শিরোনাম
◈ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ থেকে ‘সাদা মহিষ’, নাম ও বানান বিতর্কে পদ হারালেন জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ◈ যশোরের রাজারহাটে চামড়ার দাম নিয়ে হতাশা, আবারও বাজার ধসের শঙ্কা ◈ বাংলাদেশসহ বিশ্বের আকাশে আজ রাতে দেখা মিলতে পারে বিরল ‘ব্লু মুন' ◈ ১০ মিটারের মধ্যে এলেই 'নীরব মৃত্যু' : ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীকে কোণঠাসা করছে ঘাতক রোবট ◈ শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন কিন্তু তিনি জমা দিয়ে যেতে পারেন নাই, ভ্যানিটি ব্যাগে করে নিয়ে গেছেন: মতিউর রহমান চৌধুরী ◈ চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন থেকে বঞ্চিত করে যেভাবে অভিবাসীদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প ◈ নতুন জীবনের খোঁজে দেশ ছাড়ছেন আমেরিকানরা, পরামর্শ নিতে খরচ করছেন শত শত ডলার ◈ বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে অমিত শাহর ‘ব্লুপ্রিন্ট’, কী আছে পরিকল্পনায়? ◈ রোবটের শক্তিতে পাল্টে যাচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়া পড়েছে রক্ষণাত্মক অবস্থানে (ভিডিও) ◈ নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার: ডিএনএ পরীক্ষায় স্তন ক্যানসারের অনেক রোগীর আর লাগবে না কেমোথেরাপি

প্রকাশিত : ৩১ মে, ২০২৬, ০৫:৩৮ বিকাল
আপডেট : ৩১ মে, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নতুন পে স্কেলে বেশি সুবিধা পেতে পারেন নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা

নবম জাতীয় পে স্কেল প্রণয়নে গঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি ও ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে একাধিক প্রস্তাব ও সুপারিশও আলোচনায় এসেছে।

নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। প্রস্তাবিত পে স্কেলের আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নতুন পে স্কেল প্রণয়নের ক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় সহায়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য হ্রাস করে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বেতন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে সরকার।

প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেলের সুবিধা পাবেন প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্যও একটি সমন্বিত বেতন কাঠামো ও নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট সব খাতের কর্মীরা নতুন বেতন ব্যবস্থার সুবিধা সমানভাবে উপভোগ করতে পারেন।

এদিকে, গত ২১ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত পুনর্গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশসমূহ পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা এবং বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিনটি প্রতিবেদনের মধ্যে দুটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বেতন বৃদ্ধি, ভাতা কাঠামো এবং বাজেট সক্ষমতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তৃতীয় প্রতিবেদনটি পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা হবে বলেও জানা যায়।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগলেও জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা কার্যকর হবে। পরে গেজেট প্রকাশ হলে চাকরিজীবীরা জুলাই থেকে বকেয়াসহ বর্ধিত সুবিধা পাবেন।

সর্বশেষ, অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এরপর এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ সময়ে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবহণ ব্যয়সহ প্রায় সব খাতে ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে। এ কারণে নতুন পে স্কেলে নিম্ন আয়ের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমানো এবং নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই দ্বিতীয় প্রস্তাবটি আলোচনায় এসেছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি দিলে প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে বলেও মত রয়েছে।

বর্তমান আলোচনায় থাকা প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, অধিকাংশ গ্রেডের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ৭৫ হাজার টাকা হতে পারে। ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক দাঁড়াতে পারে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকায়।

 একইভাবে সপ্তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষদের বেসিক ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং নবম গ্রেডের প্রভাষকদের ২২ হাজার টাকা থেকে ৩৩ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 এদিকে, দ্বিতীয় প্রস্তাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা। আলোচনায় থাকা এ বিকল্প অনুযায়ী, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন দ্বিগুণ করা হতে পারে।

 সেক্ষেত্রে ১১তম গ্রেডের শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক বেড়ে ২৫ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারীদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার বেতন বেড়ে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়কদের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হতে পারে।

নীতিনির্ধারকদের মতে, মূল্যস্ফীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর। ফলে নতুন পে-স্কেলে তাদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে কোন প্রস্তাব চূড়ান্ত হবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতনসংক্রান্ত সুপারিশ পর্যালোচনার পর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ না হলেও আলোচনায় থাকা দুই বিকল্পের মধ্যে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখার বিষয়টি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

 আগামী ৭ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। ওই দিন বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এটি হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন। উৎস: যুগান্তর।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়