শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৫ নভেম্বর, ২০২২, ০৪:১৫ দুপুর
আপডেট : ২৬ নভেম্বর, ২০২২, ০৪:৪৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সম্পদ রক্ষায় উদ্যোগ চায় বাংলাদেশ

সম্পদ লুটের চেষ্টা করছে বিভিন্ন দেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তরিকুল ইসলাম: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল বা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সম্পদ রক্ষায় সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ চায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এমন প্রস্তাবনার সঙ্গে একাট্টা এ অঞ্চলের ২৩ দেশের সব চেয়ে বড় প্ল্যাটফরম ‘ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)।’ একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা আরো জোরদারেও সম্মত হয়েছে দেশগুলো।

কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, ঢাকায় আইওআরএ’এর সদ্য সমাপ্ত সম্মেলনে এ বিষয়ে একমত হয়েছে দেশগুলো। বাংলাদেশের সভাপতিত্বে তিনদিন ধরে চলা ওই সম্মেলনে মূলত ৮টি বিষয়ে ফোকাস করা হয়েছে। সম্মেলন, প্যানেল ডিসকাসন, বিভিন্ন সেশন ও সাইডলাইন বৈঠকগুলোতে বারডেম ইস্যু হিসেবে রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে এবং মিয়ানমারের স্থিতিশীলতার প্রতিও জোর দিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অনেকের নজর রয়েছে। বিভিন্ন দেশ ভারত মহাসাগরে চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সম্পদ হাতে নেওয়া এবং লুট করার চেষ্টা করছে, এক্ষেত্রে আমাদের সাবধান হতে হবে। ভারত মহাসাগরে জাহাজে আক্রমণ হয়। পাইরেসি হয়। অনেকেই মাছ ধরে, এক্সেস ফিশিং করে। আমরা এসব ঠেকাতে চাই। সমুদ্র সম্পদের সোর্স কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে ব্যাপারে সম্মেলনে আমরা আলোচনা করেছি।

ভারত মহাসাগর উপকূলবর্তী দেশগুলোর জন্য আইওআরএ একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, যদিও আমরা আইওআরএ’কে এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফরমে পরিণত করতে এখনো আমাদের সুপ্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারিনি। বাংলাদেশ সবসময়ই এই অঞ্চলের জনগণের কল্যাণের জন্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাধা দূরীকরণের মাধ্যমে আইওআরএ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে আইওআরএয়ে বাণিজ্য অনুপাত ৩৫ শতাংশ, যা ইউরোপের অনুরূপ মাত্রার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ইউরোপে বাণিজ্যের এই হার ৬০ শতাংশ এবং উত্তর আমেরিকায় প্রায় ৪০ শতাংশ। দ্বিধাহীনভাবেই আমি বলতে পারি যে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দুই দশকেরও বেশি সময় পর আইওআরএ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বাজারের যে সম্ভাবনা রয়েছে- তা সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগানো হয়নি। 

সম্মেলনে মূলত ৮টি বিষয়ে ফোকাস করা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম বলেছেন, এগুলো হলো- সমুদ্র নিরাপত্তা, সমুদ্র বাণিজ্য, দুর্যোগ প্রতিরোধ, মৎস্য ব্যবস্থাপনা, ট্যুরিজম, ব্লু-ইকোনমি ইত্যাদি। এছাড়া ক্লাইমেট চেঞ্জ বিষয়টি নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনে সাপ্লাই চেইন সংক্রান্ত বাধাসমূহ, ট্রেড লজিস্টিকের ক্রমবর্ধমান ব্যয়, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হ্রাস, অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইওআরএ মূলত দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক, সমুদ্র নিরাপত্তা, মৎস্য ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুবিধা, একাডেমিক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, ব্লু ইকোনমি এবং উইমেনস ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট নিয়ে কাজ করে থাকে।

গত ২২ ও ২৩ নভেম্বর আইওআরএ’এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আর ২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় সদস্য দেশগুলোর প্রভাবশালী মন্ত্রী পর্যায়ের ২২ তম সম্মেলন। বৈঠকে যোগ দেন ১৬টি সদস্য দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি। এতে আর ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াসহ অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ আরো ১০টি দেশের প্রতিনিধিসহ মোট ১৩৪ জন সম্মেলনে যোগ দেন। এবারের সম্মেলনে আইওআরএ’র পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে সৌদি আরবের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

টিআই/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়