শিরোনাম
◈ রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪০২ ◈ আরামদায়ক ট্রেনভ্রমণে ছিনতাই-ডাকাতির আতঙ্ক ◈ সাত দেশনির্ভর বৈদেশিক কর্মসংস্থান, নতুন শ্রমবাজারে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ ◈ ২৬ ফেব্রুয়া‌রি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব শুরু হচ্ছে, অংশ নিচ্ছে ১০ দল ◈ গেইল-আ‌ফ্রিদি‌দের ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ লিজেন্ড ক্রিকেট ৩ অ‌ক্টোবর শুরু ◈ শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরের পথে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর ◈ ইন্টারন্যাশনাল টি-২০'র নিলামে দল পেলেন না বাংলাদেশের কো‌নো ক্রিকেটার ◈ রূপপুরের প্রথম ইউনিটের নতুন ইউরেনিয়াম দেশে পৌঁছেছে ◈ এল নিনোর প্রভাবে ফুলে ফুলে সেজেছে আতাকামা মরুভূমি (ভিডিও) ◈ ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতি, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি

প্রকাশিত : ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২, ০১:২৭ রাত
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২, ০১:২৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিপ্লবী সাহিত্যের আসর ও কবি : স্মৃতি সত্তরের দশক

আফসান চৌধুরী

আফসান চৌধুরী: [১] সত্তরের দশকের কোনো এককালে একটি গোপন বাম পার্টি এক সাহিত্য সভার আয়োজন করে। তারা বাইরের লোক হিসেবে আমাকে দাওয়াত করে। প্রথম বলেছিলো, আদমজী জুট মিলে হবে। পরে ঠিকানা পাল্টে এটা হয় কাটাবন বস্তিতে। আমি যাই উপেক্ষা করতে না পেরে। [২] ৮/১০ মানুষ বসা, এর মধ্যে সদ্য জেল থেকে ছাড়া পাওয়া এক লোক ছিল। ৩০-এর কাছাকাছি বয়স। বললো, আত্মজীবনী লিখছে। আরেকজন নর্থ বেঙ্গল থেকে পালিয়ে আশা। চুপচাপ বসে সবাইকে দেখেছিলো। যাই হোক, যিনি দাওয়াত করেছিলেন তিনি দলের কালচারাল সেক্রেটারির মতো, সবাইকে বললেন বেশি হাল্লা-গোল্লা না করতে। লোক সন্দেহ করলে পুলিশ এলে বিপদে হবে সবার। আমি ভাবছিলাম, এরকম আয়োজনে দু’একজন নারী থাকলে ভালো হতো, সবার সন্দেহ কম হতো। 

[৩] যাই হোক কয়েকজন তাদের লেখা পড়লো, শুনলাম, সবাই বাহবা দিলো, আমি ছোট একটু আধটু কমেন্ট করলাম। তারপর সেই আত্মজীবনী লেখা মানুষটি তার ছড়া শোনালো। একটু মনে আছে, এক দুই লাইন। ‘ওই বুর্জোয়া শালা/তুই একটি দানব কালা। তোরে দিমু লাথি আর ডলা /শালা বুর্জোয়া শালা।’

[৪] এটা শুনে সবাই হাততালি দিলো, কিন্তু আমার ভালো লাগেনি। বললাম, এটা শ্লোগান হতে পারে, কিন্তু ছড়া হিসাবে অতো ভালো না। ওই লোক তো মহা আগুন। বলে আমি নিজেই বুর্জোয়া তাই পছন্দ হয়নি। অমনি আমার মেজাজ গেলো খারাপ হয়ে। দিলাম ঝাড়ি, সেও দিলো... আয়োজক ঝগড়া থামিয়ে চা-মুড়ির খাবার অর্ডার দিয়ে বলে, এই ছড়া বিচার করার জন্য তারা বিশেষ কমিটির কাছে পাঠাবে। সবাই এতে খুশি। [৫] চা খেতে খেতে সেই নীরব মানুষটিকে আয়োজক বললো, ‘আপনি তো লেখেন, শোনান না কিছু?’ কিছুটা বিব্রত ভাব নিয়ে সে একটা ছোট কবিতা পড়ে। দুই তিন লাইন মনে আছে।

[৬] এখন ভোর/কমরেডরা যাবে ক্ষেতে কাজ করতে/কারো হাতে কাস্তে, কারো হাতে পিস্তল/নারী কমরেড শাড়ির অঞ্চলে খাবার বাঁধে এই সকালে/সারাদিন তো আহার নেই তার। ঘরের সামনের পুকুরে হাঁসগুলা নীরবে সাঁতরায় যেন জলের পাখি/আলো নামে আমাদের কোমুনে। আমার পছন্দ হয়, আমিসহ সবাই খুব হাততালি দিই। লোকটা তেমনি বিব্রত চেহারায় বসে থাকে কিছু না বলে। 

[৭] কয়েক বছর পর তাকে আবার দেখি ইউনিভার্সিটি চত্বরে। তার মানসিক বৈকল্য। হাতে একটা কবিতার বই, খুব বাজেভাবে ছাপা। ওই পাড়ায় দু’একজন তাকে চিনতো, আমাকে চিনতে পারে। একটা বই দেয়। ওই কবিতাটা তাতে ছিল। কেউ না কেউ তাকে খাওয়াতো, চা সিগারেট দিতো। সারা দিন বসে থাকতো। একদিন এক ঠেলা গাড়ির শ্রমিকদের সাথে সেও হাত মেলায়, ঠেলতে ঠেলতে কোথায় হারিয়ে যায়। লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

  • সর্বশেষ