শিরোনাম
◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক ◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম ◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে ◈ ইরান অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা, আর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও ◈ স্বামী-সন্তান কানাডা প্রবাসী, সেই মিরপুরেই মিলল আরেক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ ◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ◈ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ◈ তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮.৫° সেলসিয়াস, আজও ঝড়-বৃষ্টির আভাস ◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার

প্রকাশিত : ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২, ০১:২৭ রাত
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২, ০১:২৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিপ্লবী সাহিত্যের আসর ও কবি : স্মৃতি সত্তরের দশক

আফসান চৌধুরী

আফসান চৌধুরী: [১] সত্তরের দশকের কোনো এককালে একটি গোপন বাম পার্টি এক সাহিত্য সভার আয়োজন করে। তারা বাইরের লোক হিসেবে আমাকে দাওয়াত করে। প্রথম বলেছিলো, আদমজী জুট মিলে হবে। পরে ঠিকানা পাল্টে এটা হয় কাটাবন বস্তিতে। আমি যাই উপেক্ষা করতে না পেরে। [২] ৮/১০ মানুষ বসা, এর মধ্যে সদ্য জেল থেকে ছাড়া পাওয়া এক লোক ছিল। ৩০-এর কাছাকাছি বয়স। বললো, আত্মজীবনী লিখছে। আরেকজন নর্থ বেঙ্গল থেকে পালিয়ে আশা। চুপচাপ বসে সবাইকে দেখেছিলো। যাই হোক, যিনি দাওয়াত করেছিলেন তিনি দলের কালচারাল সেক্রেটারির মতো, সবাইকে বললেন বেশি হাল্লা-গোল্লা না করতে। লোক সন্দেহ করলে পুলিশ এলে বিপদে হবে সবার। আমি ভাবছিলাম, এরকম আয়োজনে দু’একজন নারী থাকলে ভালো হতো, সবার সন্দেহ কম হতো। 

[৩] যাই হোক কয়েকজন তাদের লেখা পড়লো, শুনলাম, সবাই বাহবা দিলো, আমি ছোট একটু আধটু কমেন্ট করলাম। তারপর সেই আত্মজীবনী লেখা মানুষটি তার ছড়া শোনালো। একটু মনে আছে, এক দুই লাইন। ‘ওই বুর্জোয়া শালা/তুই একটি দানব কালা। তোরে দিমু লাথি আর ডলা /শালা বুর্জোয়া শালা।’

[৪] এটা শুনে সবাই হাততালি দিলো, কিন্তু আমার ভালো লাগেনি। বললাম, এটা শ্লোগান হতে পারে, কিন্তু ছড়া হিসাবে অতো ভালো না। ওই লোক তো মহা আগুন। বলে আমি নিজেই বুর্জোয়া তাই পছন্দ হয়নি। অমনি আমার মেজাজ গেলো খারাপ হয়ে। দিলাম ঝাড়ি, সেও দিলো... আয়োজক ঝগড়া থামিয়ে চা-মুড়ির খাবার অর্ডার দিয়ে বলে, এই ছড়া বিচার করার জন্য তারা বিশেষ কমিটির কাছে পাঠাবে। সবাই এতে খুশি। [৫] চা খেতে খেতে সেই নীরব মানুষটিকে আয়োজক বললো, ‘আপনি তো লেখেন, শোনান না কিছু?’ কিছুটা বিব্রত ভাব নিয়ে সে একটা ছোট কবিতা পড়ে। দুই তিন লাইন মনে আছে।

[৬] এখন ভোর/কমরেডরা যাবে ক্ষেতে কাজ করতে/কারো হাতে কাস্তে, কারো হাতে পিস্তল/নারী কমরেড শাড়ির অঞ্চলে খাবার বাঁধে এই সকালে/সারাদিন তো আহার নেই তার। ঘরের সামনের পুকুরে হাঁসগুলা নীরবে সাঁতরায় যেন জলের পাখি/আলো নামে আমাদের কোমুনে। আমার পছন্দ হয়, আমিসহ সবাই খুব হাততালি দিই। লোকটা তেমনি বিব্রত চেহারায় বসে থাকে কিছু না বলে। 

[৭] কয়েক বছর পর তাকে আবার দেখি ইউনিভার্সিটি চত্বরে। তার মানসিক বৈকল্য। হাতে একটা কবিতার বই, খুব বাজেভাবে ছাপা। ওই পাড়ায় দু’একজন তাকে চিনতো, আমাকে চিনতে পারে। একটা বই দেয়। ওই কবিতাটা তাতে ছিল। কেউ না কেউ তাকে খাওয়াতো, চা সিগারেট দিতো। সারা দিন বসে থাকতো। একদিন এক ঠেলা গাড়ির শ্রমিকদের সাথে সেও হাত মেলায়, ঠেলতে ঠেলতে কোথায় হারিয়ে যায়। লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়