আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, নাৎসিবাদের অভিজ্ঞতা থেকে ইউরোপের শিক্ষা নেওয়া উচিত এবং ইসরায়েলের আইন লঙ্ঘন ও অপরাধযজ্ঞের বিষয়ে নিষ্ক্রিয়তা বন্ধ করা উচিত।
ফিলিস্তিনি জনগণের সমর্থক কর্মীদের (গাজা এইড ক্যারাভান) ওপর ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের নৃশংস আচরণের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি এক্স নেটওয়ার্কে একটি বার্তায় লিখেছেন, আশদোদ বন্দরে ইসরায়েলের চরমপন্থী মন্ত্রী মানবিক কনভয়ের হাতকড়া পরা কর্মীদের (যাদের মধ্যে অনেকেই ইউরোপীয় নাগরিক) ব্যক্তিগতভাবে অপমান করে যা অত্যন্ত মর্মান্তিক।
তিনি আরও বলেন, এই দৃশ্যগুলো তিক্ত ঐতিহাসিক স্মৃতি ফিরিয়ে আনে; যখন নাৎসি শাসন, তার অপরাধ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণ দায়মুক্তি পাওয়ার পর, নিজেকে ব্যতিক্রমী, যেকোনো জবাবদিহিতা থেকে মুক্ত এবং আইনের ঊর্ধ্বে বলে মনে করত।
বাকায়ি আরও বলেন, ১৯৩০-এর দশকে ইউরোপ এই ভ্রান্ত ধারণায় মগ্ন ছিল যে, মানব মর্যাদার পরিকল্পিত অবমাননা, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবিরাম অবজ্ঞা এবং নৈতিক নীতির লঙ্ঘনের মুখে তারা নীরব থাকতে পারবে এবং এর ফলে কোনো মূল্য পরিশোধ না করেই এর পরিণতি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে।
তিনি বলেন, আজ আসল বিপদ হচ্ছে ইসরায়েলের একজন পদস্থ কর্মকর্তার এমন আচরণ উদ্বেগজনক। এই নীরব সহযোগিতার পেছনের গভীরতর সমস্যাটি হলো দখলদারিত্ব, বর্ণবৈষম্য এবং গণহত্যার মুখে প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ক্রিয়তা ও সেসবের স্বীকৃতি; এই নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তাই ইসরায়েলের অপরাধমূলক নীতি ও আচরণকে স্বাভাবিক করে তুলেছে, অব্যাহত রেখেছে এবং আরও তীব্র করেছে।" বাকায়ি বলেন, "পশ্চিমা বিশ্ব যদি তাদের ঘোষিত মূল্যবোধ ও বাস্তব আচরণের মধ্যেকার ব্যবধান আরও বাড়িয়ে চলে, তবে তাদের ইতিহাসের নির্মম শিক্ষার পুনরাবৃত্তি দেখার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।