প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নামাজের প্রতি সাহাবায়ে কিরামের মনোযোগ

মুহাম্মাদ আবু আখতার : ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ নেক আমল হচ্ছে নামায। অথচ বর্তমানে অধিকাংশ মুসলমান দুনিয়ার বিভিন্ন কাজের অজুহাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সঠিকভাবে আদায়ে চরম অবহেলা করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর যুগে সাহাবীগণ নামাযের সময় হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দুনিয়াবী সব কাজের ব্যস্ততা পরিত্যাগ করে মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে নামায আদায় করতেন। তাদের ব্যাপারেই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তারা এমন লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামায কায়েম করা থেকে এবং যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে। (সুরা নুরঃ ৩৭)
শুধু তাই নয় সাহাবায়ে কিরাম (রা) অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে খুশু-খুজুর সাথে নামায আদায় করতেন। শত্রুর নিক্ষিপ্ত তীরও তাদের নামাযে মনোযোগের ক্ষেত্রে কোন ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারত না। এ সম্পর্কে হজরত জাবের (রা.) একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে জাতুর-রিকা যুদ্ধাভিযানে বের হলাম। তখন এক ব্যক্তি মুশরিকদের এক লোকের সঙ্গীকে হত্যা করে। ফলে ঐ মুশরিক এ মর্মে শপথ করে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত মুহাম্মাদ (সা.) এর কোন সাথীর রক্তপাত না করব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি ক্ষান্ত হব না। অতএব সে নবী (সা.) এর সন্ধানে বেরিয়ে পড়ল।

নবী (সা.) এক জায়গায় অবতরণ করে বললেন, এমন কে আছো, যে আমাদের পাহারা দিবে? তখন মুহাজিরদের থেকে একজন এবং আনসারদের থেকে একজন তৈরি হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, তোমরা দু’জনে গিরিপথের চূড়ায় মোতায়েন থাক। উভয়ে গিরিমুখে পৌছলে মুহাজির লোকটি ঘুমিয়ে পড়েন। আর আনসারী লোকটি দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ে মশগুল হন। এমন সময় ঐ লোকটি এসে আনসারী লোকটিকে দেখেই চিনে ফেলল। সে বুঝতে পারল তিনি (প্রতিপক্ষের) নিরাপত্তা প্রহরী। অতএব সে তাঁর প্রতি একটি তীর নিক্ষেপ করল, যা তার দেহে বিঁধে গেল। তিনি তা বের করে নিলেন। সে একে একে তিনটি তীর নিক্ষেপ করল। তিনি রুকু সিজদা করে (যথারীতি সালাত শেষ করে) সাথীকে জাগালেন। সাহাবীগণ সতর্ক হয়ে গিয়েছেন, এটা টের পেয়ে মুশরিক লোকটি পালিয়ে গেল। মুহাজির সাহাবী আনসার সাহাবীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে বললেন, সুবহানাল্লাহ! প্রথম তীর নিক্ষেপের পরই আমাকে সতর্ক করেননি কেন? তিনি বললেন, আমি (সালাতে) এমন একটি সুরা তিলাওয়াত করছিলাম যা ছাড়তে আমি পছন্দ করিনি। (সুনানে আবু দাউদঃ ১৯৮)

হজরত তালহা (রা.) একজন বিখ্যাত সাহাবী। নামাযের প্রতি মনোযোগে ঘাটতি হওয়ায় তিনি তার প্রিয় বাগান আল্লাহর রাস্তায় দান করে দেন। এ সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর (রা) বলেন, হজরত আবু তালহা আনসারী (রা.) একবার তাঁর এক বাগানে নামায আদায় করতেছিলেন। ইতিমধ্যে একটি ছোট পাখি উড়তে শুরু করল, (বাগান এত ঘন ছিল যে এই ক্ষুদ্র পাখিটি পথ খুঁজে পাচ্ছিল না), তাই পাখিটি এদিক-সেদিক বের হওয়ার পথ খুঁজতে শুরু করল। এই দৃশ্য তার খুব ভাল লাগল। ফলে তিনি কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর নামাযের দিকে মনোযোগ দিলেন। কিন্তু (অবস্থা এই দাঁড়াল) তিনি (তখন) স্মরণ করতে পারলেন না যে, নামায কত রাকআত আদায় করেছেন। তিনি বললেন, এই মাল আমাকে পরীক্ষায় ফেলেছে। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং বাগানে তাঁর সম্মুখে যে পরীক্ষা উপস্থিত হয়েছিল তা বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এই মাল আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করছি। আপনি যেখানে পছন্দ করেন উহা সেখানে ব্যয় করুন। (মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২১৪)

সাহাবায়ে কিরামের এসব ঘটনা হতে শিক্ষা নিয়ে সঠিকভাবে পাঁচওয়াক্ত নামাজ আদায়ে যতœবান হওয়া আমাদের সকলে একান্ত কর্তব্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত