শিরোনাম
◈ সারাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয় ◈ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘোষণা হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি: আল-আরাবিয়া ◈ দানবাক্সের টাকা চুরির অভিযোগ, ভাইরাল সেই সিদ্দিককে হাতেনাতে ধরল জনগণ (ভিডিও) ◈ দে‌শে বছর বছর গরু কোরবানি কেন কমছে? (ভিডিও) ◈ সচিব পদমর্যাদায় মহাপরিচালক হলেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মুফতি মুহিববুল্লা হিল বাকী ◈ 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী' যেভাবে ফেরত পাঠাতে চায় শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ◈ প্রধানমন্ত্রী কাল ময়মনসিংহ যাচ্ছেন, উদ্বোধন করবেন নজরুল জন্মজয়ন্তীর জাতীয় অনুষ্ঠান ও খাল পুনঃখনন কার্যক্রম ◈ ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা ◈ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের অ্যালবিনো মহিষ: ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের অ্যালবিনো ষাঁড়কে কোরবানি’ দেবে বাংলাদেশ ◈ সিলিকন ভ্যালিতে ব্যাপক ছাঁটাই: ভারতীয় টেক কর্মীদের ‘৬০ দিনে চাকরি না পেলে আমেরিকা ছাড়ার’ চাপ

প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৬, ০৮:২৩ রাত
আপডেট : ২৩ মে, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হরমুজ প্রণালির বাইরে ইরানের নজরদারি, বাড়ছে উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের বেশ কয়েকটি বন্দর পর্যন্ত নিজেদের সামুদ্রিক নজরদারি এলাকা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি। তেহরানের এই পদক্ষেপ পারস্য উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোকে আরও বেশি ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আসলে কী ঘটেছে

গত বুধবার সন্ধ্যায় ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে তাদের ভাষায় ‘নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল’-এর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এই মানচিত্রে ‘ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর নজরদারির আওতাধীন এলাকা’ হিসেবে যা দেখানো হয়েছে, তা হরমুজ প্রণালির সীমানা ছাড়িয়ে ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের ছিটমহল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

মানচিত্র অনুযায়ী, পশ্চিম দিকে এই অঞ্চলটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল-খাইমাহ বন্দর ছাড়িয়ে উপকূলীয় শহর উম্ম আল-কুওয়াইন পর্যন্ত এবং পূর্ব দিকে এটি আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর অতিক্রম করে প্রসারিত হয়েছে।

এক বিবৃতিতে এই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার উদ্দেশ্যে এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাতায়াত বা ট্রানজিটের জন্য অবশ্যই পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে এবং তাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।’

ইরানের ঘোষিত এই এলাকার মধ্যে অন্তত ‘লেসার টুনব’ দ্বীপের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পারস্য উপসাগরের বিতর্কিত তিনটি দ্বীপের মধ্যে এটি একটি, যা বর্তমানে ইরান দ্বারা শাসিত হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত এর মালিকানা দাবি করে আসছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরান এই পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি গঠন করে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা এবং এই জলপথের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব সুসংহত করা।

উল্লেখ্য, বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রফতানির প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো। ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রণালি পারাপারের জন্য ওই কর্তৃপক্ষ নতুন কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে- আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া, সব চিঠিপত্র বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘পার্সিয়ান গালফ’ (পারস্য উপসাগর) শব্দটি ব্যবহার করা, রিয়ালে পেমেন্ট বা মূল্য পরিশোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ‘আক্রমণকারী দেশগুলোর’ মালিকানাধীন জাহাজের ক্ষেত্রে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।

তবে পারস্য উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো ‘পার্সিয়ান গালফ’ নামটিকে প্রত্যাখ্যান করে থাকে। তারা এই অঞ্চলটিকে ‘অ্যারাবিয়ান গালফ’ (আরব উপসাগর) বা কেবল ‘দ্য গালফ’ (উপসাগর) বলে অভিহিত করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর, মার্চ মাসের শুরুর দিকে ইরান এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। তখন থেকে ইরান মূলত বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর নৌযান ছাড়া অন্যদের যাতায়াত সীমিত করে দিয়েছে এবং এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতের জন্য টোল বা শুল্ক দাবি করে আসছে।

এই ঘোষণার গুরুত্ব কী

ইরানের এই ঘোষণা আরব রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে এবং ইতোমধ্যে এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার কাছ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও তিরস্কার এসেছে। আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, ‘ইরান সরকার একটি স্পষ্ট সামরিক পরাজয় থেকে জন্ম নেওয়া নতুন এক বাস্তবতা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। কিন্তু হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করার বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব খর্ব করার এই অপচেষ্টা আসলে অলীক স্বপ্নের ভগ্নাংশ ছাড়া আর কিছুই নয়।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গারগাশের এই বক্তব্যটি পুনরায় পোস্ট করেছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সাড়া দেয়নি।

চলতি যুদ্ধে ইরানের সামরিক পদক্ষেপের সবচেয়ে সোচ্চার সমালোচক ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিকে বারবার ইরানের অনুগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্যবস্তু হতে হয়েছে। গত মঙ্গলবার আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৭ মে তাদের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হওয়া হামলার জন্য ইরাকের ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের দায়ী করেছে। এর এক দিন পর, আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরাকি কর্তৃপক্ষকে তাদের ভূখণ্ড থেকে উদ্ভূত এই হামলা ‘অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে’ বন্ধ করার আহ্বান জানায়।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও বিকল্প পথ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সামুদ্রিক যান চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। মঙ্গলবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি জাহাজ চলাচল করছে, যেখানে সংঘাত শুরু হওয়ার আগে দৈনিক প্রায় ১৩০টি জাহাজ যাতায়াত করত। গত মাসে বেকার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি অনুমান করেছিল যে, এই অচলাবস্থার কারণে উপসাগরীয় রফতানিকারকদের প্রতিদিন ২০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে।

অন্যদিকে, এপ্রিলের শেষের দিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনবিসি-কে জানিয়েছিলেন যে, মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি নতুন পাইপলাইন নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা হরমুজ প্রণালিকে এড়িয়ে সরাসরি ফুজাইরাহ বন্দরের মাধ্যমে তেল রফতানি করতে সক্ষম হবে।

তবে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা এই প্রণালির ওপর স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার দেশটির সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি হরমুজ প্রণালিকে ইরানের একটি ‘স্থায়ী সম্পদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আলোচনা কোন পথে

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চললেও যুদ্ধের মূল বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কোনও চুক্তি বা সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যে, ইরান বর্তমানে আমেরিকার দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে দেখছে।

এদিকে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে আলোচনার ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে। তবে ট্রাম্প বারবার এই হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন যে, তেহরান যদি চুক্তিতে না আসে তবে তিনি আবারও যুদ্ধে ফিরে যাবেন।

সূত্র: আল-মনিটর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়