প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘বিয়ের পরে জানতে পারি হাসিন দুই মেয়ের মা’

রবিন আকরাম : ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামি ও তাঁর স্ত্রী হাসিন জাহানের মধ্যে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের পালা চলছেই। যা অব্যাহত বৃহস্পতিবারেও। এরই মাঝে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসকদের কমিটি (সিওএ)-র কাছে হাসিন জাহানের অভিযোগপত্র ও এফআইএর-এর প্রতিলিপি পাঠালেন তাঁর আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার সন্ধেয় নিজের সেরেস্তায় সাংবাদিক সম্মেলন করে হাসিনের আইনজীবী জাকির হুসেন বলেন, ‘‘ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। ইতিমধ্যেই শামির বিরুদ্ধে হাসিনের অভিযোগপত্র ও এফআইআর-এর প্রতিলিপি সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত প্রশাসকদের কমিটির চেয়ারম্যান বিনোদ রাই-এর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’

এ দিন নয়াদিল্লি-তে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতি দমন শাখার প্রধান নীরজ কুমার তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন শামি-কে। শুক্রবার বৈঠক রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের। যেখানে আইপিএল নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে উঠতে পারে শামির প্রসঙ্গ। যে বৈঠকে হাজির থাকতে পারেন আইপিএল-এ শামির দল দিল্লি ডেয়ারডেভিলস-এর কর্তারাও। সেই বৈঠকেই আভাস পাওয়া যেতে পারে শামির এ বার আইপিএল খেলার সম্ভাবনা কতটা। দিল্লি ডেয়ারডেভিলস কর্তারা যদি শামিকে না পাওয়া যায়, তার বিকল্পও খুঁজতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

এরই মাঝে, শামি প্রচারমাধ্যমের কাছে পাল্টা অভিযোগ করেন, ‘‘আগের বিয়ে সম্পর্কে হাসিন আমাকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেছিল। হাসিনের আগের পক্ষের যে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে তা জানতাম না। বিয়ের পরে জানতে পারি। তার আগে আমাকে বলা হয়েছিল ওই দুই কন্যাসন্তান ওর বোনের।’’

যার উত্তরে হাসিনের আইনজীবী বলছেন, ‘‘শামিকে বিয়ের আগে রবীন্দ্রনগরে ভাড়া থাকত হাসিন। সেখানে ও রোজ যেত। হাসিনের আগের বিয়ের ব্যাপারে সব কিছু জেনেই ওকে বিয়ে করেছিল শামি। এখন নিজেকে বাঁচাতে এ সব বলছে।’’

হাসিন এত দিন বলছিলেন যে তাঁকে সংসার খরচের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকার বেশি দেওয়া হতো না। কিন্তু প্রচারমাধ্যমের কাছে শামির অভিযোগ যে, তাঁর ডেবিট কার্ড থেকে বছরে দেড় কোটি টাকা খরচ করেছেন তাঁর স্ত্রী। জবাবে হাসিন বলেন, ‘‘বছরে দেড় কোটি টাকা সংসার চালানোর জন্য যদি শামি দিতো তা হলে তো আর কোনও ত্রুটিই থাকত না।’’

হাসিনের আইনজীবী বলছেন, ‘‘আদালতে ব্যাংক লেনদেন-এর কাগজ পেশ করুন শামি। তা হলেই সব প্রমাণ হয়ে যাবে। এ সব অভিযোগ মিথ্যা।’’

হাসিন এর আগে বলেছিলেন, শামির কোনও সম্পত্তিতে তাঁর কোনও মালিকানা নেই। কিন্তু ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে, গত নভেম্বরেই সিউড়িতে হাসিনের নামে বাড়ি কিনেছিলেন শামি। যার উত্তরে এ দিন হাসিন ও তাঁর আইনজীবীর মন্তব্যে ফারাক লক্ষ্য করা গিয়েছে। হাসিন বলছেন, ‘‘মডেলিং করার সময় আমার টাকা ও চেক জমা করতাম শামির অ্যাকাউন্টে। সেই টাকার সঙ্গে আরও কিছু টাকা যোগ করে ওই বাড়িটা কেনা হয়েছিল।’’

হাসিনের আইনজীবীর বক্তব্য, ‘‘কলকাতায় কাটজুনগরের ফ্ল্যাটে হাসিনের মালিকানা না রেখে কেন সিউড়িতে বাড়ি কিনতে হল? এর পিছনে হাসিন-কে ওখানে ফেলে রাখার ষড়যন্ত্র স্পষ্ট। তদন্তে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।’’

এমনকী, তাঁর দাদার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, এ বার সে ব্যাপারেও প্রচারমাধ্যমে মুখ খুলেছেন শামি। বলেছেন, ‘‘২-৬ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচ ছিল। ৬ ডিসেম্বর ভুবনেশ্বর কুমারের বিয়ের পার্টিতে দিল্লির হোটেলে ছিলাম। পর দিন সকাল সাতটায় হোটেল থেকে বেরিয়ে সাড়ে তিনটে নাগাদ আমার গ্রামের বাড়িতে যাই। বলা হচ্ছে এই দিনেই নাকি আমার দাদা হাসিনকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল। অথচ আমার দাদা আলাদা থাকেন অন্যত্র। তিনি এলেন কী ভাবে?’’ শামি আরও ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন যে, হাসিন তাঁর দাদা-বৌদির সঙ্গে নিজে দেখা করতে গিয়েছিলেন।

যার উত্তর দিতে গিয়ে হাসিন বলছেন, ‘‘ও যা খুশি বলে বলুক। আমার কিছুই যায়-আসে না। তদন্তে সব প্রমাণ হবে।’’

বুধবারও ঝামেলা মেটানোর জন্য চেষ্টা চালিয়েছিলেন শামি। কিন্তু তিনি বলে দিয়েছেন, ‘‘পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে হাসিনের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসার জন্য সব রকমের চেষ্টা করেছি। কিন্তু হাসিন এই ঝামেলা আদালতে নিয়ে যেতে চায়। তার পরেও আমার পরিবারের কয়েকজন সদস্য সাতদিন ধরে কলকাতায় ছিলেন মীমাংসা করার জন্য। কিন্তু হাসিন বা ওর পরিবারের তরফে কোনও উদ্যোগ দেখিনি। যার অর্থ, ঝামেলা মিটমাট হওয়ার কোনও রাস্তা খোলা নেই আর।’’ সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত