প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৫৭ ধারা ব্যবহারে সাধারণ মানুষের প্রতি নিপীড়ন তৈরি হবে : ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া

ফারমিনা তাসলিম: ৫৭ ধারার আইন বাতিলের প্রস্তাবের বিষয়ে ক্যাম্পেইনার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, নতুন আইনের বিষয়গুলো কতটা স্পষ্ট সেটা প্রশ্নবিদ্ধ। ৫৭ ধারা ব্যবহার হলে সাধারণ মানুষের প্রতি নিপীড়নের জায়গা তৈরি হবে।

বাংলাদেশের ডিজিটাল সুরক্ষা আইনে একটি নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা যাতে আইসিটি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বিলুপ্ত করার প্রস্তাব জানান আইনমন্ত্রী। ৫৭ ধারায় যে অপরাধ বলে বিবেচিত হয় সেগুলোকে আরো বিস্তারিতভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। যদিও ৫৭ ধারা অপব্যবহার হচ্ছে উল্লেখ করে সেটি পুরো বাতিলের দাবি ছিল। তার আরো বিশদ বর্ণনায় নতুন আইনেও কি আগের মতো হয়রানির আশঙ্কা থাকবে ?

এ প্রসঙ্গে জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, নতুন আইনের বিধানগুলো আসলে কতটা নতুন? সেটাই আসলে প্রশ্ন সাপেক্ষ বিষয়। এখন এই একটি ধারার মধ্যে যে বিষয়গুলো ছিল খুবই অস্পষ্ট বিষয় ছিল যে কাউকে আসলে হয়রানি করা সম্ভব হয়েছে। এখন সে একটি ধারার ৭টি অস্পষ্ট বিষয়গুলোর মাধ্যমে যেকোন কাউকে হয়রানি করা সম্ভব হয়েছে। সে একটি ধারার বিষয়গুলোতে যখন ৪টি ধারাতে প্রতিস্থাপন করলেন। তখন আসলে ওই আইনকে বাতিল করে নতুন আইন করেছে ব্যাপারটা আসলে সেই রকম দাঁড়ায় না। অবস্থাটা আসলে জারি থাকবে নতুন আইনেও কোন রকমের পরিবর্তন তো দূরে থাক। আসলেই ব্যাখ্যা বিশ্লেষণহীনভাবে ব্লাংকেট অনেক কিছু বিষয়কে একটি অপরাধের সংজ্ঞায়ন করার একটা দুর্বল চেষ্টা এই আইনের মধ্যে দেখি, বিশেষত আমরা নতুন একটি ধারা ৩২-এটি আমলাদেরকে রক্ষা করা এবং মানুষ যাতে প্রশ্ন তুলতে না পারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে এরকম একটা প্রাথমিক ধারণা এখান থেকে আসে।

তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা ব্যবহার করে সেটা দিয়ে হয়রানি বা অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল বা রয়েছে। নতুন যে প্রস্তাবিত আইনে কি সেটা দূর হবে ?

জবাবে জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, আমার মনে হয় না। একটা বিষয় পরিষ্কার করতে চাই, আমরা প্রায় সময় বলছি ৫৭ ধারার অপব্যবহার হয়েছে। বিষয়টা কিন্তু অপব্যবহারের জায়গাতে নয়। কিন্তু আপনি যখনই বলবেন যে অপব্যবহার হয়েছে তার মানে হচ্ছে ৫৭ ধারা সঠিক ছিল, কিন্তু ব্যবহারের জায়গাটা ভুল ছিল। এরকম একটা ব্যাখ্যাও দাঁড় করা যায়। ৫৭ ধারায় ইনহেরিটলি তার মধ্যে এত উপাদান ছিল যে প্রগেসিভ এবং মানুষকে দমনপীড়নমূলক। ব্যবহার করলেও মানুষকে দমন পীড়নই করা হবে, সেটা আসলে অপব্যবহারের কিছু নয়। একই রকমভাবে নতুন যে আইনী বিধানগুলো করা হলো ধারা ২৫, ২৮, ৩০ এবং ৩১ এর মধ্যে যে উপাদানগুলো আছে সেগুলো কিন্তু ৫৭ ধারারই উপাদান বা আরো বর্ধিতরূপ। এটা ব্যবহার করলে আসলে সাধারণ মানুষের প্রতি নিপীড়নের জায়গাটা তৈরি হবে। এতে অপব্যবহার করার বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক।

কিন্তু বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী বলছেন, প্রস্তাবিত আইনটি ব্যবহার করে হয়রানি না হয় সেটার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার ওই বক্তব্যে আপনারা কি আশ্বস্ত হতে পেরেছেন ?

জবাবে জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, এটা আসলে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে গিয়ে আসলে কিভাবে ব্যবহার হবে। সেটাকে যদি আমরা ৫৭ ধারার অভিজ্ঞতাকে আলোচনা হিসেবে নিই, তাহলে কিন্তু এটা অভিজ্ঞতা কারো জন্য শুভকর নয়। ফলে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বা অপব্যবহার হবে না এধরনের বক্তব্যগুলোকে ’সেইফ রেটোঅ্যাক্ট’ হিসেবে ধরে নিতে চাই।

আপনারা পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। কেন আশ্বস্ত হতে পারছেন না ?

জবাবে জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, আমাদের পূর্বের অভিজ্ঞতায় যা বলে সেটি হচ্ছে এটি কোন রকমভাবে হয়রানিমূলকভাবে ব্যবহার হবে না বলতে আপনি ‘প্রিকোয়েন্সি’ রেখে দিচ্ছেন। আইনের যখন স্ট্যান্ডার্ড কথা বলবেন সেটা শত্রুর জন্য যা মিত্রের জন্যও তা। অন্যদিকে ব্যবহারের জায়গায় সচেতন করা হবে। সেখানে কিন্তু আমার চিন্তাটাকে অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছে ব্যবহারের জায়গায় হচ্ছে ভালো মন্দের বিষয় আইনের জন্য নয়, আইন তো আইনই। মোটেই সেরকম নয়। আইনটাকে যখন টেস্টের প্রশ্ন আসবে ভালো কি মন্দ? সেটার কারণে একটা আইনের ভালো কি মন্দ বিচার করা সম্ভব হয় না। আপনি অন্যকোন মাধ্যমে আইন অবমাননা করেন, তাহলে এর সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ৩ বা ৫ বছর। আপনি ডিজিটাল ফরম্যাটে সে অন্যায় করে থাকেন তাহলে আপনাকে ১৪ বছরের কারাদন্ড এবং ২৫ লাখ টাকার জরিমানা। এই অসমতা আমাদের সংবিধান অনুমতি করে না।

সর্বাধিক পঠিত