শিরোনাম
◈ এয়ারপোর্ট ও বুর্জ খলিফা টাওয়ার ধ্বংসের ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল ◈ জয়ের ফাঁস করা তালিকায় শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন ১৫ নায়িকা ◈ চলছে তালিকা তৈরির কাজ, চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথ অভিযান ◈ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন: থামাতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই বিশ্ব শক্তির ◈ খামেনির ছেলেকে পছন্দ নয়, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে চান ট্রাম্প ◈ দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও পরিকল্পনায় ইবি শিক্ষিকা খুন—স্বামীর মামলায় ৪ আসামি ◈ স্কুল-কলেজের জন্য আসছে র‍্যাংকিং সিস্টেম: শিক্ষামন্ত্রী ◈ দুই ইস্যুতে বাংলাদেশের আশ্বাস চাইল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করে নির্বাচন ইস্যু জুড়ে বিভ্রান্তি: রিজওয়ানা ◈ গ্রাহকদের প্রতি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ৭ নির্দেশনা বিদ্যুৎ বিভাগের

প্রকাশিত : ০৬ মার্চ, ২০২৬, ০৪:৩০ সকাল
আপডেট : ০৬ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চলছে তালিকা তৈরির কাজ, চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথ অভিযান

চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে সারা দেশে যৌথ অভিযান চালাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ লক্ষ্যে চলছে প্রস্তুতি। অভিযানের ক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকাকে গুরত্ব দেওয়া হচ্ছে বেশি। বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর পরিদর্শনে এসে তালিকা ধরে অভিযান চালানোর নির্দেশনা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

এই নির্দেশনা দেওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন ইউনিট। কোনো কোনো ইউনিট হালনাগাদ করছে চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসীদের তালিকা। আবার কোনো কোনো ইউনিট নতুন করে তালিকা তৈরি করছে। এরই মধ্যে নিজ উদ্যোগে অভিযান শুরু করেছে কোনো কোনো ইউনিট।

ডিএমপির উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র যুগান্তরকে জানান, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা আগে থেকেই আমাদের কাছে আছে। বিভিন্ন ইউনিট থেকে এসেছে। তবে ওই তালিকায় ভিন্নতা আছে। ডিবি, এসবি, থানা পুলিশ এবং সরকারের অন্য গোয়েন্দা সংস্থা থেকে যেসব তালিকা এসেছে সেগুলোর মধ্যে সংখ্যাগত পার্থক্য আছে। সব তালিকার সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এ তালিকা তৈরি হলেই অভিযান শুরু হবে। সেটি কোনো একক অভিযান নয়। যৌথ অভিযানের লক্ষ্যেই প্রস্তুতি চলছে।

বরিশাল থেকে স্টাফ রিপোর্টার এসএন পলাশ জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার পর বুধবার রাত থেকে বরিশাল নগরী ও জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে পুলিশ ও র‌্যাবের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান। নগরী ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পয়েন্টে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অভিযানে দুই চাঁদাবাজ ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে একজন ডাকাত গ্রেফতার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম বলেন, গতকাল নগরীর কোর্ট কম্পাউন্ড এলাকায় চাঁদাবাজির সময় দুজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন, জালাল খানের ছেলে জাহিদ হাসান ও আকবর হোসেনের ছেলে রাকিব হোসেন। এছাড়া আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। তারপরও সন্ত্রাসীরা যেন মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ।

বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, সন্ত্রাস চাঁদাবাজ ও অপরাধ দমনে জেলার প্রতিটি পয়েন্টে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। তাছাড়া আমাদের একাধিক মোবাইল টিম মাঠে কাজ করছে। র‌্যাব ৮-এর অধিনায়ক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, অপরাধ দমনে আমাদের বিশেষ টিম কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। নগর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর ছগির হোসেন জানান, নগরীকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত রাখতে আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তাছাড়া কেউ কোনো অভিযোগ করলে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম থেকে স্টাফ রিপোর্টার আহমেদ মুসা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। কঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে এ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকায় শুধু সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা থাকবে তা নয়, রাখা হবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে থাকা টেন্ডারবাজদের নামও।


এছাড়া বিভিন্ন থানা- মহল্লাভিত্তিক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যাতে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য সহজ হয়। মার্কেট, কাঁচাবাজার, ঘাট, ফুটপাত, ভাসমান দোকানসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত চাঁদাবাজ ও পৃষ্ঠপোষকদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে সিএমপি। চাঁদা কারা তুলছে, কারা নেপথ্যে আছে, কারা পৃষ্ঠপোষক-সবই তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা এই কাজে নিযুক্ত। এছাড়া অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও এ বিষয়ে কাজ করছে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সিএমপি সূত্র জানায়, একাধিক ক্যাটাগরিতে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। কারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য-তাদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তাদের কারা লিড দেয় তাদের নামও তালিকায় রাখা হচ্ছে। আবার কিছু সন্ত্রাসী রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ব্যবহার, তাদের নামও তালিকায় আসবে। আবার ভবন নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করতে গেলে অনেককে চাঁদা দিতে হয়। তাদেরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। যুগ যুগ ধরে যারা বিভিন্ন টেন্ডার লুটপাট করে আসছিল তাদের নাম ও পরিচয় তালিকায় থাকবে।

সিএমপির সিনিয়র সহকারী কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি এটি একটি কনফিডেনশিয়াল বা গোপনীয় বিষয়। এটি নিয়ে কথা বলা সমীচীন হবে না।

রাজশাহী থেকে স্টাফ রিপোর্টার তানজিমুল হক জানান, রাজশাহীতে মহানগর ও জেলা পুলিশ তাদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাঁদাবাজ এবং অস্ত্রধারীদের তালিকা আপডেট করা আমাদের চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিনিয়ত সেটি আপডেট করা হচ্ছে। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের মাধ্যমে এটি সব সময়েই নগদায়ন করা হয়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, সন্ত্রাসীদের আটক এবং অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। অস্ত্রধারী ও চাঁদাবাজদের তালিকার আপডেট করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো আছে। ঈদকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। চাঁদাবাজ এবং অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারে প্রতিনিয়ত অভিযান চলছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র গোয়েন্দা শাখার প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমাদের কাছে চাঁদাবাজ এবং অস্ত্রধারীদের আগে থেকেই তালিকা আছে। এখন যারা নতুনভাবে চাঁদাবাজি শুরু করেছে কিংবা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছে, তাদের আপডেট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নির্দেশনা পেয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের চাঁদাবাজি এবং মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান অব্যাহত রেখেছি। উৎস: যুগান্তর।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়