শিরোনাম
◈ ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে ১২০০ কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ, ‘ইকোনমিক হিটম্যান’ তকমা নিয়ে যা বললেন আশিক চৌধুরী ◈ অ্যাপস ভিত্তিক রাইড পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের তথ্য চুরির দাবি, মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে ৪ লাখ ডলার ◈ শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো, ডিসেম্বরে চূড়ায় উঠতে পারে; প্রভাব থাকতে পারে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ◈ ‘বাবা, তারা আমাকে আটকে রেখেছে উদ্ধার করো, না হলে ওরা মেরে ফেলবে’—শেষ ফোনের কয়েক ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার ◈ বিশ্বের সেরা দুই শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাকৃবির ১৬ গবেষক ◈ ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভের আগে ভারতজুড়ে কর্মী-সমর্থকদের আটক করা হচ্ছে, ‘আরও মানুষ রাজপথে নামবে’: অভিজিৎ দীপকে ◈ বাংলাদেশে ফ্রি ট্রেড জোন ও রেলভিত্তিক আইসিডিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ◈ বাংলাদেশে স্টারলিংকের মোবাইল সেবা চালু নিয়ে উচ্ছ্বাস ইলন মাস্কের, ক্ষোভ ঝারলেন ভারতের ওপর ◈ রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির অনুমোদন, গ্রিডে বিদ্যুৎ আসতে আরও দুই ধাপ ◈ ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের আহ্বান বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের

প্রকাশিত : ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২, ০১:২৭ রাত
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২, ০১:২৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিপ্লবী সাহিত্যের আসর ও কবি : স্মৃতি সত্তরের দশক

আফসান চৌধুরী

আফসান চৌধুরী: [১] সত্তরের দশকের কোনো এককালে একটি গোপন বাম পার্টি এক সাহিত্য সভার আয়োজন করে। তারা বাইরের লোক হিসেবে আমাকে দাওয়াত করে। প্রথম বলেছিলো, আদমজী জুট মিলে হবে। পরে ঠিকানা পাল্টে এটা হয় কাটাবন বস্তিতে। আমি যাই উপেক্ষা করতে না পেরে। [২] ৮/১০ মানুষ বসা, এর মধ্যে সদ্য জেল থেকে ছাড়া পাওয়া এক লোক ছিল। ৩০-এর কাছাকাছি বয়স। বললো, আত্মজীবনী লিখছে। আরেকজন নর্থ বেঙ্গল থেকে পালিয়ে আশা। চুপচাপ বসে সবাইকে দেখেছিলো। যাই হোক, যিনি দাওয়াত করেছিলেন তিনি দলের কালচারাল সেক্রেটারির মতো, সবাইকে বললেন বেশি হাল্লা-গোল্লা না করতে। লোক সন্দেহ করলে পুলিশ এলে বিপদে হবে সবার। আমি ভাবছিলাম, এরকম আয়োজনে দু’একজন নারী থাকলে ভালো হতো, সবার সন্দেহ কম হতো। 

[৩] যাই হোক কয়েকজন তাদের লেখা পড়লো, শুনলাম, সবাই বাহবা দিলো, আমি ছোট একটু আধটু কমেন্ট করলাম। তারপর সেই আত্মজীবনী লেখা মানুষটি তার ছড়া শোনালো। একটু মনে আছে, এক দুই লাইন। ‘ওই বুর্জোয়া শালা/তুই একটি দানব কালা। তোরে দিমু লাথি আর ডলা /শালা বুর্জোয়া শালা।’

[৪] এটা শুনে সবাই হাততালি দিলো, কিন্তু আমার ভালো লাগেনি। বললাম, এটা শ্লোগান হতে পারে, কিন্তু ছড়া হিসাবে অতো ভালো না। ওই লোক তো মহা আগুন। বলে আমি নিজেই বুর্জোয়া তাই পছন্দ হয়নি। অমনি আমার মেজাজ গেলো খারাপ হয়ে। দিলাম ঝাড়ি, সেও দিলো... আয়োজক ঝগড়া থামিয়ে চা-মুড়ির খাবার অর্ডার দিয়ে বলে, এই ছড়া বিচার করার জন্য তারা বিশেষ কমিটির কাছে পাঠাবে। সবাই এতে খুশি। [৫] চা খেতে খেতে সেই নীরব মানুষটিকে আয়োজক বললো, ‘আপনি তো লেখেন, শোনান না কিছু?’ কিছুটা বিব্রত ভাব নিয়ে সে একটা ছোট কবিতা পড়ে। দুই তিন লাইন মনে আছে।

[৬] এখন ভোর/কমরেডরা যাবে ক্ষেতে কাজ করতে/কারো হাতে কাস্তে, কারো হাতে পিস্তল/নারী কমরেড শাড়ির অঞ্চলে খাবার বাঁধে এই সকালে/সারাদিন তো আহার নেই তার। ঘরের সামনের পুকুরে হাঁসগুলা নীরবে সাঁতরায় যেন জলের পাখি/আলো নামে আমাদের কোমুনে। আমার পছন্দ হয়, আমিসহ সবাই খুব হাততালি দিই। লোকটা তেমনি বিব্রত চেহারায় বসে থাকে কিছু না বলে। 

[৭] কয়েক বছর পর তাকে আবার দেখি ইউনিভার্সিটি চত্বরে। তার মানসিক বৈকল্য। হাতে একটা কবিতার বই, খুব বাজেভাবে ছাপা। ওই পাড়ায় দু’একজন তাকে চিনতো, আমাকে চিনতে পারে। একটা বই দেয়। ওই কবিতাটা তাতে ছিল। কেউ না কেউ তাকে খাওয়াতো, চা সিগারেট দিতো। সারা দিন বসে থাকতো। একদিন এক ঠেলা গাড়ির শ্রমিকদের সাথে সেও হাত মেলায়, ঠেলতে ঠেলতে কোথায় হারিয়ে যায়। লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

  • সর্বশেষ