শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৬ জুন, ২০২২, ০৯:৩২ রাত
আপডেট : ২৬ জুন, ২০২২, ০৯:৩২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্বাধীনতার ১৬ ডিসেম্বর পর, ২৫ জুন আরেকটি ঐতিহাসিক দিন

মনিরুল ইসলাম: জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে দৃঢ়তা, প্রজ্ঞা, দূরদর্শীতা ও সাহসের সঙ্গে সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে স্বপ্নের পদ্মা সেতু জাতিকে উপহার দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশের মানুষের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তারা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়শী প্রশংসার পাশাপাশি পদ্মা সেতুকে হীরকের চেয়েও মূল্যবান বলে উল্লেখ করেছেন।

রোববার  স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে প্যানেল সভাপতি এ বি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ওই আলোচনায় অংশ নেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, সরকারি দলের মাহবুবউল আলম হানিফ, সাহাদারা মান্নান, গাজী মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, বিএনপির  মো হারুনুর রশীদ এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, মো. ফখরুল ইমাম ও অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম প্রমূখ।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সদস্য শাজাহান খান বলেন, আমি আজ আনন্দে আত্মহারা। আজ আমি মাদারিপুর থেকে রওয়ানা দিয়ে দুই ঘন্টায় ঢাকায় এসেছি। আমি পদ্মা নদী পার হয়েছি, সময় লেগেছে মাত্র ৫ মিনিট। পদ্মাসেতু দিয়ে পর হওয়ার সময় আমি নদীর দিকে অনেক সময় তাকিয়ে ছিলাম। কত মানুষের যে শলিল সমাধি ঘটেছে এই নদীতে। পদ্মা নদী পার হতে বছরের পর বছর মানুষকে সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। পদ্মাসেতুর উদ্বোধন ও সেখানে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিতে গিয়ে দেখলাম এই অঞ্চলের মানুষ আনন্দে আত্মাহারা। কত মানুষ যে এসেছে তা বলে শেষ করা যাবে না। আমাদের ত্রাতা হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি না থাকলে এই পদ্মাসেতু হতো না, আমাদের এই দূর্ভোগ থেকে মুক্তি আসতো না। 

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে শাজাহান খান বলেন, বিএনপির আমল তখনকার যোগাযোগ মন্ত্রী অলি আহমেদ বলেছিলেন তারা পদ্মাসেতুর কাজ শুরু করবেন কিন্তু তারা করেনি। তাদের কত মেয়াদ গেলো তারা পারেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ২০০১ সালে পদ্মাসেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আজ শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন আমরা পারি। পদ্মাসেতুর যখন নির্মাণ কাজ চলছিলো তখন খালেদা জিয়া বলেছিলেন আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মাসেতু তৈরি করতে পারবে না। জোরা তালি দিয়ে বানানো হচ্ছে। পদ্মাসেতুতে উঠতে রিস্ক আছে। আপনারা কেউ পদ্মাসেতুতে উঠবেন না। বিএনপির নেতারা এখানে আছেন, দয়া করে আপনারা পদ্মাসেতু পার হবেন না। আপনাদের নেত্রীর নির্দেশ, নেত্রীর নির্দেশ অমান্য করবেন না। আপনাদের জন্য নৌকা রেখে দোবা। এই নৌকা স্বাধীনতা দিয়েছিলো। যারা ‘৭৫ এর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেক বার’ স্লোগান দেয় তাদের গ্রেফতার করতে হবে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান 

মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদ্মা সেতুর মহান স্থপতি আখ্যায়িত করে বলেন, এই সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে এক নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের সৌভাগ্য জাতির পিতার পর শেখ হাসিনার মতো একজন ভিশনারী লিডারশীপ পেয়েছেন। তিনি একের পর এক নতুন অধ্যাায়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা একজন মানবিক নেত্রী তা আবারো প্রমাণ করেছেন। বলেছেন, পদ্মা সেতুর বিরোধীতাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি তাঁর কোন অভিমান নেই। তেমনিভাবে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে বাড়িতে থাকার সুযোগ দিয়ে আরেক মানবিকতার প্রমাণ দিয়েছেন। আমরা আশা করি, এ থেকে ষড়যন্ত্রকারী-চক্রান্তকারী ও খালেদা জিয়ার দলের নেতারা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণে রাখবেন। 

গনফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অনেক আগেই পদ্মা সেতু হতো। আজ তাঁরই কন্যার হাত ধরে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। যমুনার আগেও তিনি সেতু নির্মাণ করে উত্তরবঙ্গের মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ করে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার কোটি কোটি মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা। সেদিন বেশি দূরে নয়, পদ্মা-যুমনার পর মেঘনার উপরও সেতু হবে। এই পদ্মা সেতু নিয়েও কিছু দল নানা সমালোচনা করেছে। তারা কী পদ্মা সেতু দিয়ে যাবে না? বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকতে নির্মাণ নয়, বরং পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। স্বাধীনতার ১৬ ডিসেম্বর পর, ২৫ জুন হবে আরেকটি ঐতিহাসিক দিন। 


প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, ড. ইউনুস গংরা ষড়যন্ত্র করে বিশ্ব ব্যাংকের টাকা বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছিলেন- নিজের অর্থেই পদ্মা সেতু করব। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করে তিনি গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন- বাংলাদেশ পারে, কারোর কাছে মাথানত করে না। উন্নয়নের পথে দুর্বার গতিতে এগিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।

  • সর্বশেষ