শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৩ এপ্রিল, ২০২৪, ০১:১০ রাত
আপডেট : ০৩ এপ্রিল, ২০২৪, ০১:১০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সেদিনের আক্রমণাত্মক বক্তব্য কি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ছিলো?

দীপক চৌধুরী

দীপক চৌধুরী: যারা বলে থাকেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)শিক্ষার্থীদের মতামত বিবেচনা করবেন, তাদের বলে দিতে চাই, যারা ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র মৈত্রী, ছাত্রদলের রাজনীতি করে থাকেন তাদের ব্যাপারে কারো কোনো আপত্তি নেই বা থাকার কথাও না। কিš‘ যারা সুকৌশলে জঙ্গি-শিবিরের আদর্শকে শক্ত-পোক্ত করতে বুয়েটকে ব্যবহার করছে তাদের মতামত বিবেচনা করার অর্থ নিজেদের পিঠে কুড়াল মারা। তবে কী আমরা দলবেঁধে কুড়াল মারার কাজটি শুরু করবো? মেনে নিলাম ‘বুয়েট’ একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়। এই বলে কী অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ‘রাজনীতি’ হওয়া উচিত নয়? রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে কেন? এখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়ানোর বাইরে শিক্ষকদের সঙ্গে রাজনীতিবিষয়ক আলাপ করতে হবে ক্লাশে তা বলি না। কিš‘ রাজনীতি ক্যাম্পাসেই হবে না এটা কেমন কথা! কী কৌশল রে বাবা! অন্ধকারের খেলা বলে কথা। 

ছাত্ররাজনীতি বুয়েটে সমসময়ই ছিল। কুখ্যাত জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি ছিল না। জিয়াউর রহমানের আমদানি করা জঙ্গি-শিবির-জামায়াত নিয়ে রাজনীতি বিতাড়িত করতেই হবে। শিবির-জঙ্গি-জামায়াতের তৎপরতা এখনই বন্ধ করার জরুরি। তাবলিগের নামে এখানে কী হয় এর কোনো ধারণা আছে?  ধর্ম ধর্মের জায়গায় থাকবে। তারা ধর্মকে পুঁজি করে বুয়েটকে জিম্মি করতে চাইছে। সুতরাং সাধু সাবধান! 

দেশের পরি¯ি’তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি চলবে না। তারা বুয়েটের নিজস্ব এবং নিজেদের স্বকীয়তা বদলে দিতে একের পর এক কৌশল নিয়ে এগো”েছ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘তকমা’ গায়ে লাগিয়ে যারা সেদিন বিক্ষোভ করল তারা এক পর্যায়ে সিন্ডিকেটকেই উড়িয়ে দিতে চাইল।  সেদিনই বিনয়ের সঙ্গে বুয়েটের উপাচার্য সত্যপ্রসাদ মজুমদার বলেছিলেন, ‘সিন্ডিকেটের মিটিং ডেকে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ কিš‘ সেদিনের আক্রমণাত্মক বক্তব্য কী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ছিল? এত দিন ধরে এরকমই হয়ে আসছিল, বুয়েটের  কোনো বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো বা যারা  দেশ চালা”েছন, তাদের কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে আমরা শুনিনি। কারণ, বুয়েটের সিন্ডিকেট অনেক ক্ষমতাশালী। জনগণের বিশ^াস ছিল এ কারণেই। বুয়েটের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের নামে কোনো অপশক্তিকে আর সুযোগ দেওয়া উচিৎ হবে না।  

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বুয়েটের শিক্ষার্থীদের সামনে এনে তুলে ধরা হয় কথায় কথায়। ছাত্রলীগের কাউকে ছাড় দেয়া হয়েছে কী? আর আবরার কে ছিল তা কী এখন কারো অজানা? আধুনিক উন্নত দেশের  অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আমাদের সকল সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। এই সত্যিটা মানতেই চান না কিছু লোক। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আমরা ভালো। এই ভালোকে, শান্তিকে নষ্ট করার চক্রান্ত চলছে। বাংলাদেশের গোয়েন্দারা অসংখ্য ঘটনা প্রকাশ্য সামনে আসার আগে অন্ধকারেই নিস্ক্রিয় করে দিতে সক্ষম। তাদের  যোগ্যতা আর দক্ষতা দিয়েই এটা তারা করে থাকেন। তারা বুয়েটের জঘন্য খেলার সঙ্গে কারা কীভাবে  জড়িত  সেসব জঙ্গি-শিবিরকে খুঁজে বের করুন। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পুলিশ প্রশাসন খুবই দায়িত্বশীলতা দেখিয়েছে। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ থেকে আমরা মুক্ত থাকতে চাই। সারাবিশ্বে কি জঙ্গি আর সন্ত্রাসবাদ নিয়ে চিন্তিত। 

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, কলামিস্ট, কথাসাহিত্যিক ও ফিল্মমেকার      

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়