শিরোনাম
◈ যে কারণে বাংলাদেশ থেকে পোলট্রি ও ডিম নিচ্ছে না সৌদি আরব! ◈ সরকারি দামে মিলছে না সার, দিশাহারা কৃষক! ◈ ড. ইউনূসের প্রতি প্রশ্ন, মব ভায়োলেন্সের দায় তিনি নেবেন না কেন? ◈ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন, ৩ শতাধিক মার্কিন সামরিক বিমান মোতায়েন ◈ ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না যে ৬ শ্রেণির মানুষ ◈ যেভাবে ঘরে বসে দেখবেন জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল ◈ সরলথের হ্যাটট্রিকে চ্যাম্পিয়ন্স লি‌গের‌ শেষ ষোলোয় আতলেতিকো মা‌দ্রিদ ◈ পিলখানায় শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি ◈ বেঙ্গালুরু থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে ১৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ ◈ দুর্নীতির অভিযোগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই উপাচার্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:৫২ সকাল
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০১:১৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফের কক্ষপথে চীনের স্পেসপ্লেন, গোপন অভিযানে বিশ্ব নজর

মহাকাশ গবেষণার আড়ালে চীন কি গোপন কোনো সামরিক সক্ষমতা যাচাই করছে? বেইজিংয়ের রহস্যময় এবং উচ্চাভিলাষী মহাকাশ অভিযান নিয়ে ফের বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। সম্প্রতি চীনের পুনরব্যবহারযোগ্য রোবোটিক মহাকাশযান ‘শেনলং’ (Shenlong)—যার অর্থ ‘ঐশ্বরিক ড্রাগন’—চতুর্থবারের মতো কক্ষপথে যাত্রা করেছে। এই মিশনের গোপনীয়তা এবং মহাকাশযানের বিশেষ কার্যক্রম নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা।

গোপন অভিযানের বিস্তারিত ৬ ফেব্রুয়ারি গোবি মরুভূমির জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে একটি রকেটের সাহায্যে শেনলং উৎক্ষেপণ করা হয়। চীনা কর্তৃপক্ষ এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এর ভেতরে কী ধরনের সরঞ্জাম (payload) রয়েছে বা এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য কী, সে সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি। বেইজিংয়ের দাবি, এটি মহাকাশের ‘শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের’ জন্য কম খরচে যাতায়াতের একটি পরীক্ষামূলক মাধ্যম মাত্র।

কেন এই উদ্বেগ? শেনলংয়ের এই চতুর্থ অভিযানটি আগের তুলনায় অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আমেরিকান স্পেস ফোর্স এবং স্বাধীন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, আগের তিনটি অভিযানে এই স্পেস প্লেনটি মহাকাশে বেশ কিছু ছোট বস্তু অবমুক্ত করেছে। এর মধ্যে কিছু বস্তু সংকেত পাঠাতে সক্ষম ছিল, আবার কোনো কোনোটি নিজস্ব চালিকাশক্তি ব্যবহার করে গতিপথ পরিবর্তন করতে পেরেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ‘রেন্দেভ্যু অ্যান্ড প্রক্সিমিটি অপারেশনস’ (RPO)। দেখা গেছে, শেনলং কক্ষপথে থাকা অন্যান্য কৃত্রিম উপগ্রহের খুব কাছাকাছি যেতে এবং সেগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপনে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একদিকে যেমন নিজের দেশের স্যাটেলাইট মেরামত বা রিফুয়েলিং করা সম্ভব, তেমনি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অন্য দেশের স্যাটেলাইট অকেজো বা ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতাও রাখে এই ‘ড্রাগন’।

যুক্তরাষ্ট্রের এক্স-৩৭বি বনাম চীনের শেনলং মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, চীনের এই স্পেস প্লেনটি অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের গোপন মহাকাশযান ‘এক্স-৩৭বি’ (X-37B)-এর সমগোত্রীয়। দুটি যানই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মহাকাশে পাড়ি দিতে পারে এবং কাজ শেষে রানওয়েতে ল্যান্ড করতে পারে। তবে চীনের অভিযানের অস্বচ্ছতা এবং রেন্দেভ্যু অপারেশনের প্রবণতা একে আরও বেশি রহস্যময় করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শেনলং চতুর্থ অভিযানে মূলত নিচের বিষয়গুলো পরীক্ষা করছে: ১. মহাকাশে দীর্ঘ সময় টিকে থাকার সক্ষমতা। ২. স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন এবং স্যাটেলাইট মোতায়েন। ৩. পুনরায় ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযানের স্থায়িত্ব। ৪. উন্নত মানের আরপিও (RPO) কৌশল।

চীনের এই রহস্যময় নীরবতা বিশ্বজুড়ে মহাকাশ প্রতিযোগিতাকে আরও উসকে দিচ্ছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো মহাকাশে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে সচেষ্ট, সেখানে চীনের এই ‘গোপন ড্রাগন’ ভবিষ্যতে মহাকাশ যুদ্ধের নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত শেনলং পৃথিবীর চারদিকে নিঃশব্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যার প্রকৃত লক্ষ্য একমাত্র বেইজিংয়ের নীতিনির্ধারকদেরই জানা। 

সূত্র: ইনকিলাব

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়