প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সোনালীর গলার কাঁটা হলমার্ক কেলেঙ্কারি

ডেস্ক রিপোর্ট : বহুল সমালোচিত হলমার্ক গ্রুপের প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির ঘানি এখনো টানছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। সেই অভিশাপ থেকে দ্রুত নিস্তার পেতে চায় ব্যাংকটি। গত ৩০ নভেম্বর হলমার্ক গ্রুপ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থঋণ বা দেওয়ানি আদালতে করা মামলাগুলোর সর্বশেষ বিবরণ এবং দ্রুত নিষ্পত্তিতে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে বিবরণী পাঠানো হয়েছে।

ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিবরণীতে বলা হয়েছে, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য শাখা, জেনারেল ম্যানেজার’স অফিস এবং প্রধান কার্যালয়ের লিগ্যাল ম্যাটার্স ডিভিশন মামলাগুলোর নিবিড় মনিটরিং করছে। এ ছাড়া মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, মামলার কার্যক্রমে আদালতে সশরীরে উপস্থিত থেকে মামলার কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার জন্য শাখা থেকে একজন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার পদমর্যাদার কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

জানা গেছে, জালিয়াতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩২টি। এর মধ্যে ২৮ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ২৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ৩ হাজার ১৪১ কোটি টাকা। হোটেল শেরাটন শাখার দায়দেনা রয়েছে এ রকম হলমার্ক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ১৮ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সোনালী ব্যাংক।

হোটেল শেরাটন শাখার দায়দেনা রয়েছে এ রকম হলমার্কের বাইরের প্রতিষ্ঠান ১১টি। এর মধ্যে ১০টির বিরুদ্ধে ১১টি মামলা করেছে ব্যাংক। ২৯টি মামলার মধ্যে অর্থঋণ আদালতে ২৪, মানি মোকদ্দমা ৫ এবং শুধু নন ফান্ডেড দায়ের কারণে মামলা করা হয়নি ৪টি।

জানা গেছে, ব্যাংকের করা মামলার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে বিবরণীতে। সেখানে বলা হয়েছে, হলমার্ক এক্সেসরিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ৯২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৮৫ টাকার দাবি করে অর্থঋণ মামলা করে ব্যাংক। গত ২৩ নভেম্বর নিলামের দিন ঠিক ছিল। কিন্তু কোনো বিডার পাওয়া যায়নি।
হলমার্ক স্টাইল লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ১৮ লাখ ৬ হাজার ৯৫৮ টাকার দাবি করে অর্থঋণ আদালতে মামলা করে সোনালী ব্যাংক। ১১ এপ্রিল নিলাম ডাক ছিল। কিন্তু বিডার পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ১০ আগস্ট ভোগ দখলের সনদ ইস্যু করা হয়েছে। হলমার্ক প্যাকেজিংয়ের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে এক কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ৫৫৮ টাকার মামলা করা হয়।

ববি ডেনিমস কম্পোজিটের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৯২ লাখ ৯২ হাজার ১১৩ টাকার মামলা করা হয়। গত ২৩ নভেম্বর নিলামের দিন ঠিক ছিল। কিন্তু কোনো বিডার পাওয়া যায়নি। ওয়ালমার্ট ফ্যাশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে ২২৬ কোটি ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৭ টাকার মামলা করে ব্যাংক। ১২ এপ্রিল নিলাম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিডার পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ১০ আগস্ট ভোগ দখলের সনদ ইস্যু করা হয়। গত ২৩ নভেম্বর ফের নিলাম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিডার পাওয়া যায়নি।

হলমার্ক ফ্যাশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৪৫০ কোটি ৮৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৫৯ টাকার মামলা করে সোনালী ব্যাংক। মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে। ববি ফ্ল্যাটবেড প্রিন্টিং লিমিটেডের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি ৬২ লাখ ৮ হাজার ৮২৩ টাকার মামলা হয়। ১২ এপ্রিল নিলাম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিডার পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ১০ আগস্ট ভোগ দখলের সনদ ইস্যু করা হয়। গত ২৩ নভেম্বর ফের নিলাম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিডার পাওয়া যায়নি।

ম্যাক্স স্পিনিং মিলসের বিরুদ্ধে ৭৫৫ কোটি টাকার মানি মামলা হয়। মামলাটি আরবিট্রিশন আদালতে বদলি হয়েছে। নতুন তারিখ নির্ধারণ হয়নি। আনোয়ার স্পিনিং মিলসের বিরুদ্ধে ৬৮২ কোটি টাকার মানি মামলাটি আরবিট্রিশন আদালতে বদলি করা হয়েছে। নতুন তারিখ নির্ধারণ হয়নি।

ফারহান ফ্যাশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৭৩৭ টাকার মামালার নিষ্পত্তি হয়ে সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে। হলমার্ক ডেনিমস কম্পোজিট লিমিটেডের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ৩৭ লাখ ৭৭ হাজার ৯৯৫ টাকার অর্থঋণ আদালতে মামলায় ২২ জুন নিলামের শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। ভোগ দখলের সনদ ইস্যু হয়েছে। গত ১৪ নভেম্বর নিলামের দিন ছিল। কিন্তু বিডার পাওয়া যায়নি।

হলমার্ক নিট কম্পোজিট লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৫২ হাজার ৩৩৮ টাকার মামলার ২৮ জুন নিলামের শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। ভোগ দখলের সনদ ইস্যু করা হয়েছে। গত ২৩ নভেম্বর নিলামের দিন ছিল। কিন্তু বিডার পাওয়া যায়নি।

জিসান কম্পোজিট লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ১২ লাখ ৫৮ হাজার ৮৬১ টাকার মামলা হয়। ১৮ এপ্রিল নিলামের শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। ১৮ আগস্ট ভোগ দখলের সনদ ইস্যু করা হয়। গত ২৩ নভেম্বর নিলামের দিন ছিল। কিন্তু বিডার পাওয়া যায়নি। পারফেক্ট এমব্রয়ডারির বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৬৫ লাখ ১১ হাজার ৬৮৪ টাকার মামলা করে সোনালী ব্যাংক। ৫ জানুয়ারি নিলাম ডাকা হলেও বিডার পাওয়া যায়নি। ১৪ নভেম্বর ভোগ দখলের সনদ ইস্যু করা হয়েছে। হলমার্ক নিটিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৫৬ লাখ ১৬ হাজার ৯৪২ টাকার মামলা করা হয়। এটি নিষ্পত্তি হয়ে নিলামের দিন ধার্য হয়। কিন্তু বিডার পাওয়া যায়নি। ববি ফ্যাশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৩০ কোটি ৪০ লাখ ৬৩ হাজার ৯৯৯ টাকার মামলা করে ব্যাংক। মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে নিলামের দিন ধার্য হয়। কিন্তু বিডার পাওয়া যায়নি। হলমার্ক ডিজাইন ওয়্যার লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৬০ কোটি ৪০ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৭ টাকার মামলা করে সোনালী ব্যাংক। মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে নিলামের দিন ধার্য হয়। কিন্তু বিডার পাওয়া যায়নি। হলমার্ক স্পিনিং মিলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৯৮ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার ৬৮৯ টাকার মামলার নিষ্পত্তি হয়ে নিলামের দিন ধার্য হয়। কিন্তু বিডার পাওয়া যায়নি। আগামী ১৮ জানুয়ারি ৩৩(৫) ধারায় পদক্ষেপ নেওয়ার দিন ধার্য আছে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল শাখা থেকে ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেডসহ মোট ৩ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হলমার্ক ও তার পাঁচ সহযোগী প্রতিষ্ঠান। জালিয়াতির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক হলমার্ক গ্রুপের যেসব ভুয়া বিলে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তা কিনে দেশের ৪১টি ব্যাংক বিপাকে পড়ে।

সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত