলেছে ?কোচিংয়ের অংশীদার হয়েও লাভ লোকসান কেন জানি না? তার উত্তরগুলো পড়লেই জানতে পারবেন।

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা সৎ উপায়ে কত কষ্ট করে সংগঠন করে তা মাফিয়া নেতারা বুঝেনা। কারন আমরা তাদের সম্তানদের মতো কোটি টাকার গাড়ি বিলাস করার সুযোগ পায়নি। রাশেদের শাস্তি তার বিবেক দিবে একসময়। কিন্তু মহামান্য অভিভাবক জেনে শুনে দুই মাস পূর্বের একটি ঘটনাকে অতিরন্জিত করে আমাকে চাঁদাবাজ বানিয়ে কি পেলেন? আমার মতো সাধারন পরিবারের পেটে লাথি পড়েছে, এসবের বিচার প্রার্থনা করার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ সর্বশক্তিমান। হারামের টাকায় অন্ধ মানুষগুলোর জন্য কত মানুষ আজ নি:স্ব হয়েছে তার বিচার দুনিয়াতে না হলেও হাসরের ময়দানে পাবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন নুরুল আজিম রনি। আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে

ই তিনি এ পদ পান। যদিও এর আগে ছাত্রলীগের কোনো গুরুত্বপূর্ণপদ-পদবিতে রনি ছিলেন না। সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়ার পর থেকেই তিনি একের পর এক অঘটন ঘটাচ্ছেন। তার অপকর্ম পুরো সংগঠনের কার্যক্রমকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। হাটহাজারীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কেন্দ্র দখল ও প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে অস্ত্রসহ ধরা পড়েন রনি। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে সাজা দেন। অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রতিবাদে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের নেয়া সুইমিং পুল নির্মাণ প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবস্থানসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে রনি অংশ নেয়। এতে নগর ছাত্রলীগের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। যদিও ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না।সুত্র : ফেসবুক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত