প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অশ্লীলতা-নির্লজ্জতা সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ : মানুষের দুটি চোখ আছে। এটা আল্লাহপর বিশেষ একটি নিয়ামত। আসলে যাদের দুইটি চোখ নেই তারাই বুঝতে পারে আসলে দুইটি চোখের মূল্য ঠিক কতটা। প্রত্যেকটা মানুষের কর্তব্য হলো এই চোখের হেফাজত করা। চোখকে সকল প্রকার গুনাহের কাজ থেকে মুক্ত রাখা। ইন্টারনেটের কল্যাণে আজ আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি। অনেক কিছুই আমরা খুব সহজে পেয়ে যাচ্ছি। এটা ঠিক। কিন্তু ইন্টারনেট ও ইউটিউবের কারণে অনেকেই বিপথে ধাবিত হচ্ছে। ইচ্ছায়, অনিচ্ছায় ইউটিউবে বিভিন্ন প্রকার অশ্লীল ভিডিও দেখছে এবং এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। যা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই খারাপ। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ ন্যায়-নীতি, পরোপকার ও আত্মীয়-স্বজনদের দান করার হুকুম দেন এবং অশ্লীল-নির্লজ্জতা ও দুষ্কৃতি এবং অত্যাচার-বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে তোমরা শিক্ষালাভ করতে পারো। (সূরা-আন নাহর, আয়াত-৯০)

ওপরের এই আয়াতে তিনটি সৎ কাজের মোকাবিলায় আল্লাহ তিনটি অসৎ কাজ করতে নিষেধ করেন। এ অসৎকাজগুলো ব্যক্তিকে এবং সমগ্র সমাজের পরিবেশকে খারপ করে দেয়। পথমটি হচ্ছে অশ্লীলতা। সব রকমের অশালীন, কদর্য ও নির্লজ্জ কাজ এর অন্তরভুক্ত। এমন প্রত্যেকটি খারাপ কাজ যা স্বভাবতই কুৎসিত, নোংরা, ঘৃণ্য ও লজ্জাকর তাকেই বলা হয় অশ্লীলতা যেমন কৃপণতা, ব্যভিচার উলংগতা, সমকামিতা ও শরাব পান ইত্যাদি। এভাবে সকলের সামনে বেহায়াপনা ও খারাপ কাজ করা এবং খারাপ কাজকে ছড়িয়ে দেয়াও অশ্লীলতা-নির্লজ্জতার অন্তরভুক্ত। যেমন মিথ্যা প্রচরণা, মিথ্যা দোষারোপ, গোপন অপরাধ জন সমক্ষে বলে বেড়ানো, অসৎকাজের প্ররোচক গল্প, নাটক ও চলচ্চিত্র, উলংগ চিত্র, মেয়েদের সাজগোজ করে জনসমক্ষে আসা নারী পুরুষ প্রকাশ্যে মেলামেশা এবং মঞ্চে মেয়েদের নাচগান করা ও তাদের শারীরিক অংগভংগীর প্রদর্শনী করা ইত্যাদি। এই কাজগুলো মূলত সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, নিশ্চিতভাবে সফলকাম হয়েছে মু’মিনরা। যারা নিজেদের নামাজে বিনয়াবনত হয়। বাজে কাজ থেকে দূরে থাকে। যাকাতের পথে সক্রিয় থাকে। নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। নিজেদের স্ত্রীদের ও অধিকারভুক্ত বাঁদীদের ছাড়া, এদের কাছে (হেফাজত না করলে) তারা তিরষ্কৃত হবে না। তবে যারা এর বাইরে আরো কিছু চাইবে তারাই হবে সীমালংঘনকারী। (সূরা-মুমিন, আয়াত-১-৭)
অন্য একটি আয়াতে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, নবী ! মু’মিন পুরুষদের বলে দাও তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহের হেফাজত করে। এটি তাদের জন্য বেশী পবিত্র পদ্ধতি। যা কিছু তারা করে আল্লাহ তা জানেন। (সূরা-আন নূর, আয়াত-৩০)

হযরত বুরাইদাহ বর্ণনা করেছেন, নবী (সা.) হযরত আলীকে (রা) বলেন, হে আলী! এক নজরের পর দ্বিতীয় নজর দিয়ো না ৷ প্রথম নজর তো ক্ষমাপ্রাপ্ত কিন্তু দ্বিতীয় নজরের ক্ষমা নেই। (আহমাদ,তিরমিযী, আবু দাউদ, দারেমী)
আল্লাহর নবী (সা.) দৃষ্টিকে ইবলীসের বিষাক্ত তীরগুলোর মধ্যে একটি তীর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং দৃষ্টির বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক ভূমিকা পালন করতে হবে। যারা দিনের পর দিন অশ্লীল ছবি বা ভিডিও দেথে তারা অবশ্যই বড় গুনাহে লিপ্ত। এমনি তারা জিনার মত বড় অপরাধে লিপ্ত।

ব্যভিচারের শাস্তি হাদিস শরিফ থেকে : রাসূল (সা.) বলেছেন, আমি স্বপ্নে একটি চুলা দেখতে পেলাম যার উপরের অংশ ছিল চাপা আর নিচের অংশ ছিল প্রশস্ত আর সেখানে আগুন উত্তপ্ত হচ্ছিল, ভিতরে নারী পুরুষরা চিল্লাচিল্লি করছিল। আগুনের শিখা উপরে আসলে তারা উপরে উঠছে, আবার আগুন স্তিমিত হলে তারা নিচে যাচ্ছিল, সর্বদা তাদের এ অবস্থা চলছিল, আমি জিবরীল (আ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? জিবরাইল (আ.) বললেন, তারা হল, অবৈধ যৌনচারকারী নারী ও পুরুষ। (আল-বুখারী)

যারা অশ্লীল কাজ করে এবং যারা এই সকল অশ্লীল কাজ দেখে আনন্দ উপভোগ করে তারাও সমানভাবে গুনাহের অংশীদার হবে। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে সকল প্রকার অন্যায় কাজ থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন। এবং দৃষ্টিকে হেফাজত করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত