শিরোনাম
◈ দুই গোলে এগিয়ে থেকেও থাইল‌্যা‌ন্ডের কা‌ছে হারলো বাংলাদেশ নারী দল ◈ তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ◈ ওকে লাথি মেরে বের করে দিন: নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে যুদ্ধে পাঠানোর দাবি স্টিভ ব্যাননের ◈ বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি: ইরানি রাষ্ট্রদূত ◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: জ্বালানি সংকটে প্রথমে ফুরিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ! ◈ শিশুশিল্পী লুবাবার বিয়ে আইনত বৈধ কি না, বাল্যবিবাহের দায়ে কী শাস্তি হতে পারে? ◈ মহানগর এলাকার সরকারি প্রাথমিকেও আসছে অনলাইন ক্লাস ◈ এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে কড়াকড়ি, কর্মকর্তাদেরও চাকরি হারানোর ঝুঁকি ◈ চলতি অর্থ বছরের ৩১৮.৬৩৯ কি.মি. খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে : পানি সম্পদ মন্ত্রী  ◈ চাহিদার চাপে তেলশূন্য পাম্প—নিয়ন্ত্রণে ঢাকায় চালু হচ্ছে পরীক্ষামূলক ‘ফুয়েল পাস’

প্রকাশিত : ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:১৩ রাত
আপডেট : ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভূমিকম্পে মৃত্যু: ছেলেকে হারিয়ে নিজেকেই দায়ী করছেন মা নিপা

‘আমারই দোষ, আমার কারণেই ছেলেটা মারা গেছে। আমি কেন যে ওকে সঙ্গে নিয়ে মাংস কিনতে গেলাম। ওকে বকা দিয়ে বাসায় রেখে গেলেই এমন হতো না। আমার ছেলেটা আজ বেঁচে থাকত।’ সন্তানের মৃত্যুর জন্য এভাবেই নিজেকে দায়ী করছিলেন নুসরাত জাহান নিপা। 

শুক্রবার ঢাকায় ভূমিকম্পে ভবনের ছাদের রেলিং পড়ে মারা যায় তার ছেলে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম রাফি। একই ঘটনায় নিপাও গুরুতর আহত হন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতির আশঙ্কায় ছেলের মৃত্যুর ২৮ ঘণ্টা পর শনিবার বিকেলে তাকে খবরটি জানানো হয়।

রাফির দূর সম্পর্কের মামা শাহরিয়ার মেহফুজ জানান, ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিপা। কিছুক্ষণ পরপরই তিনি অচেতন হয়ে পড়ছিলেন। তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের নিউরোসায়েন্স বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে শনিবার ভোর ৫টার দিকে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে গ্রামের বাড়ি বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন স্বজনরা। সেইসঙ্গে আলাদা অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয় রাফির মরদেহ। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা বগুড়া শহরে পৌঁছান। এরপর নিপাকে শজিমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে বাদ জোহর বগুড়া শহরের নামাজগড়ে রাফির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তার স্বজন ছাড়াও সহপাঠী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন। পরে বিকেল ৩টার দিকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানাতে যান নিকটজনদের একটি দল। ছেলেকে নিয়ে শঙ্কায় থাকা মা এবার হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। পরে জ্ঞান হারান। সবাই নানাভাবে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। চাচা মামুন মোর্শেদ টুলু নিজের একমাত্র সন্তান হারানোর ঘটনা উল্লেখ করে তাকে শক্ত থাকার অনুরোধ জানান। ২০২০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে সাব্বির সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। নিপা কিছুটা ধাতস্থ হলে তাকে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখতে দেওয়া হয়। পরে বাদ আসর নামাজগড় কবরস্থানে রাফিকে দাফন করা হয়।
 
এর আগে শুক্রবার ছুটির দিনে মায়ের কাছে মাংস খাওয়ার আবদার করেন ২১ বছর বয়সী রাফি। ফ্রিজে মাংস না থাকায় মা–ছেলে বাসা থেকে বের হন। পুরান ঢাকার বংশালের কসাইটুলী এলাকায় তাদের বাসা। অদূরেই নয়নের মাংসের দোকান। সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার সময় ভূমিকম্পে পাশের ভবনের ছাদের রেলিং ভেঙে পড়ে। এতে মা–ছেলে দুজনই আহত হন। তাদের মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক রাফিকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় মাংস কিনতে যাওয়া বাবা–ছেলের মৃত্যু হয়। তারা হলেন– কাড় ব্যবসায়ী আবদুর রহিম (৪৫) ও তার ছেলে মেহরাব হোসেন রিমন (১১)। উৎস: সমকাল।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়