শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর, ২০২২, ০৫:৩১ সকাল
আপডেট : ০৪ অক্টোবর, ২০২২, ০৫:৩১ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্মরণের জানালায়, ‘তোয়াব ভাই’

অজয় দাশগুপ্ত

অজয় দাশগুপ্ত: সিডনির এবারের পূজা উৎসবের সূচনাতেই মনভাঙ্গা একটি সংবাদ পেলাম। জনকণ্ঠের কিংবদন্তি সম্পাদক, দেশবরেণ্য সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব তোয়াব খানের মৃত্যুতে প্রবাসের সুধী মহলেও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। সিডনির মেলব্যাগ নামের এই কলামটি আমি লিখতে শুরু করি ২০০২ সাল থেকে। যার মানে কুড়ি বছর ধরে এই কলামটি ছাপা হয়ে আসছে। শুরুতে যখন এর নাম নির্ধারণ করার সময় হয়েছিল তখন জনকণ্ঠের বিভাগীয় সম্পাদক ছিলেন প্রয়াত শিশু সাহিত্যিক শ্রদ্ধাভাজন এখলাস উদ্দীন আহমেদ। এখলাস ভাই আমাকে সবসময় তাঁর স্নেহের ছায়ায় রেখে বড় করেছেন। ছড়া লেখার কাল থেকে কলাম লেখক হবার পেছনে জনকণ্ঠ আর এখলাস ভাইয়ের ভূমিকা বিশাল। তাঁর নির্দেশ মতো আমি তোয়াব খানকে একটা চিঠি বা অনুরোধপত্র লিখে পাঠাই। তখন না ছিল মোবাইলের রমরমা, না এতো ডিজিটাল মাধ্যম। এদেশে আসার পর সবাই যখন বিশাল বিশাল টিভি সেট আর বাহারী সব আসবাবপত্র কিনে জীবন  গোছাতে ব্যস্ত তখন আমি কিনেছিলাম একটি ফ্যাক্স মেশিন। সে  ফ্যাক্স মেশিনের কাজ ছিল জনকণ্ঠ সংবাদসহ নানা মিডিয়ায় লেখা পাঠানো। সেই চিঠিখানি পড়ে তোয়াব ভাই অনুমতি দিতে দেরী করেননি। এখলাস ভাই সে রাতেই ফোন করে জানিয়ে দিয়েছিলেন তখনকার জনপ্রিয়তম ভিন্ন ধারার দেনিক জনকণ্ঠ প্রতি সোমাবার এই কলাম ছাপতে চলেছে।

কী লিখব বা কীভাবে লিখব সেটা মাথায় পোক্ত হবার ভেতরেই গড়ে উঠেছে আস্থা আর বিশ্বাসের ভিত্তি। কত মানুষ, কত বিভাগীয় সম্পাদক এলেন গেলেন কিন্তু তোয়াব খান তো হিমালয় সমান এক মানুষ। তিনি যা বলতেন বা করতেন তা তাঁর মতোই অটল অনঢ়। সিডনির মেলব্যাগ তখন এখানকার জীবনযাত্রা আর নবাগত বাঙালিদের সমস্যা সম্ভাবনা নিয়ে আবর্তিত হবার কারণে তারুণ্যের ভেতর এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে এদেশে পড়তে আসা বা অভিবাসন নিয়ে আসা অনেক তরুণ তরুণীর মুখে শুনেছি তাদের এদেশে আসার ব্যাপারে সিডনির মেলব্যাগ কী প্রভাব ফেলেছিল।

তোয়াব খান আমাদের দেশের সংবাদপত্র জগতের একজন দিকপাল। নানা ক্রাইসিস মোমেন্টে তাঁর ব্যক্তিত্ব ও মেধা সংবাদপত্রকে সাহস ও ভরসা যুগিয়েছে। মনে পড়ে বিএনপি আমলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলার দিন তাঁর সাধে কথা হয়েছিল। ব্যথিত ও জ্বলে ওঠা তোয়াব খান কতটা আগাত পেয়েছিলেন তা পরদিন তখনকার জনকণ্ঠ দেখলেই বোঝা সম্ভব। ওয়ান ইলেভেনের সময় জনকণ্ঠকে টার্গেট করে তার বিভিন্ন ফ্লোরে তালা ঝুলানোর সময় ও বাহিনীর মানুষজন তোয়াব খানের সাথে আচরণে ছিল সংযত। কারণ তারা জানতো তিনি কে এবং কি তাঁর ব্যক্তিত্ব। আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন সে সময়েও আমার নেওয়া শেখ রেহানার সাক্ষাৎকারটি প্রথম পাতায় ছাপিয়ে দেশের মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন মিডিয়া কী করতে পারে।

তোয়াব খানের চলে যাওয়া দেশের জন্য মিডিয়ার জন্য কতটা অপূরণীয় তার হিসেব করবে সময়। কিন্তু এটা নিশ্চিত তাঁর প্রয়াণ বাংলাদেশিদের ভেতর বিষাদের ছায়া নামিয়েছে। বহু মানুষ দেশে বিদেশে নীরবে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর পাশাপাশি মনে মনে স্মরণ করছে এই কৃতি মানুষটিকে। জনকণ্ঠের অতীত ও সাফল্যের সাথে ছায়ার মতো জড়িয়ে থাকা তাঁকে জানাই সশ্রদ্ধ অভিবাদন।

বলছিলাম পূজা বা শারদ উৎসবের কথা। এই উৎসব দেশের মতো বিদেশে ও বাঙালির অন্যতম প্রাণের উৎসব। তাই দেশ ভালো ধাকলে উৎসব নিরাপদ থাকলে বিশ্ববাঙালিও নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে উৎসব। গত বছরের ঘটনার পর নানা ধরনের শঙ্কা আর ভয় কাজ করছিল মনে মনে। কিন্তু আনন্দ আর উৎসব কি তা মানে? তার কাজ হচ্ছে নদীর মতো বয়ে যাওয়া। বাঙালির দুর্গাপূজা এখন আর হিন্দুদের পূজায় সীমাবদ্ধ নাই। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে তা হলেও মূলত এর সাথে জড়িয়ে গেছে শিল্প সংস্কৃতি ও জীবনবোধ। সে বোধের অন্যতম প্রতীক দুর্গা। যিনি একদিকে দেবী অন্যদিকে নারী শক্তি বা উইমেন এমপাওয়ারমেন্টের মূর্ত প্রতিমা। শুভ শারদীয়া। সিডনি থেকে আগাম বিজয়ার শুভেচ্ছা। লেখক ও কলামিস্ট

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়