শিরোনাম
◈ সংবিধানে বড় রদবদলের পথে সরকার, আজ বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক ◈ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ◈ খোলাবাজার থেকে ব্যাংক—সবখানেই বাড়ছে ডলারের দাম ◈ আম-কাঁঠাল থেকে কোটি টাকার সম্ভাবনা: ফুড প্রসেসিংয়ে বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র, বাড়ছে উদ্যোক্তা ও রপ্তানির সম্ভাবনা ◈ ব্যানার বিতর্কে বেরোবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ, তিন ঘণ্টা উত্তপ্ত ক্যাম্পাস (ভিডিও) ◈ দেশে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ◈ চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত ৩ উপজেলা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী ◈ বাংলাদেশিদের নতুন সতর্কবার্তা দিল মার্কিন দূতাবাস ◈ ‘অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে’ ◈ সম্পত্তি দান করলেও জীবদ্দশায় ভোগদখলের অধিকার থাকবে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

প্রকাশিত : ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০৭ রাত
আপডেট : ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খোলাবাজার থেকে ব্যাংক—সবখানেই বাড়ছে ডলারের দাম

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির মধ্যেও খোলাবাজারে ডলারের দরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে কয়েকটি মানি এক্সচেঞ্জে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রতি ডলার ১২৬ থেকে ১২৬ টাকা ৪০ পয়সা দরে কিনছেন মানি চেঞ্জাররা। আর বিক্রি করছেন ১২৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৮০ পয়সায়। এক মাস আগে খোলাবাজারে ডলারের দর ছিল ১২৫ থেকে ১২৫ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে।

অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে খোলাবাজারে ডলারের দাম প্রায় দেড় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি বিলের চাপ, রপ্তানি আয়ে ধীরগতি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের সাময়িক কমতির কারণে স্বল্পমেয়াদে ডলারের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি অব্যাহত থাকা এবং বাজারে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। আমদানি বিল পরিশোধের জন্য মার্কিন ডলারের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, খোলাবাজার-সবখানেই ডলারের দরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে বাড়ছে ডলারের দাম। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গতকাল আন্তব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের বিনিময়হার ছিল ১২৩ টাকা ৮১ পয়সা। একই দিনে স্পট মার্কেটে ডলার লেনদেন হয়েছে ১২৩ টাকা ৭৭ পয়সায়। এক মাস আগে স্পট মার্কেটে ডলারের দর ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এলসি দায় পরিশোধে কোনো কোনো ব্যাংককে প্রতি ডলারের জন্য ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় কমে যাওয়া এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে সাম্প্রতিক ধীরগতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ডলারের বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশে আমদানি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে রপ্তানি আয় প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। আমদানি ব্যয় বাড়ার সঙ্গে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে আমদানি দায় মেটাতে ব্যাংকগুলোর ডলারের চাহিদা বেড়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে জ্বালানি, সারসহ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ব্যয়ও বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ডলারের চাহিদায়। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স প্রবাহেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠালেও ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার পর মাসভিত্তিক প্রবাহ কমেছে। টানা ছয় মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার পর জুনে তা কমে ২৮২ কোটি এবং জুলাইয়ে ২৮৬ কোটি ডলারে নেমেছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে রেমিট্যান্স প্রবাহে এ সাময়িক কমতি বাজারে ডলারের সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি করেছে। ডলারের দর নিয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা ও দর বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে সম্প্রতি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সব চ্যানেলে আন্তব্যাংক লেনদেন, রেমিট্যান্স সংগ্রহসহ প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা দরে কেনার সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়