সবজিতে ক্ষতিকর কীটনাশকের উপস্থিতি দ্রুত ও কম খরচে শনাক্ত করার নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। গবেষকদের দাবি, নতুন এই পদ্ধতিতে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে এক ঘণ্টারও কম সময়ে পরীক্ষার ফল জানা সম্ভব হবে। ফলে প্রচলিত পরীক্ষার তুলনায় ব্যয় কমবে প্রায় ৪০ গুণ।
আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে গবেষণাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংস্থা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (সাউরেস)-এর অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালনা করেন কৃষি রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুল কাইউম।
গবেষক দল জানায়, উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটি ‘অ্যাসিটাইলকোলিনস্টেরেজ’ নামে একটি এনজাইমভিত্তিক পদ্ধতির ওপর তৈরি। এটি মূলত রঙ পরিবর্তনের মাধ্যমে কীটনাশকের উপস্থিতি শনাক্ত করে। পরীক্ষায় এনজাইমের কার্যকারিতা যদি অর্ধেকের বেশি কমে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট নমুনাকে স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে ব্যবহৃত গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি–ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি এবং লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি–ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি প্রযুক্তিতে প্রতি নমুনা পরীক্ষায় ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। অন্যদিকে নতুন পদ্ধতিতে একই পরীক্ষা সম্পন্ন করা যাবে মাত্র ২০০-২৫০ টাকায় এবং সময় লাগবে ৪০ থেকে ৬০ মিনিট।
গবেষকদের ভাষ্য, পরীক্ষাগারে পদ্ধতিটির নির্ভুলতার হারও অত্যন্ত সন্তোষজনক।
ড. মো. আব্দুল কাইউম বলেন, টমেটো, বেগুন, করলা, পালং শাক, শসা ও বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজিতে এ প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেচ ও পুকুরের পানিতেও পরীক্ষামূলকভাবে কার্যকারিতা মিলেছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তিকে সহজ বহনযোগ্য ‘র্যাপিড ডিটেকশন কিট’ এবং কাগজভিত্তিক স্ট্রিপে রূপ দেওয়ার কাজ চলছে, যাতে সাধারণ মানুষও নিজ উদ্যোগে খাদ্যের নিরাপত্তা যাচাই করতে পারেন।
সাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ এম আমিনুজ্জামান বলেন, অর্গানোফসফরাস ধরনের কীটনাশক মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্র, লিভার ও কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। মাঠপর্যায়ে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সহজ হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘এ ধরনের উদ্ভাবন বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কীটনাশক ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’