শিরোনাম
◈ সীমান্তে ভারতীয় ড্রোন পড়ে আতঙ্ক, বিজিবির হেফাজতে উদ্ধার করা হয়েছে ◈ টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে আটে বাংলাদেশ ◈ চীনের নেতৃত্বাধীন বাণিজ্যিক জোট আরসেপে যোগ দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ ◈ সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৩৮ অডিট রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর ◈ দেশের ইতিহাসে এত চমৎকার নির্বাচন আগে কখনো হয়নি: সেনাপ্রধান ◈ এক বছরের মধ্যেই সব ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ◈ শাপলা চত্বর মামলা: ৫৮ জন নিহত, প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ◈ হরমুজে আটকে থাকা জাহাজের সংখ্যা প্রায় ২০০০! ◈ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া: বাণিজ্যমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ ‘দেশের স্বার্থে সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে সেনাবাহিনী’

প্রকাশিত : ০৫ মে, ২০২৬, ০৭:০১ বিকাল
আপডেট : ০৫ মে, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গৃহকর্মী থেকে বিধায়ক: পশ্চিমবঙ্গে কলিতা মাঝির সংগ্রাম ও ঐতিহাসিক জয়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন সদ্যই শেষ হয়েছে। নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। আর এই নির্বাচনে জিতেই বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন গৃহকর্মীর কাজ করে সংসার চালানো নারী কলিতা মাঝি। মাসে ২৫০০ রুপি আয় করা এই নারীর জয় শুধু রাজনৈতিক সাফল্য নয়, বরং সামাজিক বাস্তবতা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার এক বিরল গল্প হিসেবেও আলোচনায় এসেছে।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও এনডিটিভি বলছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিগত সাফল্যগুলোর একটি এসেছে কলিতা মাঝির কাছ থেকে। মাসে মাত্র ২ হাজার ৫০০ রুপি আয় করা এক গৃহকর্মী থেকে তিনি এখন আউসগ্রাম আসনের বিধায়ক (এমএলএ) নির্বাচিত হয়েছেন। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৭ হাজার ৬৯২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শ্যাম প্রসন্ন লোহারকে তিনি ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটে পরাজিত করেন।

গুসকরা পৌরসভার বাসিন্দা কলিতা মাঝি রাজনীতিতে আসার আগে চারটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তার প্রার্থিতা প্রথম থেকেই সবার নজর কেড়েছিল। এবার তার জয়কে নির্বাচনী রাজনীতির মাধ্যমে আর্থসামাজিক অগ্রগতির এক বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তৃণমূল কংগ্রেসের অভেদানন্দ থান্ডারের কাছে ১১ হাজার ৮১৫ ভোটে হেরে যান। এরপরও বিজেপি তাকে পুনরায় মনোনয়ন দেয়। মূলত তার স্থানীয় জনপ্রিয়তার ওপর দলের আস্থার প্রতিফলনেই তিনি ফের মনোনয়ন পান, আর এবার সেই আস্থা ভোটে পরিণত হয়েছে।

কলিতা মাঝির এই জয় শুধু নির্বাচনী ফল নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গল্প। আর্থিক সংকটের কারণে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা চালিয়ে যেতে পারেননি। পরিবারের খরচ চালাতে তাকে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করতে হয়েছে। তার স্বামী একজন প্লাম্বার হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের ছেলে পার্থ বর্তমানে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

গত এক দশক ধরে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বুথ-স্তরের কর্মী হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ২০২১ সালে তিনি প্রায় ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। ২০২৬ সালে দ্বিতীয়বার সুযোগ পেয়ে তিনি জয় ছিনিয়ে আনেন। তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা থাকলেও হলফনামা অনুযায়ী সেগুলো গুরুতর নয়।

কলিতা মাঝির মোট সম্পদের পরিমাণ ১ লাখ ৬১ হাজার ২১৬ রুপি, যার মধ্যে রয়েছে ব্যাংকে জমা টাকা, হাতে থাকা নগদ অর্থ এবং এলআইসি পলিসি। তার স্বামীর নামে জেলায় ৮৭১ বর্গফুটের একটি আবাসিক সম্পত্তি রয়েছে। এটি তিনি তার বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন এবং এর মূল্য প্রায় ৩ লাখ রুপি।

পূর্ব বর্ধমান জেলার আউসগ্রাম আসনে তার এই জয়কে অনেকেই দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের তুলে আনার কৌশলের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তার জয়ের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষ তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, অতীত পটভূমি যা-ই হোক না কেন, প্রতিভা ও পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করে বিজেপি।

অবশ্য দলের ভেতরেও কলিতার প্রার্থিতা নিয়ে আগ্রহ ছিল। স্থানীয় কর্মীরা তাকে এমন একজন মুখ হিসেবে দেখেছেন, যিনি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ভালোভাবে বোঝেন। কলিতা মাঝির বাড়ি মঙ্গলকোটের কাশেমনগরে। সাত বোন ও এক ভাইয়ের বড় পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। তার প্রয়াত বাবা ছিলেন দিনমজুর, ফলে ছোটবেলা থেকেই অর্থনৈতিক কষ্টের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন তিনি।

এই পরিস্থিতি থেকে উঠে এসে বিধানসভায় পৌঁছানো তার যাত্রা রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিনিধিত্বের এক বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রার্থী বাছাইয়ের কৌশলেও এ ধরনের আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের গুরুত্ব দেয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এদিকে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ২০৬টি আসন জিতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। এই ফল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো রাজ্যে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ফলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে’। তিনি এই জয়ের পেছনে দলের সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কৌশলকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়