শিরোনাম
◈ আদালতের আদেশ তো শিক্ষার্থীদের পক্ষেই, তাহলে কার বিপক্ষে আন্দোলন: ওবায়দুল কাদের ◈ গণতন্ত্রের জন্যও শিক্ষার্থীদের লড়াই করার আহ্বান আমির খসরুর ◈ চাল কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা, সবজি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে ◈ কোটাবিরোধীরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা শনিবার ◈ ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা ◈ আনোয়ারা-ফৌজদারহাট পাইপলাইন মেরামত সম্পন্ন, কমবে গ্যাস সংকট ◈ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরে বাংলাদেশ, ভারত ও চীন তিনদেশই খুশি ◈ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটালে বরদাশত করা হবে না: ডিএমপি কমিশনার ◈ কোটা আন্দোলনকারীরা ঘরে ফিরে যাবে বলে আশাবাদ আইনমন্ত্রীর ◈ অতি বৃষ্টিতে রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় হাঁটুপানি, জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল, ২০২৩, ০৪:৪৯ দুপুর
আপডেট : ১৭ এপ্রিল, ২০২৩, ০১:২১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিবিএস-ইউনিসেফ জরিপ  

১৩ শতাংশ পথশিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, ৬ শতাংশ এতিম বাকিরা মাটিতে ঘুমায়

জাফর খান: পথশিশুরা চরম দারিদ্র্য, অপুষ্টি, রোগ, নিরক্ষরতা, সহিংসতাসহ নানা বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে আর এই নিয়ে শোচনীয় পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে ' সার্ভে অন স্ট্রিট চিলড্রেন ২০২২' শীর্ষক জরিপে। ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এই জরিপ প্রতিবেদনটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। ইউনিসেফ ওয়েবসাইট 

ইউনিসেফ প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ - রাজধানী ঢাকা ও দেশের আটটি বিভাগের হটস্পটে (যেসব স্থানে পথশিশুর চলাচল বেশি) ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৭ হাজার ২০০ শিশুর তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে জরিপ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। তবে জরিপে রাস্তা-ঘাটে বসবাসকারী শিশুদের মোট সংখ্যা না দেওয়া থাকলেও ইউনিসেফ বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এ সংখ্যাটি ১০ লক্ষেরও অধিক হতে পারে।

আর যেসব শিশু তাদের পরিবারসহ বা ছাড়া বসবাস বা জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে বেশিরভাগ সময় রাস্তায় কাটিয়ে থাকেন তাদেরকে রাস্তা-ঘাটে বসবাসকারী শিশু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এই শিশুদের বেশিরভাগই ছেলে (৮২ শতাংশ) এবং তাদের বেশিরভাগ দারিদ্র্যের কারণে বা কাজের সন্ধানে রাস্তায় আসে। তবে যারা এতিম অথবা তাদের বাবা-মা বেঁচে আছে কিনা তা তাদের জানা নেই।

এই শিশুদের প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় একজন (৩০ শতাংশের বেশি) জীবনের সবচেয়ে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা যথা- ঘুমানোর জন্য বিছানা-পত্র, নিরাপত্তা ও স্বস্তির জন্য দরজা বন্ধ করে রাখা যায় এমন একটি ঘর থেকে বঞ্চিত রয়েছে বলেও জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি তারা জনপ্রকাশ্য বা খোলা জায়গায় বাস করে ও ঘুমায়। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক শিশু মাটিতে ঘুমায় শুধু একটি পাটের ব্যাগ, শক্ত কাগজ, প্লাস্টিকের টুকরো বা একটি পাতলা কম্বলকে সম্বল করে।

অন্যদিকে, প্রায় ৭ শতাংশ শিশু সম্পূর্ণ ঘুমিয়ে থাকে একা ও ১৭ শতাংশ শিশু কয়েকজন একসাথে মিলে ঘুমানোর মাধ্যমে সুরক্ষা ও স্বস্তির সন্ধানে থাকে। শিশুদের প্রতি সহিংসতার প্রতি তিনটি ঘটনার একটি (৩০ দশমিক ৪ শতাংশ) রাতে তাদের ঘুমের সময় ঘটে থাকে।

পথশিশুরা নানারকমের লজ্জাজনক পরিস্থিতির পাশাপাশি অনেকরকমের নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকছে। ১২ বছর বয়সী হাবিব নামে এক শিশু বলেন, আমরা যখন ঘুমাতে যাই লোকেরা আমাদের দিকে লক্ষ্য করে পানি ছুড়ে মারে। এটা অত্যন্ত কষ্টের। সরকারের সামাজিক কার্যক্রমের আওতায় সাহায্য পাওয়ার আগ পর্যন্ত সে ও তার মা  রাস্তায় ঘুমাতেন। 

আরেকদিকে জীবিকা উপার্জনের জন্য এসব শিশুদেরকে ছটবেলা থেকেই করতে হয় জীবন সংগ্রাম। এদের বেশিরভাগ ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ, ভিক্ষাবৃত্তি, কলকারখানা ও চায়ের দোকানে কাজ করে থাকেন। অধিকাংশ শিশু সপ্তাহে  ৩০ থেকে ৪০ ঘন্টা কাজ করে ১ হাজার টাকারও (১০ ডলারের কম) আয় করে থাকেন। জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকের বেশি জানান,  জরিপের আগে তিন মাসে মধ্যে তারা অসুস্থ হয়েছিল। এসময় তারা জ্বর, কাশি, মাথাব্যাথা ও পানিবাহিত রোগে ভুগে থাকেন। রাস্তায় বসবাসরত শিশুদের প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন (৭১ দশমিক ৮ শতাংশ) শিশু লিখতে ও পড়তে পারেনা। 

এই বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘প্রতিবেদনে উঠে আসা পথশিশুদের এই বাস্তব চিত্র পথশিশুদের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নীতি প্রণয়ন ও কর্মসূচি গ্রহণে সহায়ক হবে।’

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মি. শেলডন ইয়েট বলেছেন, ‘প্রতিবেদনে উঠে আসা বিষয়গুলো বেদনাদায়ক। এই বিষয়গুলো কেবল আমাদের কাজ করার জায়গাগুলো দেখিয়ে দেয়না, রাস্তায় বসবাস ও কাজ করা শিশুদের জন্য আমাদের সহানুভূতি এবং সহায়তার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।’

জেকে/এসবি২

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়