শিরোনাম
◈ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত: রয়টার্সকে সাকিব ◈ ‘শেখ হাসিনার বক্তব্যে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই’ ◈ ‘কিসের হাসিনা, তার চেহারা কী দেখা গেছে?’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন ◈ বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য ফেসবুকের নতুন সুবিধা ◈ সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে বেতন বাড়ানোর দাবি প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের (ভিডিও) ◈ আমিও চাই, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আইনি পথে হাঁটুক: আইনমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ মাদক কারবারির বাড়িতে পুলিশের দেহ তল্লাশি, যা জানা গেল ◈ বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোটের নেতৃত্বে সৌদির আল-শেহরি ◈ কালিয়াকৈরে মেয়ে থেকে ছেলে হলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী ◈ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০২:৪৭ দুপুর
আপডেট : ০৭ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ধৈর্য ও সততার অনন্য দৃষ্টান্ত: যেভাবে মিসরের রাজক্ষমতা লাভ করেন নবী ইউসুফ (আ.)

নবী ইউসুফ (আ.)-এর জীবনের ঘটনাপ্রবাহ কোরআনে অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ও শিক্ষণীয়ভাবে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে তিনি যেভাবে মিসরের রাজক্ষমতা লাভ করেন, তা আল্লাহর পরিকল্পনা, ধৈর্য ও নৈতিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই ঘটনা সুরা ইউসুফে বিস্তারিতভাবে এসেছে।

ইউসুফ (আ.) ছিলেন নবী ইয়াকুব (আ.)-এর প্রিয় পুত্র। শৈশবে তিনি একটি বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখেন।  স্বপ্নে তিনি দেখেন, সূর্য, চাঁদ ও ১১টি নক্ষত্র তাকে সিজদা করছে। এই স্বপ্ন ভবিষ্যতে তার উচ্চ মর্যাদা ও নেতৃত্বের ইঙ্গিত বহন করছিল। কিন্তু তার ভাইদের ঈর্ষা সেই স্বপ্নের পথকে করে তোলে কঠিন ও কণ্টকাকীর্ণ। তারা তাকে কূপে নিক্ষেপ করে এবং পরে এক কাফেলার মাধ্যমে ইউসুফ (আ.) মিসরে দাস হিসেবে বিক্রি হন।

মিসরে তিনি আজিজের ঘরে আশ্রয় পান। সেখানে তার সততা, সৌন্দর্য ও চরিত্রের দৃঢ়তা দ্রুতই সকলের নজরে আসে। কিন্তু আজিজের স্ত্রীর প্ররোচনায় সাড়া না দেওয়ায় তিনি অন্যায়ের শিকার হন এবং নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন। এই কারাবাস ছিল তার জীবনের আরেকটি কঠিন অধ্যায়, যেখানে তিনি ধৈর্য, ঈমান ও আল্লাহর প্রতি ভরসা ধরে রাখেন।

কারাগারেও ইউসুফ (আ.) আল্লাহর দাওয়াত দেওয়া থেকে বিরত থাকেননি। তিনি সহবন্দিদের স্বপ্নের ব্যাখ্যা করেন এবং তাওহিদের আহ্বান জানান। এখানেই তার জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টি প্রকাশ পায়। দুই বন্দির স্বপ্নের ব্যাখ্যা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, যা পরবর্তীতে তার মুক্তির পথ তৈরি করে।

কয়েক বছর পর মিসরের বাদশাহ একটি অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেন। তিনি স্বপ্নে দেখেন, সাতটি মোটা গরু সাতটি শুকনো গরু দ্বারা গ্রাস হচ্ছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও সাতটি শুকনো শীষ।

রাজদরবারে কেউ এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে না পারায় কারাগারে থাকা ইউসুফ (আ.)-এর কথা স্মরণ করা হয়। তিনি আল্লাহপ্রদত্ত জ্ঞানের মাধ্যমে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করেন এবং জানান, মিসরে সাত বছর প্রাচুর্যের পর সাত বছর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ আসবে। তিনি শুধু ব্যাখ্যাই দেননি, বরং সংকট মোকাবিলার বাস্তব পরিকল্পনাও তুলে ধরেন।

ইউসুফ (আ.)-এর প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতায় মুগ্ধ হয়ে বাদশাহ তাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে ইউসুফ (আ.) নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ ছাড়া মুক্তি নিতে অস্বীকৃতি জানান। তদন্তের মাধ্যমে তার পবিত্রতা প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি সম্মানের সঙ্গে রাজদরবারে উপস্থিত হন।

শেষ পর্যন্ত বাদশাহ তাকে মিসরের কোষাগার ও অর্থব্যবস্থার দায়িত্ব দেন। কোরআনের ভাষায়, তিনি বলেন—আজ থেকে তুমি আমাদের কাছে ক্ষমতাবান ও বিশ্বাসযোগ্য। এভাবেই একজন দাস ও বন্দি থেকে ইউসুফ (আ.) আল্লাহর পরিকল্পনায় মিসরের রাজত্ব ও প্রশাসনিক ক্ষমতা লাভ করেন।

এই ঘটনা শিক্ষা দেয়, ধৈর্য, সততা ও আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস কখনো ব্যর্থ হয় না। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্মান দেন, আর সেই সম্মান আসে পরীক্ষার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়