শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৪:৪৫ সকাল
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৮:১৬ রাত

প্রতিবেদক : শাখাওয়াত মুকুল

হার্ডলাইনে যাচ্ছে বিএনপি, হামলা-মামলার জবাব রাজপথেই

বিএনপি

শাখাওয়াত মুকুল: নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে রাজপথে অনড় বিএনপি। দলটির শর্ষি পর্যায়ের নেতারা বলছেন, যতই হামলা মামলা নির্যাতন করা হোক না কেন রাজপথে আন্দোলনে আরও হার্ডলাইনে যাবে তারা। ২০১৪, ২০১৮ সালের নির্বাচনের মত আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দিবে না। তবে, আগামী নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েছে পুরনো মামলায়। মামলা ও গ্রেফতারের ভয়ও রয়েছে তাদের। হামলা-মামলাকে উপেক্ষা করেই তারা রাজপথে থাকবে। 

২১ সেপ্টেম্বর মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরে বিএনপির সমাবেশের পূর্বে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একদিন পর হাসপাতালে মারা যান যুবদল নেতা শহীদুল ইসলাম শাওন। এ ঘটনায় আহত হন বিএনপির শতাধিক নেতা কর্মী। ওই দিনগত রাতে বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা এবং ভয়ভিতির অভিযোগ করেছে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপি নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন শাওনের রক্তের প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না। তাদের একদফা এক দাবি শেখ হাসিনা সরকারের পতন। এই দাবিতে রাজপথে তীব্র  আন্দোলন চালিয়ে যাবে তারা।  

এদিকে, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থেকে এমনও বার্তা দেওয়া আছে যে সরকারের দমন পীড়ন হামলা-মামলা মোকাবিলা করেই তাদের রাজপথে টিকে থাকতে হবে। কোনভাবেই তারা পিছু হটবেনা। হার্ডলাইনে থেকেই তাদের এগোতে হবে। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা ছাড়া দেশে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি তারপর নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ভোলা থেকে মুন্সিগঞ্জ যে চারজন শহীদ হয়েছেন। তাদের বিচার হবেই। তবে এই সরকারের কাছে বিচার চাইবোনা। আর কোন প্রতিবাদ করবোনা। এখন থেকে রাজপথেই প্রতিরোধ করা হবে। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্দোলন-সংগ্রাম, রক্তপাত বিএনপির জন্য নয়। এই সংগ্রাম জাতির জন্য। জাতি আজ সঙ্কটে পড়েছে। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই।  

তিনি বলেন, রক্ত দেখিয়ে হত্যা করে, গুম করে, ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেনা। তাদের ত্রাসের রাজত্ব আর বেশি দিন থাকবেনা। মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ভোলায় চারজন নেতাকে হত্যার ঘটনায় দেশে এখন গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে। এই অভ্যুত্থান আর থামাতে পারবে না। এই অভ্যুত্থান চলবে।  

গত আগস্ট মাস থেকে নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। দলটির বিক্ষোভ কর্মসূচীতে ২২ আগস্ট ভোলায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন  স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আ: রহিম ও ছাত্রদলের সভাপতি নূরে আলম। এরপর দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালিতে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহত হন যুবদল কর্মী মো: শাওন। সবশেষ ২১ সেপ্টেম্বর মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একদিন পর হাসপাতালে মারা যান যুবদল নেতা শহীদুল ইসলাম শাওন।  

বিএনপির অভিযোগ প্রত্যেকটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে বিনা উস্কানিতে হামলা করেছে পুলিশ ও আওয়ামীলীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ। অবৈধভাবে পুলিশ গুলি চালিয়ে তাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে। 

এদিকে, ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্লবীতে বিএনপির সমাবেশের পূর্বে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে পুলিশ-যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগ। এতে করে বিএনপির অর্ধশতাধীক নেতাকর্মী আহত ও ৮জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় বিএনপির দেড়শতাধিক নেতাকর্মীর নামে মামলা করে পুলিশ। ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার বনানীতে মোমবাতি প্রজ্জ¦লন কর্মসূচীতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। এতে আহত হন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মোয়জ্জেম হোসেন আলাল ও গুরুতর আহত হন নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। এর তিন দিন পর ২১ সেপ্টেম্বর মুন্সিগঞ্জে সমাবেশের পূর্বে  নেতা কর্মীদের ওপর পুলিশ গুলি চালিয়ে সভা পণ্ডু করে। মাথায় গুলিবিদ্ধ হন শাওন। ২২ সেপ্টেম্বর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ২৩ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়