শিরোনাম
◈ উপদেষ্টার কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন হয়ে ২০২৪ সালেই প্রশ্ন তুলেছিলাম: তাসনিম জারা ◈ সব ধরনের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ◈ মোদি কেন ভারতীয়দের এক বছর সোনা না কেনার আহ্বান জানালেন? ◈ বিশ্বকাপ দেখতে ফুটবল সমর্থকদের জন্য ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিল যুক্তরাষ্ট্র ◈ কারা কিভাবে পাবেন সবার আগে প্রবাসী কার্ড, যেসব সুবিধা থাকবে ◈ ‘গুলিতে স্ত্রী নিহত’ মামলা ভুয়া, তদন্তে বাদীর স্বীকারোক্তি, শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ ◈ দেশের বাজারে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম ◈ অনলাইন জুয়ার ভয়ংকর ফাঁদ ◈ ইংল্যান্ড জাতীয় দ‌লের নির্বাচক হলেন অস্ট্রেলিয়ান মার্কাস নর্থ ◈ বিক্রয় ডট কম কিনে নিল নাইজেরিয়ার অনলাইন মার্কেটপ্লেস ‘জিজি’

প্রকাশিত : ১৫ মে, ২০২৬, ১০:৩৯ দুপুর
আপডেট : ১৫ মে, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জুমাবার: মুমিনদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন

মহান আল্লাহতায়ালা যেসব দিনকে বিশেষভাবে বরকতময় ও মর্যাদাবান করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো জুমার দিন। এ দিনকে কেন্দ্র করে পৃথিবীতে সংঘটিত হয়েছে অসংখ্য অলৌকিক ও ঐতিহাসিক ঘটনা। মহামহিম স্রষ্টা পবিত্র কুরআনে ‘জুমা’ নামে একটি সূরা নাজিল করে দিবসটিকে করেছেন আরও মহিমান্বিত। পুণ্যময় এ দিনটি মুমিনের জন্য সওয়াব বৃদ্ধি, গুনাহ মোছন ও দয়াময় স্রষ্টার নৈকট্য লাভের বিশেষ মুহূর্ত। মহিমান্বিত এ দিবস প্রতি সপ্তাহে আমাদের মধ্যে ফিরে আসে।

হজরত আবু লুবাবা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, জুমার দিন সব দিনের সরদার। আল্লাহতায়ালা এ দিনে আদম (আ.)কে সৃষ্টি করেছেন। এ দিনে তাকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। এ দিনে আল্লাহতায়ালা তাকে মৃত্যুদান করেছেন এবং কেয়ামত এ দিনেই সংঘটিত হবে। (ইবনে মাযাহ)। জুমার দিন প্রসঙ্গে প্রিয়নবী (সা.) আরও ইরশাদ করেন, মুমিনের জন্য জুমার দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন। (ইবনে মাযাহ)।

জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো জুমার নামাজ আদায় করা ও খুতবা শ্রবণ করা। মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, হে মুমিনরা! যখন জুমার দিনে জুমার নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে (মসজিদে) গমন কর এবং ক্রয়-বিক্রয় (দুনিয়াবি সব কাজকর্ম) বন্ধ করে দাও। এটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর; যদি তোমরা জানতে। (সূরা জুমআ, আয়াত-৯)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, জুমার দিন ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে যান। প্রথম আগমনকারীর নাম প্রথমে; এভাবে মসজিদে আগমনকারীদের নাম লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর যে ব্যক্তি অতি প্রত্যুষে মসজিদে গমন করে, সে একটি উট সদকা করার সওয়াব লাভ করে। তারপর আগমনকারী গাভি, তারপর আগমনকারী দুম্বা, তারপর আগমনকারী মুরগি ও তারপর আগমনকারী ডিম সদকা করার সওয়াব লাভ করে। যখন ইমাম খুতবা প্রদানের জন্য আসেন অর্থাৎ খুতবা শুরু করেন, তখন ফেরেশতারা খাতা বন্ধ করেন এবং খুতবা শ্রবণে মশগুল হন (বুখারি, মুসলিম)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করে, অতঃপর জুমার নামাজের জন্য মসজিদে আসে, খুব মনোযোগসহ খুতবা শ্রবণ করে এবং খুতবার সময় চুপ থাকে, তার এ জুমা থেকে বিগত জুমা পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গুনাহ্গুলো মাফ করে দেওয়া হয় (মুসলিম)।

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি আমল হলো, সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, সে আট দিন পর্যন্ত সব ধরনের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। আর যদি দাজ্জাল বের হয়, তবে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকেও নিরাপদ থাকবে। (তাফসির ইবনে কাসীর)। অন্য রেওয়ায়েতে আছে, তার এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত সব (সগিরা) গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

প্রিয় পাঠক! জুমার দিনে আরও কিছু বিশেষ আমল ও আদব রয়েছে, যা নিম্নে উপস্থাপন করছি। যথা-

১. গোসল করা। ২. মিসওয়াক করা। ৩. সুগন্ধি ব্যবহার করা। ৪. যথাসম্ভব উত্তম পোশাক পরিধান করা। ৫. আগে মসজিদে আসা। ৬.সম্ভব হলে হেঁটে মসজিদে আসা। ৭. ইমামের দিকে মুখ করে বসা। ৮. খুতবার সময় ইমামের কাছাকাছি বসা। ৯. মনোযোগসহকারে খুতবা শ্রবণ করা এবং খুতবা চলাকালীন চুপ থাকা। ১০. দুই খুতবার মাঝখানে মহান স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করা; এক্ষেত্রে হাত উঠানো জরুরি নয়। ১১. জুমার দিন ও জুমার রাতে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। ১২. পরে মসজিদে এসে মুসল্লিদের ডিঙিয়ে সামনে না যাওয়া; এরূপকারীদের ব্যাপারে প্রিয়নবী (সা.) কঠোর মনোভাব পোষণ করেছেন।

লেখক : খতিব, মাসজিদুল কুরআন জামে মসজিদ কাজলা (ভাঙ্গাপ্রেস), যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়