শিরোনাম
◈ ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে বিভ্রান্তি, আবেদন করে রিজেক্ট হচ্ছেন অনেকে, জুন শেষে চালুর আশায় ঢাকা ◈ জ্বালানি সংকটের শঙ্কা নেই: মে মাসে আমদানি ৫ লাখ টনের বেশি ◈ ভারতের মধ্যপ্রদেশে ভোজশালা–কামাল মাওলা মসজিদকে সরস্বতী মন্দির ঘোষণা হাইকোর্টের ◈ বাংলা‌দে‌শের কা‌ছে টেস্ট হা‌রের পর পাকিস্তান দলকে আইসি‌সি মোটা অঙ্কের জরিমানা কর‌লো ◈ হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু ◈ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ঢুকে ধ্বংস হচ্ছে ফসল, বাড়ছে খাদ্যসংকটের শঙ্কা, বিপন্ন উপকূলীয় মানুষের জীবন ◈ মিসাইল ছোড়া ছাড়াই ইরান চুক্তি সফল করেছিলাম: বারাক ওবামা ◈ প্রবল বাতাস ৫০ ফুট উঁচুতে উড়িয়ে নিয়ে গেল টিনের চালাসহ এক ব্যক্তিকে, ভাঙল হাত-পা (ভিডিও) ◈ উপদেষ্টার কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন হয়ে ২০২৪ সালেই প্রশ্ন তুলেছিলাম: তাসনিম জারা ◈ সব ধরনের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশিত : ১৫ মে, ২০২৬, ০৩:৫০ দুপুর
আপডেট : ১৬ মে, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গোল, গতি আর জাদুকরী ড্রিবলিং—এদুয়ার্দোকে নিয়ে কেন এত মাতামাতি

ব্রাজিলের নতুন বিস্ময়বালক কে এই এদুয়ার্দো

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে বিস্ময়বালকের অভাব কখনোই ছিল না। পেলে, রোনালদো, নেইমার থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে এন্দ্রিক কিংবা এস্তেভাও; প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে সাম্বার দেশ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আরেক কিশোর এদুয়ার্দো কনসেইসাও এর নাম।

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তাকে ঘিরে ইউরোপের জায়ান্ট ক্লাবগুলোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বার্সেলোনা, পিএসজি, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আর্সেনাল ও চেলসির মতো ক্লাব নাকি ইতোমধ্যেই নজর রাখছে পালমেইরাসের এই তরুণ ফরোয়ার্ডের দিকে। অথচ এখনও সিনিয়র দলের হয়ে অভিষেকই হয়নি তার।

পালমেইরাসের ‘বিলিয়ন জেনারেশন’ এর নতুন সদস্য: ব্রাজিলের ক্লাব ফুটবলে পালমেইরাস একাডেমি এখন যেন তারকা তৈরির কারখানা। এন্দ্রিক, এস্তেভাও, লুইস গিলহার্মে, ভিতর রেইস কিংবা লুইঘিদের নিয়ে তৈরি হয়েছিল ‘বিলিয়ন জেনারেশন’। যাদের ট্রান্সফার থেকেই ক্লাবটি শত শত মিলিয়ন ইউরো আয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। সেই তালিকায় এখন যোগ হচ্ছে এদুয়ার্দোর নামও।
 
২০০৯ সালের ৭ ডিসেম্বর সাও পাওলোতে জন্ম নেয়া এদুয়ার্দোর ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় বাবার কাছ থেকেই। ছোটবেলায় স্থানীয় লিগ ও একাডেমিতে খেলতে খেলতেই এক কোচ তাকে পালমেইরাসে ট্রায়ালের সুযোগ করে দেন। মাত্র চার দিনের ট্রায়ালেই কোচদের মন জয় করে নেয় ছোট্ট ছেলেটি। এরপর থেকেই পালমেইরাস একাডেমির অংশ সে।
 
বয়সের চেয়ে বড় মঞ্চে ঝড়: খুব অল্প সময়েই বোঝা যায়, পালমেইরাস নতুন এক রত্ন খুঁজে পেয়েছে। বয়সভিত্তিক প্রতিটি স্তরে নিজের সামর্থ্যের ছাপ রেখে এগিয়ে যেতে থাকে এদুয়ার্দো। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাকে সুযোগ দেয়া হয় ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্ট ‘কোপা সাও পাওলো দে ফুটবল জুনিয়র’-এ। সেখানেই শুরু হয় বড় বিস্ফোরণ। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেই চার গোল করার পাশাপাশি আরও তিনটি গোলে সহায়তা করে আলো কাড়ে এ তরুণ। তার গতিময়তা, ড্রিবলিং আর গোল করার ক্ষমতায় মুগ্ধ হয়ে যায় দর্শক ও স্কাউটরা।
 
এরপরই পালমেইরাস তাকে দীর্ঘমেয়াদি পেশাদার চুক্তিতে বেঁধে ফেলে। শুধু তাই নয়, তার চুক্তিতে রাখা হয় ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম বড় ১০০ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ।
  
ব্রাজিলের জার্সিতেও নজরকাড়া: ক্লাব পর্যায়ের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এদুয়ার্দো জায়গা করে নেয় ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-১৭ দলে। দক্ষিণ আমেরিকা চ্যাম্পিয়নশিপে বলিভিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলের জয়ে গোল করে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই। পরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও গোল পেয়ে যায়। যদিও ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি, তবু নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট এই কিশোর। এখন তার চোখ কাতারে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে।
 
ড্রিবলিংয়ে মুগ্ধতা, গোলেও ধার: এদুয়ার্দোর সবচেয়ে বড় শক্তি তার ওয়ান-অন-ওয়ান স্কিল। প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠার সহজাত ক্ষমতা তাকে আলাদা করে তুলেছে। নিজেই বলে, সে ড্রিবল করতে, গতিতে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলতে এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আক্রমণ গড়তে ভালোবাসে। ডান পায়ে স্বচ্ছন্দ হলেও বাঁ পায়েও গোল করতে পারে। ফলে আক্রমণভাগের প্রায় সব পজিশনেই খেলতে সক্ষম এ কিশোর। অনেকেই তার মধ্যে দেখতে পাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিউস জুনিয়রের ছায়া।
 
অবশ্য বয়সের কারণে কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে এদুয়ার্দোর খেলায়। অনেক সময় অতিরিক্ত ড্রিবল করতে গিয়ে সহজ পাস দেয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে। তবে পালমেইরাস একাডেমির প্রধান জোয়াও পাওলো সাম্পাইও নিয়মিত তাকে সিদ্ধান্ত নেয়ার উন্নতি নিয়ে কাজ করাচ্ছেন। সাম্পাইওর মতে, প্রতিভা থাকলেও সফল হতে হলে প্রতিদিন লড়াই করতে হবে। কারণ এখন থেকেই এদুয়ার্দোর ওপর বাড়তি নজর ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
  
নেইমার নন, এদুয়ার্দোর অনুপ্রেরণা এন্দ্রিক: ছোটবেলায় নেইমারকে আদর্শ মানলেও বর্তমানে এদুয়ার্দোর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা এন্দ্রিক। তার ভাষায়, ‘পালমেইরাসের জন্য এন্দ্রিক যা করেছে, তা ছিল অসাধারণ।’ তবে খেলার ধরনে অনেকেই তাকে তুলনা করছে এস্তেভাও কিংবা স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের সঙ্গে। দ্রুত গতি, ড্রিবলিং আর ব্যক্তিগত স্কিলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা; এই মিল থেকেই এমন তুলনা। যদিও এদুয়ার্দো নিজে তুলনায় বিশ্বাসী নন। তার লক্ষ্য একটাই, নিজস্ব পরিচয়ে বিশ্ব ফুটবলে জায়গা করে নেয়া।
 
ইউরোপে যাওয়ার অপেক্ষা: পালমেইরাস ইতোমধ্যেই তার জন্য ২০ থেকে ২৫ মিলিয়ন ইউরোর দুটি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। ক্লাবটির আশা, ভবিষ্যতে আরও বড় অঙ্কে বিক্রি করা যাবে এই তরুণকে। তবে নিয়ম অনুযায়ী ১৮ বছর হওয়ার আগে ইউরোপে পাড়ি দিতে পারবে না এদুয়ার্দো। তাই অন্তত আরও দুই বছর ব্রাজিলেই থাকতে হবে তাকে। আর সেটাই যেন চায় সে নিজেও।  কারণ এখন তার একটাই স্বপ্ন, পালমেইরাসের সিনিয়র দলে অভিষেক। তারপর নিজের নামটাকে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের পরবর্তী মহাতারকাদের তালিকায় স্থায়ীভাবে লিখে ফেলা। তথ্যসূত্র: গোলডটকম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়