শিরোনাম
◈ ইরান–সংঘাত থামাতে কিছু দেশের মধ্যস্থতার চেষ্টা: পেজেশকিয়ান ◈ জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে আতঙ্ক, যে বার্তা দিলেন জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ◈ কূটনীতিকদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা ◈ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশসহ বিশ্বে যেসব প্রভাব পড়তে পারে ◈ দেশের সব ব্যাংকের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি নির্দেশনা ◈ জ্বালানি সংকটের আতঙ্কে স্টেশনে ভিড়, সরবরাহে শর্ত দিল সরকার ◈ ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা ◈ দলীয় এমপিদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান ◈ নারী এ‌শিয়া কা‌পে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫ গো‌লে হার‌লো বাংলাদেশ  ◈ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্কুলে হামলার জন‌্য দায়ী : রয়টার্স 

প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল, ২০২৪, ০২:৩৭ রাত
আপডেট : ১৬ এপ্রিল, ২০২৪, ০২:৩৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বুয়েটে রাজনীতি নেই এটা একটা গুজব, বাস্তবতা কী?

কাবেরী গায়েন

কাবেরী গায়েন: বুয়েটে রাজনীতি নেই এটা একটা গুজব। বাস্তবতা হলো: [১] বুয়েটে রাজনীতি আছে। যদি সাদা মনের মানুষের মতও বলি, তবুও মিথ্যা নয় যে বিরাজনীতিকরণ এক প্রবল রাজনীতি। কোনো না কোনো ক্ষমতাবানের পক্ষে সেই বিরাজনৈতিক রাজনীতি কাজ করে।

[২] আর অ-সাদা মনের মানুষ হয়ে বললে, রাজনীতি নাই বলে কিছু কোথাও থাকা সম্ভব না। স্বাভাবিক রাজনীতি না থাকা মানে কার্পেটের নীচে রাজনীতি থাকা। বুয়েটের কোথায় কোথায় রাজনীতি চলছে, এটা যারা না বোঝেন বা না বোঝার ভান করেন তারা কত বড় নাদান, নতুবা কতবড় ভন্ড সেটাই ভাবছি।

[৩] বুয়েটে  রাজনীতি চলছে। তবে সেই রাজনীতি অদৃশ্য। আবরার হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগের অপরাধের জন্য যদি ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে দিতে হয়, তবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই বন্ধ করা দরকার। জাতীয় রাজনীতিও বন্ধ করা হোক। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় রাজনীতি এখন অপরাজনীতির খোলা হাট। ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগ সেখানে ফাঁকা মাঠ দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে, আর আছে অদৃশ্য শক্তি হঠাৎ হঠাৎ যারা শাপলা চত্ত্বর জাতীয় সমাবেশ করতে সক্ষম।

[৪] বরং ছাত্রলীগ এবং হিযবুত তাহরির পাল্টাপাল্টি অপ-রাজনীতির বিপরীতে শিক্ষার্থীদের শিরদাঁড়া নিয়ে প্রকৃত ছাত্ররাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান কাক্সিক্ষত ছিলো। [৫] বুয়েট একসময় ছাত্র ইউনিয়নের ঘাঁটি ছিলো। আজকের ছাত্রইউনিয়নসহ প্রগতিশীল বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর সেই দায়িত্ব নেওয়া জরুরি ছিলো অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। অথচ এই ফেসবুকে ঘুরছে তথাকথিত বাম দাবি করা কিছু লোকজনের হতবাক করা কথাবার্তা যে ছাত্ররাজনীতি চালু করার পক্ষে মতামত দেওয়া না  কি আওয়ামী লীগের দালালি করা। রিয়েলি? তার মানে ছাত্রলীগের অপরাজনীতির বিরুদ্ধে না দাঁড়িয়ে তাদের আর হিযবুত তাহরির খেলাধূলার জন্য মাঠ ফাঁকা করে দেওয়াই কর্তব্য? এসব তত্ত্ব কোন স্কুল থেকে আসে?

যে এলাকায় স্পষ্ট সুস্থ রাজনীতি নেই, সেই এলাকা নষ্ট রাজনীতির ভাঁড়ার ঘর। আমাদের দেশে তো অবশ্যই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতি যত কমজোরি হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নির্যাতন ততোই বেড়েছে। সব সরকারের আমলে। আর এখন ‘প্রগতিশীল’ নামধারী কিছু ছাত্রসংগঠন এবং তাদের অভিভাবকরা এই অপরাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়িয়ে রাজনীতিই বন্ধ করার তত্ত্ব কপচাচ্ছেন। কী ভয়ংকর রাজনীতি। এই ত্রিমুখী অপরাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর হিম্মত বুঝি বাম প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতির আর নেই। প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতি, তুমি তবে সত্যিই পথ হারাইলে! প্রতিপক্ষের শক্তিতে ভীত হয়ে তুমি ‘ভ্যালারে নন্দ বেঁচে থাক চিরকাল’ হবার ছবক দিচ্ছ তাত্ত্বিকতার মোড়কে! কার দীক্ষায় দীক্ষিত এখন তুমি? মেধাবী বিবেচনায় প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনই বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানাচ্ছে, নিজেদের অমেধাবী মেনে নিয়েই নিশ্চয়। তাদের মতো অমেধাবীদের কথা তবে কে আর শুনবে?! বলি যে ছাত্ররাজনীতি প্রকাশ্য হোক। অপরাজনীতির বিরুদ্ধে প্রকৃত ছাত্ররাজনীতি প্রকাশ্য হোক। ৮.৪.২৪। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়