সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৩০–৪০ বছর বয়সী তরুণ–তরুণীর মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের হার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। আগে যেখানে হৃদ্রোগকে “বয়সের রোগ” বলা হতো, এখন সেটি তরুণ প্রজন্মেরও ভয়াবহ বাস্তবতা। চিকিৎসকরা বলছেন—অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, ধূমপান এবং শরীরচর্চার অভাবই মূল কারণ।
? কেন তরুণ বয়সেই বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি?
অতিরিক্ত মানসিক চাপ: পড়াশোনা, কর্মক্ষেত্র কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের চাপ হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত করে।
জাঙ্ক ফুডের আধিক্য: ফাস্টফুড, কোমল পানীয় ও ভাজাপোড়া খাবারে থাকা ট্রান্স ফ্যাট রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়।
ধূমপান ও অ্যালকোহল: এগুলো রক্তনালী সংকুচিত করে, ফলে হার্টে রক্তপ্রবাহ কমে যায়।
ব্যায়ামের অভাব: নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করলে হৃদ্পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।
বংশগত কারণ: পরিবারের কারও আগে হৃদ্রোগ থাকলে ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়।
? হার্ট অ্যাটাকের আগাম সংকেত, যেগুলো হালকাভাবে নেবেন না
1. বুকে চাপ বা জ্বালাভাব
2. কাঁধ, ঘাড় বা বাহুতে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া
3. শ্বাসকষ্ট বা হঠাৎ ঘাম হয়ে যাওয়া
4. মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব
? এই উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
? কীভাবে এড়াবেন হার্টের ঝুঁকি?
✅ নিয়মিত ব্যায়াম করুন: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা সাইকেল চালানো হার্টের জন্য উপকারী।
✅ সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন: শাকসবজি, ফল, মাছ ও বাদাম রাখুন খাদ্যতালিকায়; তেল, চিনি ও লবণ কমান।
✅ ধূমপান ও মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন।
✅ ওজন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
✅ যথেষ্ট ঘুমান: প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম হার্টকে পুনরুজ্জীবিত করে।
✅ মানসিক চাপ কমান: মেডিটেশন, প্রার্থনা বা প্রিয় কাজের মাধ্যমে মনকে প্রশান্ত রাখুন।
✅ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন: ব্লাড প্রেসার, সুগার ও কোলেস্টেরল বছরে একবার পরীক্ষা করান।
? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, “তরুণ বয়সে হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম বড় কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। ছোট ছোট পরিবর্তন—যেমন প্রতিদিন হাঁটা, ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত, এবং ঘুমের নিয়ম ঠিক করা—এই একটুকুই হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষার মূল চাবিকাঠি।”
কম বয়সে হার্ট অ্যাটাক এখন ভয়াবহ বাস্তবতা হলেও এটি প্রতিরোধযোগ্য। সময়মতো সতর্কতা নিলে, জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে ও নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করলে—আপনার হৃদয় থাকবে সুস্থ, প্রাণবন্ত ও কর্মক্ষম।
আজ থেকেই নিজের হার্টের যত্ন নিন, কারণ একটি সুস্থ হৃদয়ই সুখী জীবনের মূলভিত্তি।
সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ