শিরোনাম
◈ তিতাসে ৫৯২ কোটি টাকায় নতুন দুই গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা, দৈনিক মিলবে ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস ◈ মিয়ানমারের মাদক সাম্রাজ্যের ভয়ংকর থাবায় বাংলাদেশ ◈ অমিত শাহর যে আদেশের কারণে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারছে না মুম্বাই পুলিশ! ◈ ৯ বছর পর কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল : পূজা আর কার্নিভাল ঘিরে সৈকতে পর্যটকদের ঢল ◈ অভিষেক ম্যাচেই আলিস আল ইসলা‌মের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ ◈ সুন্দরবনের ৫ প্রজাতির মাছ ও ২ প্রজাতির চিংড়ির ডিএনএ সিকোয়েন্স যাচ্ছে আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে ◈ সাজেকে গুলিবর্ষণের ঘটনায় আটকে পড়া ৩ হাজার পর্যটক উদ্ধার: আইএসপিআর ◈ আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েও আফ্রিকার বহু দেশের পেছনে বাংলাদেশ ◈ ক্ষুধা মোকাবিলায় বাংলাদেশের অগ্রগতি, অবনতি ভারত-পাকিস্তানের: ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক ◈ রুমিন ফারহানার নামে ছড়ানো ছবি নিয়ে বিভ্রান্তি, ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে দিলেন ব্যাখ্যা

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৯:২৬ সকাল
আপডেট : ১৩ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৯:২৬ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

১০ হাজার শিশুর শুদ্ধ বাংলা শিখন

ডেস্ক রিপোর্ট : কুড়িগ্রামে ১০ হাজার শিশুকে শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণ শেখাতে এগিয়ে এসেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ। ১৩২টি কমিউনিটি রিডিং ক্যাম্প পরিচালনার মাধ্যমে কুড়িগ্রাম সদর ও উলিপুর উপজেলায় তাদের বাংলা উচ্চারণ শেখানো হচ্ছে।

জানা গেছে, শিশুদের প্রমিত বাংলা উচ্চারণ শেখাতে একটি প্রকল্প হাতে নেয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ। এ প্রকল্পের আওতায় কুড়িগ্রাম সদর ও উলিপুর উপজেলায় ১৩২টি কমিউনিটি রিডিং ক্যাম্প চালু করা হয়। এসব ক্যাম্পে ৯ হাজার ৬৮৮ শিশু পড়া শিখছে। বিদ্যালয়ের বাইরে মুক্ত পরিবেশে, আনন্দের সঙ্গে খেলার ছলে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শুদ্ধ এবং প্রমিত উচ্চারণে বাংলা পড়া শিখছে। একই সঙ্গে প্রতি মাসে আয়োজন করা হয় মা সমাবেশ। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার টাপুরচর কমিউনিটি রিডিং ক্যাম্পে দেখা গেছে, ২০ থেকে ২৫ হাত লম্বা এবং ১০ হাত প্রশস্থ একটি জায়গায় চারদিকে দড়ির সঙ্গে বিভিন্ন রঙিন পোস্টার সমৃদ্ধ উপকরণ দিয়ে ঘেরা মাঝখানে রঙিন ম্যাটে ৩০ শিশু ইউ আকৃতিতে বসে ক, খ, গ, ঘ জোরে জোরে উচ্চারণ করে পড়ছে। সামনে আছে একটি ধ্বনি চার্ট। এটি দেখে দেখে একজন পড়ছে, অন্যরা তার সঙ্গে পড়ছে। সুমি নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, তারা সপ্তাহে তিন দিন এখানে স্কুল ছুটির পর পড়তে আসে। অপর এক শিক্ষার্থী রোহান জানায়, আপা আমাদের নিয়ে গান করে, গল্প শোনায়, আমরা জোরে পড়ি।

১ মিনিট করে প্রত্যেকে বইয়ের পড়া পড়ে আপাকে শোনাই, পড়তে গিয়ে আমাদের যার যেখানে সমস্যা, আপা সেখানে সহযোগিতা করেন। শিলা ও সিহাব জানায়, আমরা খুব আনন্দের সঙ্গে, খেলতে খেলতে পড়তে শিখি। এ বিষয়ে টাপুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্পনা রানী জানান, কমিউনিটি রিডিং ক্যাম্প হলো বিদ্যালয়ের বাইরে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিশুদের বাংলা পড়তে শেখার একটি উপযুক্ত স্থান; যা প্রকারান্তরে বিদ্যালয়কেই সহায়তা করছে।

অল্প দিনের মধ্যে আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুদ্ধভাবে বাংলা উচ্চারণ করতে পারছে, পড়তে পারছে। শিশুদের বাংলা পঠন দক্ষতায় ধারাবাহিক উন্নয়ন হওয়ায় তারা এখন প্রত্যেকেই বিদ্যালয়মুখী হয়েছে। আর এ কারণে বিদ্যালয়ে শিশু অনুপস্থিতির হার কমেছে এবং বাংলা বিষয়ে নম্বর প্রাপ্তির হারও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ স্কুলের অভিভাবক আফরোজা বেগম বলেন, আমার বাচ্চাকে আগে প্রাইভেট পড়াতাম। এখন আর প্রাইভেট পড়াতে হয় না। তারা এখানে একা একাই পড়া শিখছে।

মা রেশমা ইয়াসমিন বলেন, আমার মেয়ে শিলা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়লেও ভালোভাবে রিডিং পড়তে পারত না। এখন শুদ্ধ উচ্চারণ পারে। প্রকল্পের সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার নাসিম উদ্দিন জানান, আরডিআরএস বাংলাদেশ রিড প্রকল্পটির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের বাইরে মুক্ত পরিবেশে, আনন্দের সঙ্গে, খেলার মাধ্যমে শিশুরা এখন শুদ্ধ ও প্রমিত উচ্চারণে বাংলা পড়তে শিখছে।

এখানে শিশুরা মুক্ত খেলা ও নাম স্বাক্ষর, গানের সময়, আমরা যাযা করব, গল্প বলা, মূল কাজ, হাতে-কলমে কাজ, সাময়িকী উন্নয়ন ও লেখা অনুশীলন এবং অনানুষ্ঠানিক মূল্যায়নÑ এ আটটি ধাপে বাংলা পঠন দক্ষতা উন্নয়নে নিজেদের সমৃদ্ধ করছে। এখানে শিশুরা একদিকে যেমন শুদ্ধ উচ্চারণে বাংলা পড়তে শিখছে; অন্যদিকে তেমনি পড়ার খেলা, ছড়া ও কবিতা আবৃতি, গান ও নাচের মাধ্যমে সাংস্কৃতিকভাবে নিজেদের দক্ষতার উন্নয়ন করার সুযোগ পাচ্ছে। আলোকিত বাংলাদেশ

  • সর্বশেষ