শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নতুন নির্দেশ: খেলাপি ঋণ ও ঝুঁকি শনাক্তে তদারকি জোরদার ◈ দুই যুদ্ধ এক সুতোয়: ইউক্রেন-ইরান সংঘাতে বাড়ছে বৈশ্বিক ঝুঁকি—গার্ডিয়ান ◈ চাই‌নিজ তাই‌পে‌কে হা‌রি‌য়ে এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্ব শুরু কর‌লো বাংলাদেশ ◈ সরকারি-বেসরকারি অফিস চলবে অফিস ৯টা–৪টা, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ দোকানপাট- শপিংমল: মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ◈ মার্চ মাসে রপ্তানি ঘাটতি ২০ শতাংশ ◈ ফুটপাত হকারমুক্ত করতে ঢাকায় ৮ নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনা ডিএসসিসির ◈ বিসিবি থে‌কে আরও এক পরিচালক পদত্যাগ করলেন ◈ হরমুজ সংকটে তেল-গ্যাস বাজার অস্থির, বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে: জাতিসংঘ ◈ মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা—কঠিন বাস্তবতায় আসছে নতুন বাজেট ◈ বিকল্প রুটে জ্বালানি আমদানি, সৌদি আরব থেকে আসছে ১ লাখ টন তেল

প্রকাশিত : ০৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৪৩ সকাল
আপডেট : ২৯ মার্চ, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৩ বছরে ২ লাখ মানুষ ইসরায়েল থেকে পালিয়ে গেছে: লাপিদ

পার্সটুডে- ইহুদিবাদী ইসরায়েলের বিরোধী দলের নেতা ইয়াইর লাপিদ সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে হতাশা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শত শত নয়, বরং লাখ লাখ ইহুদি বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েল ত্যাগ করেছে।

তিনি আরও বলেছেন, গত তিন বছরে হতাশা বৃদ্ধি ও জীবনমান কমে যাওয়ার কারণে প্রায় ২ লাখ জায়নবাদী বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েল থেকে ভূখণ্ড ছেড়ে গেছে। এটাকে তিনি অভূতপূর্ব বলে বর্ণনা করেন।

পার্সটুডে'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি আরও বলেন- ইসরায়েলের বর্তমান জীবনযাত্রার অবস্থা তিন বছর আগের তুলনায় এমনকি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগের সময়ের তুলনায়ও অনেক খারাপ হয়েছে। ইহুদিবাদীরা বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখোমুখি।

লাপিদ ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার সমালোচনা করে বলেন, নেতানিয়াহুর নীতির ফলে একটি পুরো প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তিনি জানান- অপ্রয়োজনীয় খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাজেট ব্যয় করা হচ্ছে, অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সংকট সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত রয়েছে।

এর আগে জায়নবাদী ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দপ্তর জানিয়েছিল- গাজা যুদ্ধের পর অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে মেধাপাচার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে এবং দেশ ছেড়ে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিত ব্যক্তির সংখ্যা নতুন আসা ব্যক্তিদের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিকে বৈজ্ঞানিক ও গবেষণামূলক ভবিষ্যতের জন্য একটি কৌশলগত হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এছাড়া যুদ্ধের কারণে অধিকৃত ফিলিস্তিনের প্রযুক্তি খাতের কর্মীদের দেশত্যাগও ক্রমেই বাড়ছে। একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক বছরে বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত ইসরায়েলি কর্মীদের মধ্যে বিদেশে বদলি ও চাকরির জন্য আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইহুদিবাদী ইসরায়েলের দুটি জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে অর্ধেকেরও বেশি ইহুদিবাদী বিশ্বাস করে যে ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা তাদের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে এবং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের উপর জনসাধারণের আস্থা অনেক কমে গেছে।

২০২৫ সালের শেষের দিকে, ইসরায়েলি দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, "ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট" এবং "ইসরায়েল সেন্টার ফর ইন্টারনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ" (INSS), জরিপ পরিচালনা করে যার ফলাফল ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইচ্ছা এবং নীতির বিপরীত ছিল। পার্সটুডে জানিয়েছে, এই জরিপ অনুসারে, অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত হুমকি দূর করার জন্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং মন্ত্রিসভার প্রচুর ব্যয় সত্ত্বেও, অধিকৃত অঞ্চলের  বাসিন্দাদের মধ্যে "নিরাপত্তার অনুভূতি"র মাত্রা ৩০ শতাংশেরও কমে নেমে এসেছে।

"ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট" তার ফলাফলে জানিয়েছে, মাত্র ৪৬ শতাংশ ইসরায়েলি বিশ্বাস করে যে এই শাসনব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে; যদিও ২০২০ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০%। এই মনোভাব  নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বসতি স্থাপনকারীদের দৈনন্দিন জীবনের বিরুদ্ধে অব্যাহত হুমকিরই প্রমাণ; হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধের আশঙ্কা এবং হামাসের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার থেকে শুরু করে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের প্রতিক্রিয়া এবং অধিকৃত অঞ্চলের অভ্যন্তরে প্রতিরোধ অভিযান জোরদার হওয়ায় ইসরায়েলিদের মনে ভয় ধরে গেছে।

এছাড়াও, জরিপের ফলাফলে দেখা যায় যে ইসরায়েলে বর্ণবাদের মাত্রা অনেক বেশি। ৪৫% ইহুদি আরবদের সমাজে একসাথে থাকার বিরোধিতা করে এবং ৫৩% অধিকৃত অঞ্চল থেকে আরব অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে চায়। ইসরায়েলের মন্ত্রিসভায় আরবদের অংশগ্রহণের প্রতি সমর্থনও ২০২৩ সালে ৩৭% থেকে কমে ২০২৫ সালে ২৭% হয়েছে।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো আরও জানিয়েছে যে গত বছরের প্রথম ৯ মাসে অভিবাসন ভারসাম্য নেতিবাচক ছিল; প্রায় ১৭,৫০০ লোকের আগমনের বিপরীতে, প্রায় ৪৮,০০০ লোক ইসরায়েল ত্যাগ করেছে, যাদের বেশিরভাগই পেশাদার এবং তরুণ শ্রেণীর।

এই জরিপগুলিতে ইসরায়েলি শাসন কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ পেয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানের উপর আস্থা ২০২২ সালে ৬২% থেকে কমে ৩৯% হয়েছে। মন্ত্রিসভায় আস্থার মাত্রা মাত্র ২২%, নেসেটে ১৭% এবং দলগুলিতে ১০% বলে জানা গেছে।

ইসরায়েল সেন্টার ফর ইন্টারনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের এক জরিপে আরও দেখা গেছে যে মাত্র ২৭.৫ শতাংশ বসতি স্থাপনকারী বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ভালো বা খুব ভালো বলে মনে করেন। এর তুলনায় ইহুদিদের মধ্যে ৩১ শতাংশ এবং আরবদের মধ্যে মাত্র ১৫ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে, ইসরায়েলের বাসিন্দারা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্ক। ২১ শতাংশ আশা করেন যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে, ২৮ শতাংশ কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেননি এবং ১৫ শতাংশ কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়